• সুন্নতী পোশাক : দলীল ভিত্তিক আলোচনাঃ

    লম্বা জামা পরিধান করা রাসূলুল্লাহ
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং
    সাহাবীগণ হতে প্রমাণিত সুন্নাহ। নিসফে
    সাক ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ পর্যন্ত পোশাক পরিধান করা
    সুন্নাহ। চাই জামা হোক কিংবা লুঙ্গি। এ
    বিষয়ে হাদীসে পরিষ্কার বলা হয়েছে।
    .
    কিন্তু আফসোস! আজকাল কিছু ভাই রয়েছেন
    যারা নিজেদের সহীহ হাদীসের অনুসারী
    দাবী করেন অথচ তারা কথিত আধুনিকতা
    প্রেমী। তারা লম্বা পোশাক পরিধান করার
    চাইতে তাদের জামা-প্যান্ট, কোর্ট-টাই
    পরতে খুব বেশি পছন্দ করেন। আর এজন্য সুন্নাহ
    অস্বীকার করতেও দ্বিধা বোধ করেন না। তারা
    বলেন, ‘জুব্বা-পাঞ্জাবী, লম্বা পোশাক এগুলো
    সুন্নাহ নয়; এগুলো শুধুমাত্র আরবদের পোশাক!
    আবূ জাহলও তো লম্বা জামা পরতো!’
    নাউযুবিল্লাহ। কতখানি কুরুচিপূর্ণ কথা। আরে
    আবূ জাহল, আবূ লাহাবসহ সকল কুফফাররা কি
    পরিধান করেছে তা দেখে আমাদের কি কাজ?
    আমরা দেখবো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন পোশাক
    পরেছেন। সাহাবা-তাবেয়ীন, তাবে
    তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীনগণ কেমন
    পোশাক পরেছেন।
    .
    লম্বা জামা যেমনঃ জুব্বা, পাঞ্জাবী যদি শুধু
    আরবদের পোশাক হয়, এগুলো পরিধান করা
    সুন্নাহ না হয়, তাহলে বলতে হয়- ইসলামের কি
    নিজেস্ব পোশাক নেই? নিজেস্ব ধরণের
    পোশাক নেই? নাকি বিজাতিয়দের পোশাককে
    টাখনুর উপরে পরিধান করলেই পোশাকটা
    ইসলামী হয়ে গেল?
    .
    প্যান্ট-শার্ট পরিধান নিঃসন্দেহে বৈধ।
    কিন্তু সুন্নাহ নয়, উত্তম নয়। উত্তম হলো, সুন্নাহ
    হলো লম্বা জানা পরা। এগুলোই ইসলামী
    পোশাক। প্যান্ট-শার্ট নয়।
    .
    মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে, আলোকপাত
    করবো, # নিসফে_সাক কাকে বলে এ বিষয়ে।
    .
    ‘‘নিসফ’’ অর্থ মধ্য, মধ্যবর্তী, মধ্যম। আর ‘‘আস-
    সাক’’ অর্থ পা, পায়ের হাঁটু থেকে পাতা
    পর্যন্ত অংশ। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ আরবী অভিধান
    মু’জামুল ওসীতে বলা হয়েছে,
    ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻛﺒﺔ ﻭﺍﻟﻘﺪﻡ
    .
    অর্থাৎ ‘‘সাক’’ হলো হাঁটু এবং পাতা পর্যন্ত
    অংশ।’’
    .
    যেমন কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
    ﻓﻄﻔﻖ ﻣﺴﺤﺎ ﺑﺎﻟﺴﻮﻕ ﻭﺍﻷﻋﻨﺎﻕ
    .
    অর্থাৎ ‘‘অতঃপর সে ওগুলোর সাক (পা) ও
    গলদেশ ছেদন করতে লাগলো।’’
    .
    [সূরায়ে সাদ, ৩৩] .
    আর নিসফে সাক অর্থ হলোঃ সাক বা হাঁটু
    থেকে পাতা পর্যন্ত অংশের মধ্যবর্তী স্থান।
    .
