• নবীজির পবিত্র বংশধারা

    রসূলে কারীম ছাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র
    বংশধারা নিম্নরূপঃ
    হযরত মুহাম্মাদ।
    (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
    ইবনু আব্দিল্লাহ,
    ইবনু আব্দিল মুত্তালিব,
    ইবনু হাশিম,
    ইবনু আব্দিমানাফ,
    ইবনু কুছাই,
    ইবনু কিলাব,
    ইবনু মুররাহ,
    ইবনু কাআ’ব,
    ইবনু লুওয়াই,
    ইবনু গালিব,
    ইবনু ফেহের (কুরাইশ),
    ইবনু মালিক,
    ইবনু নযর,
    ইবনু কিনানা,
    ইবনু খুযাইমাহ,
    ইবনু মুদরিকাহ,
    ইবনু ইলিয়াস,
    ইবনু মুদ্বার,
    ইবনু নাযার,
    ইবনু মাআ’দ,
    ইবনু আদনান,
    ইবনু আদু,
    ইবনু মাইসা’,
    ইবনু সালামান,
    ইবনু এওয়ায,
    ইবনু বূয,
    ইবনু ক্বামওয়াল,
    ইবনু উবাই,
    ইবনু আওয়াম,
    ইবনু নাশিদ,
    ইবনু হাযা,
    ইবনু বিলদাস,
    ইবনু ইয়াদলাফ,
    ইবনু ত্বাবিখ,
    ইবনু জাহিম,
    ইবনু নাহিশ,
    ইবনু মাখী,
    ইবনু আইফী,
    ইবনু আবকার,
    ইবনু উবাইদ,
    ইবনু আলদুআ’,
    ইবনু হামদান,
    ইবনু সাবজ,
    ইবনু ইয়াসরাবী,
    ইবনু ইয়াহযান,
    ইবনু ইয়ালহান,
    ইবনু আরআওয়া,
    ইবনু আইফা,
    ইবনু যীশান,
    ইবনু আইসার,
    ইবনু আকনাদ,
    ইবনু ইহাম,
    ইবনু মুকছির,
    ইবনু নাহিছ,
    ইবনু যরাহ,
    ইবনু সুমাই,
    ইবনু মযযী,
    ইবনু ইওয়ায,
    ইবনু আরাম,
    ইবনু কায়দার,
    ইবনু ইসমাঈল,আঃ,
    ইবনু ইবরাহীম,আঃ,
    ইবনু তারা (আযর),
    ইবনু নাহুর,
    ইবনু সারুজ,
    ইবনু রাঊ,
    ইবনু ফাইজ,
    ইবনু আবির,
    ইবনু আরফাকশাদ,
    ইবনু সাম,
    ইবনু নূহ আঃ,
    ইবনু লামক,
    ইবনু নাতুশাইহ,
    ইবনু আখনূ’,
    ইবনু ইদ্রিস,আঃ,
    ইবনু ইয়ারিদ,
    ইবনু মালহালঈল,
    ইবনু কায়নান,
    ইবনু আনূশ,
    ইবনু শীস আঃ,
    ইবনু হযরত আদম
    আলাইহিসসালাম। –
    ♦সূত্র –
    নূরুল কোরআন ১খঃ
    সিরাতে শাহে মাদীনা ১খঃ
    সিরাতে ইবনে হিশাম ১৬ পৃঃ
    সিরাতে মুস্তফা ১খঃ
    (রাহমাতুল্লিল আলামীন,
    দ্বিতীয় খন্ড, পৃঃ ২৫-৩১,
    হযরত আদম (আঃ)
    থেকে শুরু করে
    রসূলকারীম
    ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লাম এর
    মাতা পিতা পর্যন্ত
    নারী পুরুষের যতগুলি
    স্তর রয়েছে
    প্রত্যেক স্তরের
    প্রতিটি নারী ও পুরুষ
    সৎ ও পবিত্র ছিলেন।
    কেউ কখনো ব্যবিচারে লিপ্ত হন নি। রসূল কারীম
    ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
    বলেছেনঃ
    “আমি বিবাহের মাধ্যমে
    জন্ম গ্রহন করেছি,
    ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়।
    হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আমার পিতা মাতা পর্যন্ত
    কোন নারী পুরুষ
    ব্যভিচারে লিপ্ত হননি।
    আর জাহেলী যুগের
    ব্যভিচার আমাকে স্পর্শ করেনি।”
    ♦সূত্র –
    (ইরওয়াউল গালীলঃ ১৯৭২,
    সহীহুল জামিউস্
    সাগীরঃ ৩২২৫।
    ——————————-
    মাওলানা তাহমীদ শামী
    পরিচালক,
    সান্ত্বনা শিল্পীগোষ্ঠী বাংলাদেশ।

  • সালাম বিষয়ে কিছু কথা♦

    আসসালামু আলাইকুম!
    কেমন আছো বন্দ্বুরা??
    মুসলিম শরীফে বর্নিত আছে,
    হযরত নাবী কারীম সাল্লাল্লাহ
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ
    তোমরা নিজেদের মধ্যে
    সালামের বিস্তার ঘটাও!
    বেশী বেশী সালাম দিলেই
    সালামের বিস্তার ঘটবে।
    এক মুসলমান আর এক
    মুসলমানের সাথে দেখা-সাহ্মাত
    হলে সালাম দেয়ার যে নিয়ম
    রাখা হয়েছে,
    এ নিয়ম যে কত সুন্দর নিয়ম
    তা ব্যাখ্যা করে শেষ করা যায় না।
    সালামের মধ্যে শান্তির দোয়া করা হয়।
    “আসসালামু আলাইকুম”
    এর অর্থ হল আপনাদের শান্তি হোক। আল্লাহ আপনাদের শান্তি দান করুন,
    রহমত দান করুন।
    সালামের মাধ্যমে শান্তির দোয়া করা হয়, এর চেয়ে ভালো দোয়া
    আর কি হতে পারে??
    ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মে
    পারস্পারিক অভিবাদনের জন্য
    এত সুন্দর বাক্য আর নেই।
    যেমন কেউ কেউ বলে
    গুড মর্নিং বা গুড ইভিনিং
    অথবা গুড নাইট।
    যার বাংলা হল শুভ সকাল বা
    শুভ সন্দ্ব্যা অথবা শুভ রাত।
    এ কথাগুলোর অর্থ অস্পষ্ট।
    সকাল সুন্দর বা বিকাল সুন্দর
    অথবা রাত সুন্দর
    এ কথাগুলোর কি অর্থ??
    এর অর্থ কি এই যে,
    আজকের সকালটা খুব ফ্রেশ!
    আকাশটা খুব ফ্রেশ!
    বৃষ্টি-বাদল নেই!
    মেঘ নেই ইত্যাদি।
    যদি এই অর্থ হয়,
    তাহলে দেখা-সাহ্মাতের সময়
    এ শব্দগুলো বললে
    কার কি লাভ হবে???
    আর যদি উদ্দিশ্য হয় যে,
    আপনার সকালটা সুন্দর হোক,
    তাহলে বিকালটার কি দোষ?
    আর যদি বলা হয়,
    বিকালটা সুন্দর হোক,
    তাহলে সকালটার কি দোষ??
    আর যদি বলি সকাল-বিকাল
    সুন্দর হোক,
    এই সুন্দর কথাটাওতো অস্পষ্ট।
    কিন্তু সালামের অর্থ হল-
    আপনাদের শান্তি হোক।
    আর শান্তির চেয়ে বড় কিছু কাম্য নেই।
    কারন, আমরা সকলেই শান্তির মুহতায!
    জীবনের সকল হ্মেত্রেই শান্তি চাই!
    দুনিয়াতেও শান্তি চাই!!
    আখিরাতেও শান্তি চাই!!!
    আর সালামের মধ্যে
    এই শান্তির জন্যই দোয়া করা হয়।
    সুতরাং আসুন আমরা সকলে
    সালামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটাই।
    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে অনৈসলামীক তরিকা বর্জন করে,
    ইসলামী তরিকা অনুযায়ী
    জীবন-যাপন করার
    তাওফিক দান করুন -আমিন!
    সুম্মা আমিন!!
    ইয়া রাব্বাল আলামিন!!!

  • ঐতিহাসিক বদর দিবস

    আমাদের সবারই জানা আছে , রমজান ঐতিহাসিক বদরদিবস । এই দিনে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে বদরপ্রান্তে ইসলাম ও বাতিলেরমাঝে প্রথম যুদ্ধ সংঘটিতহয়েছিল । সত্য ও মিথ্যার এলড়াইয়ে মহান আল্লাহ্তায়ালা রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁরপ্রতিশ্রুত সাহায্যমুসলিমদেরজন্য পাঠিয়েছিলেন এবং সত্য জয় লাভ করেছিল ।মুশরিকদেরপ্রায় ১০০০ জন সৈন্যেরবিপরীতে ৩১৩/এর চেয়ে কিছুবেশি মুসলিম অত্যন্ত সামান্যপরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে অসমএই লড়াইয়ে সময়ের দাবী পূরণেঝাপিয়ে পড়েছিল ।যুদ্ধ শুরুর আগের দিনরাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিক কুরাইশদের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যাপারেসাহাবীদের মতামত জানতেচাইলেন । মুহাজিরদের মধ্যহতে বিশিষ্ট কয়েক জনসাহাবীতাদের মত প্রকাশ করার পর হযরত মিকদাদ ইব্নআমর (রা)বললেন-“হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ্তায়ালা আপনাকে যে পথদেখিয়েছেন তার ওপর আপনিঅবিচল থাকুন । আমরা আপনার সঙ্গে রয়েছি ।.আল্লাহ্তায়ালার শপথ, বনী ইসরাঈলহযরতমূসা আলাইহিস সালাম-কে যেধরনের কথা বলেছিল, আমরাআপনাকে ওরকম কথা বলব না । বনী ইসরাইলরাহযরতমূসাআলাইহিস সালাম-কে বলেছিল,‘…..হে মূসা, সেই (শক্তিশালী)লোকেরা যতোক্ষণসেখানে থাকবে, ততোক্ষণআমরা কোনো অবস্থায়ই সেখানে প্রবেশকরবো না,তুমিই(বরং) যাও, তুমি ও তোমারমালিক উভয়ে মিলে যুদ্ধ করো,আমরা এখানেই বসে রইলাম ।(সূরা মায়েদা-২৪)’ আমরা বলবো যে, আপনি এবংআপনার প্রতিপালক লড়াই করুন,আমরাও আপনার সাথে লড়বো ।সেই মহান সত্তার শপথ যিনিআপনাকে সত্যসহ প্রেরণকরেছেন আপনি যদি আমাদেরবারকুল গামাদ পর্যন্তও নিয়েযানতবু আমরা সারা পথ লড়াইকরতে করতে আপনার সাথেসেখানে পৌঁছুবো ।” আনসারদের পক্ষ হতেআনসারদেরঅধিনায়ক সা’দ ইব্ন মা’য(রা) বললেন- “—– । সেইআল্লাহ্ তায়ালার শপথ যিনিআপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন,আপনি যদি আমাদেরসঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়েপড়তে চান তবে আমরাওঝাঁপিয়ে পড়বো । আমাদেরএকজন লোকও পিছনে পড়েথাকবে না । আগামীকাল আপনিআমাদের সঙ্গে নিয়েশত্রুর মোকাবেলা করলেওআমাদের কোন আপত্তি নেই ।আমাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদন্দ্ব নেই ।যুদ্ধক্ষেত্রেআমরা রণনিপুণ । এমনও হতেপারেযে, আল্লাহ্ পাক আমাদেরমাধ্যমে এমন বীরত্বের প্রকাশঘটাবেন যা দেখে আপনারচক্ষু শীতল হয়ে যাবে । আপনিআমাদের সঙ্গে নিয়ে চলুন ।আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরযাত্রা পথে বরকত দিন ।” সেদিন যেমন সাহাবীরাতাদেরলোকবল ও যুদ্ধাস্ত্রেরস্বল্পতা সত্ত্বেও সময়েরদাবীঅনুযায়ী মুশরিকদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়েদেননিতেমনি বর্তমানেও যারাইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকরছে,ইসলামের অগ্রযাত্রকেথামিয়ে দিতে চায়, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে মুছেফেলতেচায় তাদের বিরুদ্ধে আজ রুখেদাঁড়াবার সময় এসেছে ।মুসলিম মাত্রই আজ সময়েরদাবীহচ্ছে- যেখানেই তারা ইসলামের বিরুদ্ধেষড়যন্ত্রকরছেসেখানেই তাদেরকেমোকাবেলা করা, তাদেরবিরুদ্ধেসোচ্চার হওয়া, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা, বিনাচ্যালেঞ্জে তাদেরকে ছেড়েনা দেয়া । বদর প্রান্তেসাহাবীরা যেমন তাদেরলোকবলও যুদ্ধাস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে ভীত বা চিন্তিতছিলেননা,তেমনি আজও আমাদের কোনকিছুর স্বল্পতা নিয়ে ভীত বাচিন্তিত হওয়া ঠিক হবে না ।মুসলিম হিসেবে সময়ের দাবীপূরণের তাওফীক আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের দান করুন-বদরদিবসে এই হোক আমাদেরপ্রার্থনা

  • পুরুষদের জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো নারী

    আল্লাহ তা‘আলা নারী ও পুরুষের মাঝে
    সুরক্ষার দেয়াল রচনার জন্য পর্দার বিধান
    প্রদান করেছেন। তিনি পরপুরুষ থেকে নারীদের
    পর্দা করা ফরজ করেছেন।
    পর্দার বিধান নারী ও পুরুষ উভয়ের কল্যাণের
    জন্যই প্রদান করা হয়েছে। যদি পর্দার বিধান
    না থাকতো, তাহলে নারী ও পুরুষের অবাধ
    মেলা-মেশার কারণে সমাজে অসংখ্য অঘটন
    ঘটত। যেমনটি বর্তমানে যে দেশ বা সমাজে
    পর্দা নেই সে সমাজের অবস্থার দিকে
    তাকালে আমরা দেখতে পাই। সেখানে
    প্রতিনিয়তই জঘন্য ঘটনা ঘটে এবং নারীরা
    জুলুম-নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
    তাই নারী ও পুরুষের অবাধ মেলা-মেশার
    ব্যাপারে সতর্ক করে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ
    করেন–“আমি আমার পর এমন কোন ফিতনা
    রেখে যাইনি যা পুরুষের জন্য অধিক ক্ষতিকর
    নারীর ফেতনার চেয়ে।”
    সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৯৬/
    সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ২৭৪০
    সুতরাং সমাজে পর্দার বিধান প্রতিষ্ঠা করে
    এ ফিতনাকে নির্মূল করতে হবে। নারীদের জন্য
    মাহরাম অর্থাৎ যাদের সাথে চিরতরে বিবাহ
    অবৈধ তারা ব্যতীত বেগানা অর্থাৎ যাদের
    সাথে বিবাহ হারাম নয়–এমন লোকদের সাথে
    পূর্ণরূপে পর্দা করতে হয়।
    পর্দা সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরাহ
    আহযাবের ৫৯ আয়াতে ইরশাদ করেছেন : “হে
    নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও
    ঈমানদার মহিলাগণকে বলে দিন, তারা যেন
    উপর দিক থেকে (নিজেদের মুখমন্ডল ও
    বক্ষদেশের উপর) নিজেদের চাদরের আচঁল
    ঝুলিয়ে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে।
    ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবেনা। আল্লাহ
    ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”
    সুরাহ আযহাব, ৫৯ নং আয়াত ৷
    মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন–
    “মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের
    দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর
    হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা
    আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা
    অবহিত আছেন। আর ঈমানদার নারীদেরকে
    বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং
    তাদের যৌন অঙ্গের হেফাজত করে। তারা
    যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান (যেমন,
    পরিধেয় হিজাবের বহিরাংশ) তা ছাড়া
    তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা
    যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে রাখে
    এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর,
    পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র,
    ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী,
    যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক–যারা
    নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের
    ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ
    না করে (পর্দা করে)। আর তারা যেন তাদের
    গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে
    পদচারণা না করে।”
    সূরাহ নূর,৩০-৩১ নং আয়াত ৷

  • মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্ব

    আশরাফুল মাখলূক্বাত’ বা সেরা সৃষ্টি
    হিসাবে আল্লাহ তায়ালা আদম ও বনু আদমকে সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻲْ ﺁﺩَﻡَ
    ﻭَﺣَﻤَﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟْﺒَﺤْﺮِ ﻭَﺭَﺯَﻗْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻭَﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰﻛَﺜِﻴﺮٍ ﻣِّﻤَّﻦْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺗَﻔْﻀِﻴْﻼً- ( ﺍﻹﺳﺮﺍﺀ
    ৭০)-‘
    ,
    আমরা বনু আদমকে উচ্চ সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থল ও জলপথে বহন করে নিয়েছি, তাদেরকে পবিত্র
    বস্ত্ত সমূহ হ’তে খাদ্য দান করেছি এবং
    আমাদের বহু সৃষ্টির উপরে তাদেরকে উচ্চ
    মর্যাদা প্রদান করেছি’ (ইসরা ১৭/৭০)।এখানে
    প্রথমে ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে
    এমন কিছু বিষয়ে একচ্ছত্র সম্মান দানের কথা
    বলা হয়েছে, যা অন্য কোন সৃষ্টিকে দেওয়া
    হয়নি। যেমন জ্ঞান-বিবেক, চিন্তাশক্তি,
    ভাল-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যবোধ,
    স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা
    ইত্যাদি। অতঃপর ﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে
    অন্যের তুলনায় মানুষকে উচ্চ মর্যাদা দানের
    কথা বলা হয়েছে। যেমন মানুষের উন্নত হ’তে
    উন্নততর জীবন যাপন প্রণালী, গৃহ নির্মাণ
    পদ্ধতি, খাদ্য গ্রহণ, পোষাক-পরিচ্ছদ
    ইত্যাদিতে উন্নততর রুচিশীলতা, আইনানুগ ও
    সমাজবদ্ধ জীবনযাপন প্রভৃতি বিষয়গুলি
    অন্যান্য প্রাণী হ’তে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত এবং
    নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর। তাতে প্রতিনিয়ত
    পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিবর্তন ও উন্নয়ন অব্যাহত
    রয়েছে। অথচ বাবুই পাখির নীড় রচনা কিংবা
    বনে-জঙ্গলে বাঘ-শৃগালের বসবাস পদ্ধতি লক্ষ
    বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। না তাতে
    অতীতে কোন পরিবর্তন এসেছে, না ভবিষ্যতে
    কোন পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।মানুষ
    জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উন্নত হ’তে উন্নততর
    পরিবহনে চলাফেরা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।
    তারা পৃথিবীর সর্বোত্তম খাদ্যসমূহ গ্রহণ
    করছে, উন্নত পাক-প্রণালীর মাধ্যমে সুস্বাদু
    খাবার গ্রহণ ও সর্বোত্তম পানীয় পান করছে,
    যা অন্য প্রাণীর পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।মানব
    মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিষয় হচ্ছে তাকে
    কথা বলার শক্তি দান করা, যা অন্য কোন
    সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি। তাকে দেওয়া হয়েছে
    ভাষা ও রঙের বৈচিত্র্য, দেওয়া হয়েছে
    লিখনক্ষমতা এবং উন্নত সাহিত্য জ্ঞান ও
    অলংকার সমৃদ্ধ বাক্য গঠন ও কাব্য রচনার
    যোগ্যতা, যা অন্য কোন সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি।
    মানব মর্যাদার অন্যতম বিষয় হ’ল, বিশ্বের
    প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল সৃষ্টিকে মানুষের
    অনুগত করে দেওয়া হয়েছে (লোকমান ৩১/২০)।
    যেন আল্লাহর যাবতীয় সৃষ্টিকর্মের মূল লক্ষ্য
    হচ্ছে মানুষ। মানুষের জন্যই যেন সবকিছু। সূর্যের
    কিরণ, চন্দ্রের জ্যোতি, গ্রহ-নক্ষত্রের
    মিটিমিটি আলো, বাতাসের মৃদুমন্দ প্রবাহ,
    পানির জীবনদায়িনী ক্ষমতা, মাটির উর্বরা
    শক্তি, আগুনের দাহিকা শক্তি, বিদ্যুতের বহু
    মাত্রিক কল্যাণকারিতা, মাঠভরা সবুজ
    শস্যভান্ডার, গাছ ভরা ফল-ফলাদি, বাগিচায়
    রং-বেরংয়ের ফুলের বাহার, পুকুর-নদী-সাগর
    ভরা নানা জাতের মাছ ও মণি-মুক্তার
    সমাহার, ভূগর্ভে সঞ্চিত স্বর্ণ-রৌপ্য ও খনিজ
    সম্পদরাজি ও তৈল-গ্যাসের আকর, গোয়াল ও
    জঙ্গলভরা পশু-পক্ষীর আবাস কাদের জন্য? এক
    কথায় জবাব: এসবই কেবল মানুষের জন্য। আল্লাহ
    বলেন, ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﻟَﻜُﻢ ﻣَّﺎ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺟَﻤِﻴﻌﺎً ‘তিনিই
    সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর
    সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন’ (বাক্বারাহ ২/২৯)।

  • আবারও এসেছে ফিরে সেই দিন

    আবারও এসেছে ফিরে সেই দিন,
    আসেনি তো তারা ফিরে কোনদিন।
    একুশে যারা হাড়িয়ে গেল!
    ভাষার তরে যারা জীবন দিল!!
    দেশের তরে যারা জীবন দিল!!!
    ,
    মায়ের আদর বোনের হাসি প্রিয়ার মুখ,
    সব ছেড়ে চলে গেছো নেই কোন দুঃখ।
    তোমাদের জীবন ধন্য হল,
    দেশের তরে যারা জীবন দিল।।
    ,
    বাংলাতে গাহি গান তোমাদেরই দান,
    চির দিনই তোমরা রবে অম্লান।
    তোমাদের তরে দেশ ধন্য হল,
    ভাষার তরে যারা জীবন দিল।।
    ,
    দেশ ও ভাষার তরে দিল যারা প্রাণ,
    দোয়া করি প্রভু যেন দেন প্রতিদান।
    আমরন দেশের মান যারা রাখিল,
    দেশের তরে যারা জীবন দিল।।