    নিসফে সাক তথা হাঁটু থেকে পায়ের পাতার
    মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত জামা ও লুঙ্গি পরিধান
    করা সুন্নাহ। এটা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
    .
    ১। হাদীসঃ
    ﺍﻟﻌﻼﺀ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ﺳﺄﻟﺖ ﺃﺑﺎ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ
    ﻋﻦ ﺍﻹﺯﺍﺭ ﻓﻘﺎﻝ : ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺨﺒﻴﺮ ﺳﻘﻄﺖ، ﺳﻤﻌﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
    ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ﺇﺯﺭﺓ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﻻ ﺟﻨﺎﺡ ﺃﻭ ﻻ
    ﺣﺮﺝ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻨﻪ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻭﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﺳﻔﻞ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﻓﻬﻮ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ
    .
    অর্থাৎ আলা ইবনে আব্দুর রহমান তাঁর পিতা
    হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি সাহাবী
    আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)-কে ইযার (সেলাই
    বিহীন লুঙ্গি) এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা
    করলাম, তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি
    বলেছেন, ‘‘মু’মিন ব্যক্তির লুঙ্গি (ইযার) হবে
    দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান (নিসফে সাক)
    পর্যন্ত। আর গুনাহ নেই টাখনুর উপর পর্যন্ত পরে।
    আর যদি টাখনুর নিচে নামিয়ে পরে তাহলে
    তা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।’’
    .
    [মুয়াত্তা মালিক, ২/৯১৪; মুসনাদে আহমাদ,
    ২/২৯৪; সনদ সহীহ] .
    মুহাদ্দিসীন এবং ফুকাহাগণ এই হাদীসের
    ব্যাখ্যায় বলেছেন, লুঙ্গি (ইযার) এর মতো
    জামাও নিসফে সাক পর্যন্ত পরিধান করা
    সুন্নাহ।
    .
    ইমাম ইবনে আব্দিল বার মালিকী (রহ.)
    লিখেছেন,
    ﻭﻻ ﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺛﻮﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﻻ ﺳﺮﺍﻭﻳﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﺌﺰﺭﻩ ﻳﺘﺠﺎﻭﺯ
    ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻭﺣﺴﻦ ﻟﻪ ﺃﻥ ﻳﺠﻌﻠﻪ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ
    .
    অর্থাৎ ‘‘পুরুষের জন্য টাখনু (গিরা) এর নিচে
    পোশাক পরিধান বৈধ নয়। আর তার জন্য উত্তম
    তা নিসফে সাক (হাঁটুর নিচ) পর্যন্ত ঝুলিয়ে
    পরিধান করে।’’
    .
    [আল কাফী লি ইবনে আব্দিল বার] .
    ইমাম নববী (রহ.) লিখেছেন,
    ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﺍﻟﻤﺴﺘﺤﺐ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻨـﺰﻝ ﺇﻟﻴﻪ ﻃﺮﻑ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﻭﺍﻹﺯﺍﺭ ﻛﻤﺎ
    ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ، ﻭﻓﻲ ﺣـﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺇﺯﺭﺓ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ
    ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ ﻓﺎﻟﻤﺴﺘﺤﺐ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﺍﻟﺠﺎﺋﺰ ﺑﻼ ﻛﺮﺍﻫﺔ
    ﻣﺎ ﺗﺤﺘﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ، ﻓﻤﺎ ﻧﺰﻝ ﻋﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ ﻓﻬﻮ ﻣﻤﻨﻮﻉ
    .
    অর্থাৎ ‘‘মুস্তাহাব হলো, ইযার এবং জামা
    হাঁটুর নিচ (নিসফে সাক) পর্যন্ত পরিধান করা।
    যেমনটি আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)’র বর্ণিত
    হাদীসে এসেছে, ‘মু’মিন ব্যক্তির ইযার হবে,
    নিসফে সাক তথা হাঁটু এবং পায়ের পাতার
    মধ্যবর্তী স্থানে’
    .
    [শরহু সহীহ মুসলিম লিন নববী, ১৪/৩০৭] .