  • সুন্নতী পোশাক : দলীল ভিত্তিক আলোচনাঃ

    লম্বা জামা পরিধান করা রাসূলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং
    সাহাবীগণ হতে প্রমাণিত সুন্নাহ। নিসফে
    সাক ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ পর্যন্ত পোশাক পরিধান করা
    সুন্নাহ। চাই জামা হোক কিংবা লুঙ্গি। এ
    বিষয়ে হাদীসে পরিষ্কার বলা হয়েছে।
    .
    কিন্তু আফসোস! আজকাল কিছু ভাই রয়েছেন
    যারা নিজেদের সহীহ হাদীসের অনুসারী
    দাবী করেন অথচ তারা কথিত আধুনিকতা
    প্রেমী। তারা লম্বা পোশাক পরিধান করার
    চাইতে তাদের জামা-প্যান্ট, কোর্ট-টাই
    পরতে খুব বেশি পছন্দ করেন। আর এজন্য সুন্নাহ
    অস্বীকার করতেও দ্বিধা বোধ করেন না। তারা
    বলেন, ‘জুব্বা-পাঞ্জাবী, লম্বা পোশাক এগুলো
    সুন্নাহ নয়; এগুলো শুধুমাত্র আরবদের পোশাক!
    আবূ জাহলও তো লম্বা জামা পরতো!’
    নাউযুবিল্লাহ। কতখানি কুরুচিপূর্ণ কথা। আরে
    আবূ জাহল, আবূ লাহাবসহ সকল কুফফাররা কি
    পরিধান করেছে তা দেখে আমাদের কি কাজ?
    আমরা দেখবো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন পোশাক
    পরেছেন। সাহাবা-তাবেয়ীন, তাবে
    তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীনগণ কেমন
    পোশাক পরেছেন।
    .
    লম্বা জামা যেমনঃ জুব্বা, পাঞ্জাবী যদি শুধু
    আরবদের পোশাক হয়, এগুলো পরিধান করা
    সুন্নাহ না হয়, তাহলে বলতে হয়- ইসলামের কি
    নিজেস্ব পোশাক নেই? নিজেস্ব ধরণের
    পোশাক নেই? নাকি বিজাতিয়দের পোশাককে
    টাখনুর উপরে পরিধান করলেই পোশাকটা
    ইসলামী হয়ে গেল?
    .
    প্যান্ট-শার্ট পরিধান নিঃসন্দেহে বৈধ।
    কিন্তু সুন্নাহ নয়, উত্তম নয়। উত্তম হলো, সুন্নাহ
    হলো লম্বা জানা পরা। এগুলোই ইসলামী
    পোশাক। প্যান্ট-শার্ট নয়।
    .
    মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে, আলোকপাত
    করবো, # নিসফে_সাক কাকে বলে এ বিষয়ে।
    .
    ‘‘নিসফ’’ অর্থ মধ্য, মধ্যবর্তী, মধ্যম। আর ‘‘আস-
    সাক’’ অর্থ পা, পায়ের হাঁটু থেকে পাতা
    পর্যন্ত অংশ। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ আরবী অভিধান
    মু’জামুল ওসীতে বলা হয়েছে,
    ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻛﺒﺔ ﻭﺍﻟﻘﺪﻡ
    .
    অর্থাৎ ‘‘সাক’’ হলো হাঁটু এবং পাতা পর্যন্ত
    অংশ।’’
    .
    যেমন কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
    ﻓﻄﻔﻖ ﻣﺴﺤﺎ ﺑﺎﻟﺴﻮﻕ ﻭﺍﻷﻋﻨﺎﻕ
    .
    অর্থাৎ ‘‘অতঃপর সে ওগুলোর সাক (পা) ও
    গলদেশ ছেদন করতে লাগলো।’’
    .
    [সূরায়ে সাদ, ৩৩] .
    আর নিসফে সাক অর্থ হলোঃ সাক বা হাঁটু
    থেকে পাতা পর্যন্ত অংশের মধ্যবর্তী স্থান।
    .
    নিসফে সাক তথা হাঁটু থেকে পায়ের পাতার
    মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত জামা ও লুঙ্গি পরিধান
    করা সুন্নাহ। এটা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
    .
    ১। হাদীসঃ
    ﺍﻟﻌﻼﺀ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ﺳﺄﻟﺖ ﺃﺑﺎ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ
    ﻋﻦ ﺍﻹﺯﺍﺭ ﻓﻘﺎﻝ : ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺨﺒﻴﺮ ﺳﻘﻄﺖ، ﺳﻤﻌﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
    ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ﺇﺯﺭﺓ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﻻ ﺟﻨﺎﺡ ﺃﻭ ﻻ
    ﺣﺮﺝ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻨﻪ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻭﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﺳﻔﻞ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﻓﻬﻮ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ
    .
    অর্থাৎ আলা ইবনে আব্দুর রহমান তাঁর পিতা
    হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি সাহাবী
    আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)-কে ইযার (সেলাই
    বিহীন লুঙ্গি) এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা
    করলাম, তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি
    বলেছেন, ‘‘মু’মিন ব্যক্তির লুঙ্গি (ইযার) হবে
    দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান (নিসফে সাক)
    পর্যন্ত। আর গুনাহ নেই টাখনুর উপর পর্যন্ত পরে।
    আর যদি টাখনুর নিচে নামিয়ে পরে তাহলে
    তা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।’’
    .
    [মুয়াত্তা মালিক, ২/৯১৪; মুসনাদে আহমাদ,
    ২/২৯৪; সনদ সহীহ] .
    মুহাদ্দিসীন এবং ফুকাহাগণ এই হাদীসের
    ব্যাখ্যায় বলেছেন, লুঙ্গি (ইযার) এর মতো
    জামাও নিসফে সাক পর্যন্ত পরিধান করা
    সুন্নাহ।
    .
    ইমাম ইবনে আব্দিল বার মালিকী (রহ.)
    লিখেছেন,
    ﻭﻻ ﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺛﻮﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﻻ ﺳﺮﺍﻭﻳﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﺌﺰﺭﻩ ﻳﺘﺠﺎﻭﺯ
    ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻭﺣﺴﻦ ﻟﻪ ﺃﻥ ﻳﺠﻌﻠﻪ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ
    .
    অর্থাৎ ‘‘পুরুষের জন্য টাখনু (গিরা) এর নিচে
    পোশাক পরিধান বৈধ নয়। আর তার জন্য উত্তম
    তা নিসফে সাক (হাঁটুর নিচ) পর্যন্ত ঝুলিয়ে
    পরিধান করে।’’
    .
    [আল কাফী লি ইবনে আব্দিল বার] .
    ইমাম নববী (রহ.) লিখেছেন,
    ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﺍﻟﻤﺴﺘﺤﺐ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻨـﺰﻝ ﺇﻟﻴﻪ ﻃﺮﻑ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﻭﺍﻹﺯﺍﺭ ﻛﻤﺎ
    ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ، ﻭﻓﻲ ﺣـﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺇﺯﺭﺓ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ
    ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ ﻓﺎﻟﻤﺴﺘﺤﺐ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﺍﻟﺠﺎﺋﺰ ﺑﻼ ﻛﺮﺍﻫﺔ
    ﻣﺎ ﺗﺤﺘﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻓﻤﺎ ﻧﺰﻝ ﻋﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ ﻓﻬﻮ ﻣﻤﻨﻮﻉ
    .
    অর্থাৎ ‘‘মুস্তাহাব হলো, ইযার এবং জামা
    হাঁটুর নিচ (নিসফে সাক) পর্যন্ত পরিধান করা।
    যেমনটি আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)’র বর্ণিত
    হাদীসে এসেছে, ‘মু’মিন ব্যক্তির ইযার হবে,
    নিসফে সাক তথা হাঁটু এবং পায়ের পাতার
    মধ্যবর্তী স্থানে’
    .
    [শরহু সহীহ মুসলিম লিন নববী, ১৪/৩০৭] .
    ইমাম ইবনু কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ (রহ.)
    লিখেছেন,
    ﻭﻛﺎﻥ ﺫﻳﻞ ﻗﻤﻴﺼﻪ ﻭﺇﺯﺍﺭﻩ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ
    ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻟﻢ ﻳﺘﺠﺎﻭﺯ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ
    .
    অর্থাৎ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লামের ইযার এবং জামা ছিল নিসফে
    সাক পর্যন্ত ঝুলানো। গিরার নিচে পরিধান
    জায়েয নয়।’’
    .
    [যাদুল মা‘আদ, ৪/২৩৭] .
    আল্লামা তীবী (রহ.) উক্ত হাদীসের
    আলোচনায় লিখেছেন,
    ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﺍﻟﻤﺴﺘﺤﺐ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻨـﺰﻝ ﺇﻟﻴﻪ ﻃﺮﻑ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﻭﺍﻹﺯﺍﺭ ﻓﻨﺼﻒ
    ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ
    .
    অর্থাৎ ‘‘নিসফে সাক পর্যন্ত ঝুলিয়ে জামা ও
    ইযার পরিধান করা মুস্তাহাব।’’
    .
    [শরহু মিশকাতুল মাসাবীহ লিত তীবী, ৮/২০৯] .
    উক্ত হাদীসের আলোচনায় সঊদী আরবের
    প্রখ্যাত আলেম আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন
    সালেহ আল উছাইমিন (রহ.) লিখেছেন,
    ﻭﻋﻨﺪ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ : ﻓﻘﺴﻢ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
    ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﺇﻟﻰ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﻗﺴﺎﻡ :
    ﺍﻟﻘﺴﻢ ﺍﻷﻭﻝ : ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺇﻟﻰ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ
    ﺍﻟﻘﺴﻢ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ : ﺍﻟﺮﺧﺼﺔ، ﻭﻫﻮ ﻣﺎ ﻧﺰﻝ ﻣﻦ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ ﺇﻟﻰ
    ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ
    ﺍﻟﻘﺴﻢ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ : ﻣﺤﺮﻣﺎً ﻛﺴﺎﺋﺮ ﺍﻟﺬﻧﻮﺏ، ﻭﻫﻮ ﻣﺎ ﻧﺰﻝ ﻋﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ،
    ﻭﻟﻜﻨﻪ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺑﻄﺮﺍ
    .
    অর্থাৎ ‘‘আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)’র হাদীস থেকে
    পাওয়া যায়,
    ১। সুন্নাহ, নিসফে সাক পর্যন্ত।
    ২। ইচ্ছাধীন, নিসফে সাকের নিচ থেকে গিরার
    উপর পর্যন্ত।
    ৩। হারাম, গিরার নিচে পরিধান করা…’’
    .
    [শারহু রিয়াযুস সালিহীন, ৭/৩৩১] .
    সঊদী আরবের বর্তমান প্রধান মুফতী শায়খ
    আব্দুল আযীয আলে আশ শায়খ (হাফিযাহুল্লাহ)
    ‘র ফাতাওয়া,
    ﻭﺍﻟﻮﺍﺟﺐ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻟﺒﺎﺳﻪ ﻓﻮﻕ ﻛﻌﺒﻴﻪ، ﻭﻳﺴﺘﺤﺐ ﻟﻪ ﺃﻥ
    ﻳﺒﻠﻎ ﺑﻪ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ ،
    .
    অর্থাৎ ‘‘প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক
    গিরার উপর পোশাক পরিধান করা। আর
    মুস্তাহাব হলো, নিসফে সাক পর্যন্ত ঝুলিয়ে
    পরিধান করা।’’
    .
    শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী (রহ.) বলেন,
    ﻻ ﺷﻚ ﺃﻥ ﻗﺼﺮ ﺍﻟﺜﻮﺏ ﺇﻟﻰ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ ﺳﻨﺔ ﻣﺴﺘﺤﺒﺔ ﺭﺍﺟﺤﺔ ﻻ
    ﺷﻚ ﻭﻻ ﺭﻳﺐ ﻓﻴﻬﺎ
    .
    ‘‘কোনো সন্দেহ নেই যে, জামা নিসফে সাক
    পর্যন্ত পরিধান করা সুন্নাহ, মুস্তাহাব। এটাই
    উত্তম। কোনো সন্দেহ ও দ্বিধা নেই।’’
    .
    তিনি অন্যত্র আরো বলেছেন,
    ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺟﻌﻞ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﺟﺎﺀ ﺍﻟﻨﺺ ﻓﻲ
    ﺍﻹﺯﺍﺭ ﻷﻥ ﻋﺎﻣﺔ ﻟﺒﺎﺳﻬﻢ ﻛﺎﻥﺍﻹﺯﺍﺭ
    .
    অর্থাৎ ‘‘সুন্নাহ হলো, জামা নিসফে সাক
    পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরিধান করা।’’
    .
    সঊদী আরবের প্রাক্তন প্রধান মুফতী শায়খ
    আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)
    বলেন,
    ﺃﻥ ﺟﻌﻞ ﻃﺮﻑ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﺃﻭ ﺍﻹﺯﺍﺭ ﺇﻟﻰ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ ﺳﻨﺔ، ﻭﺃﻧﻪ ﻻ
    ﻓﺮﻕ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ،
    .
    অর্থাৎ ‘‘জামা, ইযার নিসফে সাক পর্যন্ত
    ঝুলিয়ে পরিধান করা সুন্নাহ।’’
    .
    প্রসিদ্ধ হাম্বলী ফকীহ, ইমাম মারদাওয়ী
    (রহ.) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)’র
    মাযহাব সম্পর্কে লিখেছেন,
    ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺛﻮﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺇﻟﻰ ﻓﻮﻕ ﻧﺼﻒ ﺳﺎﻗﻪ، ﻧﺺ ﻋﻠﻴﻪ
    .
    অর্থাৎ ‘‘তিনি পুরুষের জন্য নিসফে সাকের
    উপরে জামা পরিধান করাকে অপছন্দ (মাকরূহ)
    করতেন।’’
    .
    [আল ইনসাফ, ১/৪৭২] .
    আরো অনেক মুহাদ্দিসীন ও ফুকাহাগণের
    বক্তব্য, ব্যাখ্যা সংগ্রহে রয়েছে। পেশ করলাম
    না। এতটুকুই যথেষ্ট মনে করলাম।
    .
    আশা করি, এখন আর সুন্নাতী লিবাসকে
    অপমান করবেন না। সুন্নাতী পোশাককে
    অস্বীকার করে, সুন্নাহ অস্বীকার করার মতো
    জঘন্যতম কাজ করবেন না।
    .
    আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সঠিক বুঝ দান
    করুন। আমীন।

  • জুমুআর নামাজের ফজিলত সমুহঃ

    1. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    “জুম’আর দিন মসজিদের দরজায়
    ফেরেশতা এসে হাজির হয়।
    সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে
    আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে।
    প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকেন
    তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা
    আসেন তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে
    যারা আসেন তাদের জন্য ছাগল,
    চতুর্থবারে যারা আসেন তাদের জন্য
    মুরগী, ও সর্বশেষ পঞ্চমবারে যারা
    আগমন করেন তাদের জন্য ডিম
    কুরবানী বা দান করার সমান সওাব্ব
    লিখে থাকেন। আর যখন ইমাম খুৎবা
    দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়েন
    ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ
    করে খুৎবা শুনতে বসে যান।” (বুখারী
    ৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)
    2) দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়ঃ
    জুম’আর দিনের আদব যারা রক্ষা করে
    তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে
    দেওয়া হয়।
    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    ‘যে ব্যাক্তি ভালভাবে পবিত্র হল
    অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ
    দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল,
    তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী এ সাত
    দিনের সাথে আরও তিনদিন যোগ
    করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে
    দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে খুৎবার সময় যে
    ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু
    নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক
    কাজ করল।’ (মুসলিমঃ ৮৫৭)
    3) জুম’আর আদব রক্ষাকারীর দশ দিনের
    গুনাহ মুছে যায়ঃ
    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    “জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক
    হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে
    যারা মসজিদে প্রবেশের পর
    তামাশা করে, তারা বিনিময়ে
    তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ)
    দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে
    যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে
    দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ
    যাকে চান তাকে কিছু দেন আর
    যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয়
    প্রকার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির
    হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে
    খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে
    সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয়
    না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ
    আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ
    দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা
    মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)
    4) প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল
    রোজা ও এক বছরের সারারাত
    তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়ঃ
    যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর
    সালাত আদায় করে তার প্রতিটি
    পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো
    এক বছরের রোজা পালন এবং রাত
    জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব
    লিখা হয়।
    আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ)
    থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
    বলেছেন,
    “জুমা’আর দিন যে ব্যাক্তি গোসল
    করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে
    স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং)
    নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে
    মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও
    প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে,
    পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ
    কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়),
    ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে,
    মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে,
    কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে
    না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি
    পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী
    রোজা পালন ও সারা বছর রাত
    জেগে ইবাদত করার সমতুল্য
    সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪,
    ১৬২১৮)
    5) দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়ের
    গুনাহের কাফফারাঃ
    জুম’আর সালাত জুম’আ
    আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর
    মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।
    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    “পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম’আ
    থেকে পরবর্তী জুম’আ, এক রমজান
    থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী
    সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা)
    গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে
    যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে
    নিজেকে বাঁচিয়ে
    রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)