    ইমাম ইবনু কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ (রহ.)
    লিখেছেন,
    ﻭﻛﺎﻥ ﺫﻳﻞ ﻗﻤﻴﺼﻪ ﻭﺇﺯﺍﺭﻩ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ
    ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻟﻢ ﻳﺘﺠﺎﻭﺯ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ
    .
    অর্থাৎ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লামের ইযার এবং জামা ছিল নিসফে
    সাক পর্যন্ত ঝুলানো। গিরার নিচে পরিধান
    জায়েয নয়।’’
    .
    [যাদুল মা‘আদ, ৪/২৩৭] .
    আল্লামা তীবী (রহ.) উক্ত হাদীসের
    আলোচনায় লিখেছেন,
    ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﺍﻟﻤﺴﺘﺤﺐ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻨـﺰﻝ ﺇﻟﻴﻪ ﻃﺮﻑ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﻭﺍﻹﺯﺍﺭ ﻓﻨﺼﻒ
    ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ
    .
    অর্থাৎ ‘‘নিসফে সাক পর্যন্ত ঝুলিয়ে জামা ও
    ইযার পরিধান করা মুস্তাহাব।’’
    .
    [শরহু মিশকাতুল মাসাবীহ লিত তীবী, ৮/২০৯] .
    উক্ত হাদীসের আলোচনায় সঊদী আরবের
    প্রখ্যাত আলেম আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন
    সালেহ আল উছাইমিন (রহ.) লিখেছেন,
    ﻭﻋﻨﺪ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ : ﻓﻘﺴﻢ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
    ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﺇﻟﻰ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﻗﺴﺎﻡ :
    ﺍﻟﻘﺴﻢ ﺍﻷﻭﻝ : ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺇﻟﻰ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ
    ﺍﻟﻘﺴﻢ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ : ﺍﻟﺮﺧﺼﺔ، ﻭﻫﻮ ﻣﺎ ﻧﺰﻝ ﻣﻦ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ ﺇﻟﻰ
    ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ
    ﺍﻟﻘﺴﻢ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ : ﻣﺤﺮﻣﺎً ﻛﺴﺎﺋﺮ ﺍﻟﺬﻧﻮﺏ، ﻭﻫﻮ ﻣﺎ ﻧﺰﻝ ﻋﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﻴﻦ،
    ﻭﻟﻜﻨﻪ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺑﻄﺮﺍ
    .
    অর্থাৎ ‘‘আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)’র হাদীস থেকে
    পাওয়া যায়,
    ১। সুন্নাহ, নিসফে সাক পর্যন্ত।
    ২। ইচ্ছাধীন, নিসফে সাকের নিচ থেকে গিরার
    উপর পর্যন্ত।
    ৩। হারাম, গিরার নিচে পরিধান করা…’’
    .
    [শারহু রিয়াযুস সালিহীন, ৭/৩৩১] .
    সঊদী আরবের বর্তমান প্রধান মুফতী শায়খ
    আব্দুল আযীয আলে আশ শায়খ (হাফিযাহুল্লাহ)
    ‘র ফাতাওয়া,
    ﻭﺍﻟﻮﺍﺟﺐ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻟﺒﺎﺳﻪ ﻓﻮﻕ ﻛﻌﺒﻴﻪ، ﻭﻳﺴﺘﺤﺐ ﻟﻪ ﺃﻥ
    ﻳﺒﻠﻎ ﺑﻪ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ ،
    .
    অর্থাৎ ‘‘প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক
    গিরার উপর পোশাক পরিধান করা। আর
    মুস্তাহাব হলো, নিসফে সাক পর্যন্ত ঝুলিয়ে
    পরিধান করা।’’
    .
    শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী (রহ.) বলেন,
    ﻻ ﺷﻚ ﺃﻥ ﻗﺼﺮ ﺍﻟﺜﻮﺏ ﺇﻟﻰ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ ﺳﻨﺔ ﻣﺴﺘﺤﺒﺔ ﺭﺍﺟﺤﺔ ﻻ
    ﺷﻚ ﻭﻻ ﺭﻳﺐ ﻓﻴﻬﺎ
    .