  • বিশ্বনবী (সাঃ) এর রওজা থেকে দেহাবশেষ চুরির চেষ্টার ভয়ংকর ঘটনা

    হিজরী ৫৫৭ সালের একরাতের ঘটনা। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ মুনাজাতের পর ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারিদিক নিরব নিস্তব্দ। কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি স্বপ্নে দেখলেন স্বয়ং রাসুল (স) তার কামরায় উপস্থিত। তিনি কোন ভূমিকা ছাড়াই দু’জন নীল চক্ষু বিশিষ্ট লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! (এরা আমাকে বিরক্ত করছে), এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গোটা কক্ষময় পায়চারি করতে লাগলেন। সাথে সাথে তার মাথায় বিভিন্ন প্রকার চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। হৃদয় রাজ্যে ভীড় জমাল হাজারও রকমের প্রশ্ন। তিনি ভাবলেন- আল্লাহর রাসূল তো এখন কবরে জীবনে! তার সাথে অভিশপ্ত ইহুদীরা এমন কী ষড়যন্ত্র করতে পারে? কী হতে পারে তাদের চক্রান্তের স্বরুপ?
    তারা কি রাসূল (স)-এর কোন ক্ষতি করতে চায়? চায় কি পর জীবনেও তার সাথে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হতে? আমাকে দু’জন ইহুদীর চেহারা দেখানো হল কেন? শয়তান তো আল্লাহর নবীর অবয়বে আসতে পারে না। তাহলে কি আমি সত্য স্বপ্ন দেখেছি? এসব ভাবতে ভাবতে সুলতান অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি অজু- গোসল সেরে তাড়াতাড়ি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর মহান আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় অনেকক্ষণ মুনাজাত করলেন। সুলতানের এমন কেউ ছিল না যার সাথে তিনি পরামর্শ করবেন। আবার এ স্বপ্নও এমন নয় যে, যার তার কাছে ব্যক্ত করবেন। অবশেষে আবারও তিনি শয়ন করলেন। দীর্ঘ সময় পর যখনই তার একটু ঘুমের ভাব এলো, সঙ্গে সঙ্গে এবারও তিনি প্রথম বারের ন্যায় নবী করীম (সা)কে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি তাকে পূর্বের ন্যায় বলছেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এবার নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) “আল্লাহ্, আল্লাহ্” বলতে বলতে বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তারপর কোথায় যাবেন, কী করবেন কিছুই ঠিক করতে পা পেরে দ্রুত অজু-গোসল শেষ করে মুসল্লায় দাড়িয়ে অত্যধিক ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দু’রাকাত নামায আদায় করলেন এবং দীর্ঘ সময় অশ্রু সিক্ত নয়নে দোয়া করলেন। রাতের অনেক অংশ এখনও বাকী। সমগ্র পৃথিবী যেন কি এক বিপদের সম্মুখীন হয়ে নিঝুম হয়ে আছে। কী এক
    মহা বিপর্যয় যেন পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হতে যাচ্ছে । কঠিন বিপদের ঘনঘটা যেন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মুখ তুলে আকাশ পানে তাকালেন। মনে হলো স্বপ্ন দেখা ঐ দু’জন লোক যেন তাকে ধরার জন্য দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। তিনি সেই চেহারা দুটোকে মনের মনিকোষ্ঠা থেকে সরাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হল না। শেষ পর্যন্তু নিরুপায় হয়ে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) চোখ বন্ধ করে আবারও তন্দ্রা-বিভোর হয়ে শুয়ে পড়লেন। শোয়ার পর তৃতীয়বারও তিনি একই ধরনের স্বপ্ন দেখলেন। রাসূল (সা)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ক্রন্দনরত অবস্থায় বিছানা পরিত্যাগ করলেন। এবার তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, নিশ্চয়ই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক কোন না মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি তড়িৎ গতিতে অজু-গোসল করে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষে প্রধানমন্ত্রী
    জালালুদ্দীন মৌশুলীর নিকট গিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বপ্নের বিবরণ শুনালেন এবং এ মুহূর্তে কী করা যায়, এ ব্যাপারে সুচিন্তিত পরামর্শ চাইলেন। জালালুদ্দীন মৌশুলী স্বপ্নের বৃত্তান্ত অবগত হয়ে বললে, “হুজুর! আপনি এখনও বসে আছেন? নিশ্চয়ই প্রিয় নবীর রওজা মোবারক কোন কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তাই এ বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য বারবার তিনি আপনাকে স্মরণ করছেন। অতএব, আমার পরামর্শ হল, সময় নষ্ট না করে অতিসত্তর মদীনার পথে অগ্রসর হোন।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) আর কালবিলম্ব করলেন না। তিনি ষোল হাজার দ্রুতগামী অশ্রারোহী সৈন্য এবং বিপুল ধন সম্পদ নিয়ে বাগদাদ থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। রাত দিন সফর করে ১৭তম দিনে মদিনা শরীফে পৌঁছলেন এবং সৈন্য বাহিনীসহ গোছল ও অজু সেরে দু’ রাকাত নফল নামাজান্তে দীর্ঘ সময় ধরে মোনাজাত করলেন। তারপর সৈন্য বাহিনী দ্বারা মদিনা ঘেরাও করে ফেললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আদেশ জারী করে দিলেন যে, বাইরের লোক মদিনায় আসতে পারবে, কিন্তু সাবধান! মদিনা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবে না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) জুম্মার খোৎবা দান করলেন এবং ঘোষণা দিলেন, “আমি মদিনাবাসীকে
    দাওয়াত দিয়ে এক বেলা খানা খাওয়াতে চাই। আমার অভিলাষ, সকলেই যেন এই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করে।” সুলতান মদিনাবাসীকে
    আপ্যায়নের জন্য বিশাল আয়োজন করলেন এবং প্রত্যেকের নিকট অনুরোধ করলেন, মদিনার কোন লোক যেন এই দাওয়াত থেকে বঞ্চিত না হয়। নির্ধারিত সময়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু হল। প্রত্যেকেই
    তৃপ্তিসহকারে খানা খেল। যারা দুরদুরান্ত থেকে আসতে পারেনি তাদেরকেও শেষ পর্যন্ত ঘোড়া ও গাধার পিঠে চড়িয়ে আনা হল। এভাবে প্রায় পনের দিন পর্যন্ত অগনিত লোক শাহী দাওয়াতে শরিক হওয়ার পর সুলতান জিজ্ঞাসা করলেন আরও কেউ অবশিষ্ট আছে কি? থাকলে তাদেরকেও ডেকে আন। এই নির্দেশের পর সুলতান বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হলেন যে, আর কোন লোক দাওয়াতে আসতে বাকী নেই। একথা শুনে তিনি সীমাহীন অস্থির হয়ে পড়লেন। চিন্তার অথৈই সাগরে হারিয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, যদি আর কোন লোক দাওয়াতে শরীক হতে বাকী না থাকে তাহলে সেই অভিশপ্ত লোক দু’জন গেল কোথায়? আমি তো দাওয়াতে শরীক হওয়া প্রতিটি লোককেই অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু কারও চেহারাইতো স্বপ্নে দেখা লোক দুটোর চেহারার সাথে মিলল না, তাহলে কি আমার মিশন ব্যর্থ হবে? আমি কি ঐ কুচক্রী লোক দুটোকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে সক্ষম হব না? এসব চিন্তায় বেশ কিছুক্ষণ তিনি ডুবে রইলেন। তারপর আবারও তিনি নতুন করে ঘোষণা করলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মদিনার সকল লোকদের দাওয়াত খাওয়া এখনও শেষ হয়নি। অতএব সবাইকে আবারও অনুরোধ করা যাচ্ছে, যারা এখনও আসেনি তাদেরকে যেন অনুসন্ধান করে দাওয়াতে শরীক করা হয়। একথা শ্রবণে মদিনাবাসী সকলেই এক বাক্যে বলে উঠল, “হুজুর! মদিনার আশে পাশে এমন কোন লোক বাকী নেই, যারা আপনার দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করেনি।” তখন নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বলিষ্ঠ কন্ঠে বললেন, “আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। আপনারা ভাল ভাবে অনুসন্ধান করুন।” সুলতানের এই দৃঢ়তা দেখে লক্ষাধিক জনতার মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ করে বলে উঠল, “হুজুর! আমার জানামতে দু’জন লোক সম্ভবত এখনও বাকী আছে। তারা আল্লাহ্ওয়ালা বুযুর্গ মানুষ। জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে হাদীয়া তোহফা গ্রহণ করেন না, এমনকি কারও দাওয়াতেও শরীক হন না। তারা নিজেরাই লোকদেরকে অনেক দান-খয়রাত করে থাকেন। নীরবতাই অধিক পছন্দ করেন। লোক সমাজে উপস্থিত হওয়া মোটেও ভালবাসেন না।” লোকটির বক্তব্য শুনে সুলতানের চেহারায় একটি বিদ্যুত চমক খেলে গেল। তিনি কাল বিলম্ব না করে কয়েকজন লোক সহকারে ঐ লোক দুটোর আবাসস্থলে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখলেন, এতো সেই দু’জন, যাদেরকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। তাদেরকে দেখে সুলতানের দু’চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ? তোমরা সুলতানের দাওয়াতে শরীক হলে না কেন?” লোক দুটো নিজের পরিচয় গোপন করে বলল, “আমরা মুসাফির। হজ্বের উদ্দেশ্য এসেছিলাম। হজ্ব কার্য সমাধা করে জিয়ারতের নিয়তে রওজা শরীকে এসেছি। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে আত্মহারা হয়ে ফিরে যেতে মনে চাইল না। তাই বাকী জীবন রওজার
    পাশে কাটিয়ে দেওয়ার নিয়তেই এখানে রয়ে গেছি। আমরা কারও দাওয়াত গ্রহণ করি না। এক আল্লাহর উপরই আমাদের পূর্ণ আস্থা। আমরা তারই উপর নির্ভরশীল। এবাদত, রিয়াজত ও পরকালের চিন্তায় বিভোর থাকাই আমাদের কাজ। কুরআন পাক তিলাওয়াত, নফল নামায ও অজিফা পাঠেই আমাদের সময় শেষ হয়ে যায়। সুতরাং দাওয়াত খাওয়ার সময়টা কোথায়?” উপস্থিত জনগণ তাদের পক্ষ হয়ে বলল যে, “হুজুর! এরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে অবস্থান করছে। এদের মত ভাল লোক আর হয় না। সব সময় দরিদ্র, এতিম ও অসহায় লোকদের প্রচুর পরিমাণে সাহায্য করে। তাদের দানের উপর অত্র লোকদের প্রচুর পরিমাণে জীবিকা নির্ভর করে।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) লোকদের কথা শুনে লোক দুটোর প্রতি পুনরায় গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন। এতে আবারও তিনি নিশ্চিত হলেন, এরা তারাই যাদেরকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন। এবার সুলতান জলদ গম্ভীর স্বরে তাদেরকে বললেন, “সত্য কথা বল। তোমরা কে? কেন, কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকছ?” এবারও তারা পূর্বের কথা পুনরাবৃত্তি করে বলল, “আমরা পশ্চিম দেশ থেকে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য এখানে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈকট্য লাভই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যেই আমরা এখানে অবস্থান করছি।” সুলতান এবার কারও কথায় কান না দিয়ে তাদেরকে সেখানে আটক রাখার নির্দেশ দিলেন, অত:পর স্বয়ং তাদের থাকার জায়গায় গিয়ে খুব ভাল করে অনুসন্ধাণ চালালেন। সেখানে অনেক মাল সম্পদ পাওয়া গেল। পাওয়া গেল বহু দুর্লভ কিতাবপত্র। কিন্তু এমন কোন জিনিষ পাওয়া গেল না, যা দ্বারা স্বপ্নের বিষয়ে কোন প্রকার সহায়তা হয়। নূরুদ্দীন জাঙ্কি(র:) অত্যধিক পেরেশান, অস্থির। এখনও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তিনি সীমাহীন চিন্তিত। এদিকে মদীনায় বহু লোক তাদের জন্য সুপারিশ করছে। তারা আবারও বলছে, “হুজুর! এরা নেককার বুযুর্গ লোক। দিনভর রোজা রাখেন। রাতের অধিকাংশ সময় ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই রওজা শরীফের নিকটে এসে আদায় করেন। প্রতিদিন নিয়মিত জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করতে যান। প্রতি শনিবার মসজিদুল কোবাতে গমন করেন। কেউ কিছু চাইলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।” সুলতান তাদের অবস্থা শুনে সীমাহীন আশ্চর্যবোধ করলেন। তথাপি তিনি হাল ছাড়ছেন না। কক্ষের অংশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ফিরিয়ে যাচ্ছেন। ঘরের প্রতিটি বস্তুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু সন্দেহ করার মত কিছুই তিনি পাচ্ছেন না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) এক পর্যায়ে সঙ্গীদের বললেন- “আচ্ছা, তাদের নামাযের মুসাল্লাটা একটু উঠাও দেখি।” সঙ্গীরা নির্দেশ পালন করল। নামাযের মুসল্লাটি বিছানো ছিল একটি চাটাইয়ের উপর। সুলতান আবার নির্দেশ দিলেন, “চাটাইটিও সরিয়ে ফেল।” চাটাই সরানোর পর দেখা গেল একখানা বিশাল পাথর। সুলতানের নির্দেশে তাও সরানো হল। এবার পাওয়া গেল এমন একটি সুরঙ্গপথ যা বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি তা পৌছে গেছে, রওজা শরীফের অতি সন্নিকটে। এ দৃশ্য অবলোকন করা মাত্র নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বিজলী আহতের ন্যায় চমকে উঠলেন। অস্থিরতার কালো মেঘ ছেয়ে যায় তার সমস্ত হৃদয় আকাশে। ক্রোধে লাল হয়ে যায় গোটা মুখমন্ডল। অবশেষে লোক দুটোকে লক্ষ্য করে ক্ষিপ্ত-ক্রদ্ধ সিংহের ন্যায় গর্জন করে ঝাঁঝাঁলো কন্ঠে বললেন- “তোমরা পরিস্কার ভাষায় সত্যি কথাটা খুলে বল, নইলে এক্ষুনি তোমাদের
    যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুক্ষিন হতে হবে। বল, তোমরা কে? তোমাদরে আসল পরিচয় কী? কারা, কী উদ্দেশ্যে
    তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে?” সুলতানের কথায় তারা ঘাবড়ে গেল। কঠিন বিপদ সামনে দেখে আসল পরিচয় প্রকাশ করে বলল,- “আমরা ইহুদী। দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরকে মুসল শহরের ইহুদীরা সুদক্ষ কর্মী দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রচুর অর্থ সহকারে এখানে পাঠিয়েছে।
    আমাদেরকে এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, আমরা যেন কোন উপায়ে মুহাম্মদ (স)-এর শবদেহ বের করে ইউরোপীয় ইহুদীদের হাতে হস্তান্তর করি। এই দুরূহ কাজে সফল হলে
    তারা আমাদেরকে আরও ধনসম্পদ দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুলতান বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিকল্পনা
    বাস্তবায়নের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলে? কিভাবে তোমরা কাজ করতে?” তারা বলল, “আমাদের নিয়মিত কাজ ছিল, রাত গভীর হলে অল্প পরিমাণ সুড়ঙ্গ খনন করা এবং সাথে ঐ মাটিগুলো চামড়ার মজকে ভর্তি করে অতি সন্তর্পণে মদীনার বাইরে নিয়ে ফেলে আসা। আজ দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত এ মহাপরিকল্পনা
    বাস্তবায়নের কাজে আমরা অনবরত ব্যস্ত আছি। যে সময় আমরা রওজা মোবারকের নিকট পৌছে গেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম যে, এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বনবীর লাশ বের করে নিয়ে যাব, ঠিক সে সময় ধরে আমাদের মনে হল, আকাশ যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। জমীন যেন প্রচন্ড ভূমিকম্পে থরথর করে কাঁপছে। যেন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মহাপ্রলয় সংঘটিত হচ্ছে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় রূপ ধারণ করল, মনে হল সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন আমরা সমাধিস্থ হয়ে পড়ব। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে রেখেছি।” তাদের বক্তব্যে সুলতানের নিকট সব কিছুই পরিস্কার হয়ে গেল। তাই তিনি লোক দুটোকে নযীর বিহীন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন । যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দু:সাহস দেখাতে না পারে। তিনি মসজিদ হতে অর্ধ মাইল দূরে একটি বিশাল ময়দানে বিশ তাহ উঁচু একটি কাঠের মঞ্চ তৈরী করলেন। সাথে সাথে সংবাদ পাঠিয়ে মদীনা ও মদীনার আশেপাশের লোকদেরকে উক্ত ময়দানে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ লক্ষ লোক উক্ত মাঠে সমবেত হল। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অপরাধী লোক দুটোকে লৌহ শিকলে আবদ্ধ করে মঞ্চের উপর বসালেন । তারপর বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে তাদের হীন চক্রান্ত ও ঘৃণ্য তৎপরতার কথা উল্লেখ করলেন। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) -এর বক্তব্য শ্রবণ করে লোকজন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তারা এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করল। সুলতান বললেন- হ্যাঁ, এদের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলকই হবে। তিনি লোকদেরকে বিপুল পরিমাণ লাকড়ী সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তারপর লক্ষ জনতার সামনে সেই ইহুদী দুটোকে মঞ্চের নিম্নভাগে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ভস্ম করে ফেলেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, সেই আগুন নাকি দীর্ঘ এগার দিন পর্যন্ত জ্বলছিল। অত:পর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এক হাজার মন সিসা গলিয়ে রওজা শরীফের চতুষ্পার্শে মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দেন। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ প্রিয় নবীজির কবর পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম না হয়। তারপর তিনি কায়মনোবাক্যে
    আল্লাহ্পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তাকে যে এত বড় খেদমতের জন্য কবুল করা হল সেজন্য সপ্তাহকাল ব্যাপী আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে অবগত হওয়া যায় যে, নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ইন্তিকাল করলে অসীয়ত মোতাবেক তার লাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের অতি নিকটে দাফন করা হয়।