    ‘‘কোনো সন্দেহ নেই যে, জামা নিসফে সাক
    পর্যন্ত পরিধান করা সুন্নাহ, মুস্তাহাব। এটাই
    উত্তম। কোনো সন্দেহ ও দ্বিধা নেই।’’
    .
    তিনি অন্যত্র আরো বলেছেন,
    ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺟﻌﻞ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﺟﺎﺀ ﺍﻟﻨﺺ ﻓﻲ
    ﺍﻹﺯﺍﺭ ﻷﻥ ﻋﺎﻣﺔ ﻟﺒﺎﺳﻬﻢ ﻛﺎﻥﺍﻹﺯﺍﺭ
    .
    অর্থাৎ ‘‘সুন্নাহ হলো, জামা নিসফে সাক
    পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরিধান করা।’’
    .
    সঊদী আরবের প্রাক্তন প্রধান মুফতী শায়খ
    আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)
    বলেন,
    ﺃﻥ ﺟﻌﻞ ﻃﺮﻑ ﺍﻟﻘﻤﻴﺺ ﺃﻭ ﺍﻹﺯﺍﺭ ﺇﻟﻰ ﻧﺼﻒ ﺍﻟﺴﺎﻕ ﺳﻨﺔ، ﻭﺃﻧﻪ ﻻ
    ﻓﺮﻕ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ،
    .
    অর্থাৎ ‘‘জামা, ইযার নিসফে সাক পর্যন্ত
    ঝুলিয়ে পরিধান করা সুন্নাহ।’’
    .
    প্রসিদ্ধ হাম্বলী ফকীহ, ইমাম মারদাওয়ী
    (রহ.) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)’র
    মাযহাব সম্পর্কে লিখেছেন,
    ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺛﻮﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺇﻟﻰ ﻓﻮﻕ ﻧﺼﻒ ﺳﺎﻗﻪ، ﻧﺺ ﻋﻠﻴﻪ
    .
    অর্থাৎ ‘‘তিনি পুরুষের জন্য নিসফে সাকের
    উপরে জামা পরিধান করাকে অপছন্দ (মাকরূহ)
    করতেন।’’
    .
    [আল ইনসাফ, ১/৪৭২] .
    আরো অনেক মুহাদ্দিসীন ও ফুকাহাগণের
    বক্তব্য, ব্যাখ্যা সংগ্রহে রয়েছে। পেশ করলাম
    না। এতটুকুই যথেষ্ট মনে করলাম।
    .
    আশা করি, এখন আর সুন্নাতী লিবাসকে
    অপমান করবেন না। সুন্নাতী পোশাককে
    অস্বীকার করে, সুন্নাহ অস্বীকার করার মতো
    জঘন্যতম কাজ করবেন না।
    .
    আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সঠিক বুঝ দান
    করুন। আমীন।

  • জুমুআর নামাজের ফজিলত সমুহঃ

    1. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    “জুম’আর দিন মসজিদের দরজায়
    ফেরেশতা এসে হাজির হয়।
    সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে
    আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে।
    প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকেন
    তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা
    আসেন তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে
    যারা আসেন তাদের জন্য ছাগল,
    চতুর্থবারে যারা আসেন তাদের জন্য
    মুরগী, ও সর্বশেষ পঞ্চমবারে যারা
    আগমন করেন তাদের জন্য ডিম
    কুরবানী বা দান করার সমান সওাব্ব
    লিখে থাকেন। আর যখন ইমাম খুৎবা
    দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়েন
    ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ
    করে খুৎবা শুনতে বসে যান।” (বুখারী
    ৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)
    2) দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়ঃ
    জুম’আর দিনের আদব যারা রক্ষা করে
    তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে
    দেওয়া হয়।
    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    ‘যে ব্যাক্তি ভালভাবে পবিত্র হল
    অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ
    দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল,
    তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী এ সাত
    দিনের সাথে আরও তিনদিন যোগ
    করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে
    দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে খুৎবার সময় যে
    ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু
    নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক
    কাজ করল।’ (মুসলিমঃ ৮৫৭)
    3) জুম’আর আদব রক্ষাকারীর দশ দিনের
    গুনাহ মুছে যায়ঃ
    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    “জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক
    হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে
    যারা মসজিদে প্রবেশের পর
    তামাশা করে, তারা বিনিময়ে
    তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ)
    দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে
    যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে
    দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ
    যাকে চান তাকে কিছু দেন আর
    যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয়
    প্রকার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির
    হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে
    খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে
    সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয়
    না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ
    আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ
    দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা
    মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)
    4) প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল
    রোজা ও এক বছরের সারারাত
    তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়ঃ
    যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর
    সালাত আদায় করে তার প্রতিটি
    পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো
    এক বছরের রোজা পালন এবং রাত
    জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব
    লিখা হয়।
    আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ)
    থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
    বলেছেন,
    “জুমা’আর দিন যে ব্যাক্তি গোসল
    করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে
    স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং)
    নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে
    মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও
    প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে,
    পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ
    কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়),
    ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে,
    মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে,
    কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে
    না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি
    পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী
    রোজা পালন ও সারা বছর রাত
    জেগে ইবাদত করার সমতুল্য
    সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪,
    ১৬২১৮)
    5) দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়ের
    গুনাহের কাফফারাঃ
    জুম’আর সালাত জুম’আ
    আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর
    মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।
    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
    “পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম’আ
    থেকে পরবর্তী জুম’আ, এক রমজান
    থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী
    সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা)
    গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে
    যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে
    নিজেকে বাঁচিয়ে
    রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)

  • বিশ্বনবী (সাঃ) এর রওজা থেকে দেহাবশেষ চুরির চেষ্টার ভয়ংকর ঘটনা

    হিজরী ৫৫৭ সালের একরাতের ঘটনা। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ মুনাজাতের পর ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারিদিক নিরব নিস্তব্দ। কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি স্বপ্নে দেখলেন স্বয়ং রাসুল (স) তার কামরায় উপস্থিত। তিনি কোন ভূমিকা ছাড়াই দু’জন নীল চক্ষু বিশিষ্ট লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! (এরা আমাকে বিরক্ত করছে), এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গোটা কক্ষময় পায়চারি করতে লাগলেন। সাথে সাথে তার মাথায় বিভিন্ন প্রকার চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। হৃদয় রাজ্যে ভীড় জমাল হাজারও রকমের প্রশ্ন। তিনি ভাবলেন- আল্লাহর রাসূল তো এখন কবরে জীবনে! তার সাথে অভিশপ্ত ইহুদীরা এমন কী ষড়যন্ত্র করতে পারে? কী হতে পারে তাদের চক্রান্তের স্বরুপ?
    তারা কি রাসূল (স)-এর কোন ক্ষতি করতে চায়? চায় কি পর জীবনেও তার সাথে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হতে? আমাকে দু’জন ইহুদীর চেহারা দেখানো হল কেন? শয়তান তো আল্লাহর নবীর অবয়বে আসতে পারে না। তাহলে কি আমি সত্য স্বপ্ন দেখেছি? এসব ভাবতে ভাবতে সুলতান অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি অজু- গোসল সেরে তাড়াতাড়ি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর মহান আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় অনেকক্ষণ মুনাজাত করলেন। সুলতানের এমন কেউ ছিল না যার সাথে তিনি পরামর্শ করবেন। আবার এ স্বপ্নও এমন নয় যে, যার তার কাছে ব্যক্ত করবেন। অবশেষে আবারও তিনি শয়ন করলেন। দীর্ঘ সময় পর যখনই তার একটু ঘুমের ভাব এলো, সঙ্গে সঙ্গে এবারও তিনি প্রথম বারের ন্যায় নবী করীম (সা)কে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি তাকে পূর্বের ন্যায় বলছেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এবার নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) “আল্লাহ্, আল্লাহ্” বলতে বলতে বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তারপর কোথায় যাবেন, কী করবেন কিছুই ঠিক করতে পা পেরে দ্রুত অজু-গোসল শেষ করে মুসল্লায় দাড়িয়ে অত্যধিক ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দু’রাকাত নামায আদায় করলেন এবং দীর্ঘ সময় অশ্রু সিক্ত নয়নে দোয়া করলেন। রাতের অনেক অংশ এখনও বাকী। সমগ্র পৃথিবী যেন কি এক বিপদের সম্মুখীন হয়ে নিঝুম হয়ে আছে। কী এক
    মহা বিপর্যয় যেন পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হতে যাচ্ছে । কঠিন বিপদের ঘনঘটা যেন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মুখ তুলে আকাশ পানে তাকালেন। মনে হলো স্বপ্ন দেখা ঐ দু’জন লোক যেন তাকে ধরার জন্য দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। তিনি সেই চেহারা দুটোকে মনের মনিকোষ্ঠা থেকে সরাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হল না। শেষ পর্যন্তু নিরুপায় হয়ে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) চোখ বন্ধ করে আবারও তন্দ্রা-বিভোর হয়ে শুয়ে পড়লেন। শোয়ার পর তৃতীয়বারও তিনি একই ধরনের স্বপ্ন দেখলেন। রাসূল (সা)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ক্রন্দনরত অবস্থায় বিছানা পরিত্যাগ করলেন। এবার তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, নিশ্চয়ই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক কোন না মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি তড়িৎ গতিতে অজু-গোসল করে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষে প্রধানমন্ত্রী
    জালালুদ্দীন মৌশুলীর নিকট গিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বপ্নের বিবরণ শুনালেন এবং এ মুহূর্তে কী করা যায়, এ ব্যাপারে সুচিন্তিত পরামর্শ চাইলেন। জালালুদ্দীন মৌশুলী স্বপ্নের বৃত্তান্ত অবগত হয়ে বললে, “হুজুর! আপনি এখনও বসে আছেন? নিশ্চয়ই প্রিয় নবীর রওজা মোবারক কোন কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তাই এ বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য বারবার তিনি আপনাকে স্মরণ করছেন। অতএব, আমার পরামর্শ হল, সময় নষ্ট না করে অতিসত্তর মদীনার পথে অগ্রসর হোন।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) আর কালবিলম্ব করলেন না। তিনি ষোল হাজার দ্রুতগামী অশ্রারোহী সৈন্য এবং বিপুল ধন সম্পদ নিয়ে বাগদাদ থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। রাত দিন সফর করে ১৭তম দিনে মদিনা শরীফে পৌঁছলেন এবং সৈন্য বাহিনীসহ গোছল ও অজু সেরে দু’ রাকাত নফল নামাজান্তে দীর্ঘ সময় ধরে মোনাজাত করলেন। তারপর সৈন্য বাহিনী দ্বারা মদিনা ঘেরাও করে ফেললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আদেশ জারী করে দিলেন যে, বাইরের লোক মদিনায় আসতে পারবে, কিন্তু সাবধান! মদিনা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবে না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) জুম্মার খোৎবা দান করলেন এবং ঘোষণা দিলেন, “আমি মদিনাবাসীকে