  • পাঁচটি কাজের নসীহত

    ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺑِﺸْﺮُ ﺑْﻦُ ﻫِﻼَﻝٍ ﺍﻟﺼَّﻮَّﺍﻑُ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮِﻱُّ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﻌْﻔَﺮُ ﺑْﻦُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﺭِﻕٍ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : )) ﻣَﻦْ ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﻋَﻨِّﻲ ﻫَﺆُﻻَﺀِ ﺍﻟْﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﻓَﻴَﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﻳُﻌَﻠِّﻢُ ﻣَﻦْ ﻳَﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻬِﻦَّ .(( ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﺃَﻧَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺄَﺧَﺬَ ﺑِﻴَﺪِﻱ ﻓَﻌَﺪَّ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ )) : ﺍﺗَّﻖِ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﺭِﻡَ ﺗَﻜُﻦْ ﺃَﻋْﺒَﺪَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺍﺭْﺽَ ﺑِﻤَﺎ ﻗَﺴَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻚَ ﺗَﻜُﻦْ ﺃَﻏْﻨَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺃَﺣْﺴِﻦْ ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﺭِﻙَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻭَﺃَﺣِﺐَّ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻣَﺎ ﺗُﺤِﺐُّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻚَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ ﻭَﻻَ ﺗُﻜْﺜِﺮِ ﺍﻟﻀَّﺤِﻚَ ﻓَﺈِﻥَّ ﻛَﺜْﺮَﺓَ ﺍﻟﻀَّﺤِﻚِ ﺗُﻤِﻴﺖُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐَ )).
    হযরত অাবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) অামাকে পাঁচটি নসীহত করেছেন,
    ১. হারাম সমূহ ছাড়, তাহলে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় অাবেদ হিসাবে গণ্য হবে।
    ২. অাল্লাহ তোমার তকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক, তাহলে লোকদের মধ্যে সবচেয়ে স্বনির্ভর হতে পারবে।
    ৩. প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর অাচরণ করতে থাক, তাহলে প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে।
    ৪. নিজের জন্য যা পছন্দ কর তা অপরের জন্যও পছন্দ কর, তাহলে প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে।
    ৫. বেশি হাসবেনা কারণ বেশি হাসাহাসি করলে অন্তর মৃত হয়ে যায়।
    (তিরমিযি ২/৫৬)

Back to top button