    দাওয়াত দিয়ে এক বেলা খানা খাওয়াতে চাই। আমার অভিলাষ, সকলেই যেন এই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করে।” সুলতান মদিনাবাসীকে
    আপ্যায়নের জন্য বিশাল আয়োজন করলেন এবং প্রত্যেকের নিকট অনুরোধ করলেন, মদিনার কোন লোক যেন এই দাওয়াত থেকে বঞ্চিত না হয়। নির্ধারিত সময়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু হল। প্রত্যেকেই
    তৃপ্তিসহকারে খানা খেল। যারা দুরদুরান্ত থেকে আসতে পারেনি তাদেরকেও শেষ পর্যন্ত ঘোড়া ও গাধার পিঠে চড়িয়ে আনা হল। এভাবে প্রায় পনের দিন পর্যন্ত অগনিত লোক শাহী দাওয়াতে শরিক হওয়ার পর সুলতান জিজ্ঞাসা করলেন আরও কেউ অবশিষ্ট আছে কি? থাকলে তাদেরকেও ডেকে আন। এই নির্দেশের পর সুলতান বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হলেন যে, আর কোন লোক দাওয়াতে আসতে বাকী নেই। একথা শুনে তিনি সীমাহীন অস্থির হয়ে পড়লেন। চিন্তার অথৈই সাগরে হারিয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, যদি আর কোন লোক দাওয়াতে শরীক হতে বাকী না থাকে তাহলে সেই অভিশপ্ত লোক দু’জন গেল কোথায়? আমি তো দাওয়াতে শরীক হওয়া প্রতিটি লোককেই অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু কারও চেহারাইতো স্বপ্নে দেখা লোক দুটোর চেহারার সাথে মিলল না, তাহলে কি আমার মিশন ব্যর্থ হবে? আমি কি ঐ কুচক্রী লোক দুটোকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে সক্ষম হব না? এসব চিন্তায় বেশ কিছুক্ষণ তিনি ডুবে রইলেন। তারপর আবারও তিনি নতুন করে ঘোষণা করলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মদিনার সকল লোকদের দাওয়াত খাওয়া এখনও শেষ হয়নি। অতএব সবাইকে আবারও অনুরোধ করা যাচ্ছে, যারা এখনও আসেনি তাদেরকে যেন অনুসন্ধান করে দাওয়াতে শরীক করা হয়। একথা শ্রবণে মদিনাবাসী সকলেই এক বাক্যে বলে উঠল, “হুজুর! মদিনার আশে পাশে এমন কোন লোক বাকী নেই, যারা আপনার দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করেনি।” তখন নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বলিষ্ঠ কন্ঠে বললেন, “আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। আপনারা ভাল ভাবে অনুসন্ধান করুন।” সুলতানের এই দৃঢ়তা দেখে লক্ষাধিক জনতার মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ করে বলে উঠল, “হুজুর! আমার জানামতে দু’জন লোক সম্ভবত এখনও বাকী আছে। তারা আল্লাহ্ওয়ালা বুযুর্গ মানুষ। জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে হাদীয়া তোহফা গ্রহণ করেন না, এমনকি কারও দাওয়াতেও শরীক হন না। তারা নিজেরাই লোকদেরকে অনেক দান-খয়রাত করে থাকেন। নীরবতাই অধিক পছন্দ করেন। লোক সমাজে উপস্থিত হওয়া মোটেও ভালবাসেন না।” লোকটির বক্তব্য শুনে সুলতানের চেহারায় একটি বিদ্যুত চমক খেলে গেল। তিনি কাল বিলম্ব না করে কয়েকজন লোক সহকারে ঐ লোক দুটোর আবাসস্থলে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখলেন, এতো সেই দু’জন, যাদেরকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। তাদেরকে দেখে সুলতানের দু’চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ? তোমরা সুলতানের দাওয়াতে শরীক হলে না কেন?” লোক দুটো নিজের পরিচয় গোপন করে বলল, “আমরা মুসাফির। হজ্বের উদ্দেশ্য এসেছিলাম। হজ্ব কার্য সমাধা করে জিয়ারতের নিয়তে রওজা শরীকে এসেছি। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে আত্মহারা হয়ে ফিরে যেতে মনে চাইল না। তাই বাকী জীবন রওজার
    পাশে কাটিয়ে দেওয়ার নিয়তেই এখানে রয়ে গেছি। আমরা কারও দাওয়াত গ্রহণ করি না। এক আল্লাহর উপরই আমাদের পূর্ণ আস্থা। আমরা তারই উপর নির্ভরশীল। এবাদত, রিয়াজত ও পরকালের চিন্তায় বিভোর থাকাই আমাদের কাজ। কুরআন পাক তিলাওয়াত, নফল নামায ও অজিফা পাঠেই আমাদের সময় শেষ হয়ে যায়। সুতরাং দাওয়াত খাওয়ার সময়টা কোথায়?” উপস্থিত জনগণ তাদের পক্ষ হয়ে বলল যে, “হুজুর! এরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে অবস্থান করছে। এদের মত ভাল লোক আর হয় না। সব সময় দরিদ্র, এতিম ও অসহায় লোকদের প্রচুর পরিমাণে সাহায্য করে। তাদের দানের উপর অত্র লোকদের প্রচুর পরিমাণে জীবিকা নির্ভর করে।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) লোকদের কথা শুনে লোক দুটোর প্রতি পুনরায় গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন। এতে আবারও তিনি নিশ্চিত হলেন, এরা তারাই যাদেরকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন। এবার সুলতান জলদ গম্ভীর স্বরে তাদেরকে বললেন, “সত্য কথা বল। তোমরা কে? কেন, কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকছ?” এবারও তারা পূর্বের কথা পুনরাবৃত্তি করে বলল, “আমরা পশ্চিম দেশ থেকে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য এখানে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈকট্য লাভই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যেই আমরা এখানে অবস্থান করছি।” সুলতান এবার কারও কথায় কান না দিয়ে তাদেরকে সেখানে আটক রাখার নির্দেশ দিলেন, অত:পর স্বয়ং তাদের থাকার জায়গায় গিয়ে খুব ভাল করে অনুসন্ধাণ চালালেন। সেখানে অনেক মাল সম্পদ পাওয়া গেল। পাওয়া গেল বহু দুর্লভ কিতাবপত্র। কিন্তু এমন কোন জিনিষ পাওয়া গেল না, যা দ্বারা স্বপ্নের বিষয়ে কোন প্রকার সহায়তা হয়। নূরুদ্দীন জাঙ্কি(র:) অত্যধিক পেরেশান, অস্থির। এখনও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তিনি সীমাহীন চিন্তিত। এদিকে মদীনায় বহু লোক তাদের জন্য সুপারিশ করছে। তারা আবারও বলছে, “হুজুর! এরা নেককার বুযুর্গ লোক। দিনভর রোজা রাখেন। রাতের অধিকাংশ সময় ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই রওজা শরীফের নিকটে এসে আদায় করেন। প্রতিদিন নিয়মিত জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করতে যান। প্রতি শনিবার মসজিদুল কোবাতে গমন করেন। কেউ কিছু চাইলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।” সুলতান তাদের অবস্থা শুনে সীমাহীন আশ্চর্যবোধ করলেন। তথাপি তিনি হাল ছাড়ছেন না। কক্ষের অংশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ফিরিয়ে যাচ্ছেন। ঘরের প্রতিটি বস্তুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু সন্দেহ করার মত কিছুই তিনি পাচ্ছেন না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) এক পর্যায়ে সঙ্গীদের বললেন- “আচ্ছা, তাদের নামাযের মুসাল্লাটা একটু উঠাও দেখি।” সঙ্গীরা নির্দেশ পালন করল। নামাযের মুসল্লাটি বিছানো ছিল একটি চাটাইয়ের উপর। সুলতান আবার নির্দেশ দিলেন, “চাটাইটিও সরিয়ে ফেল।” চাটাই সরানোর পর দেখা গেল একখানা বিশাল পাথর। সুলতানের নির্দেশে তাও সরানো হল। এবার পাওয়া গেল এমন একটি সুরঙ্গপথ যা বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি তা পৌছে গেছে, রওজা শরীফের অতি সন্নিকটে। এ দৃশ্য অবলোকন করা মাত্র নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বিজলী আহতের ন্যায় চমকে উঠলেন। অস্থিরতার কালো মেঘ ছেয়ে যায় তার সমস্ত হৃদয় আকাশে। ক্রোধে লাল হয়ে যায় গোটা মুখমন্ডল। অবশেষে লোক দুটোকে লক্ষ্য করে ক্ষিপ্ত-ক্রদ্ধ সিংহের ন্যায় গর্জন করে ঝাঁঝাঁলো কন্ঠে বললেন- “তোমরা পরিস্কার ভাষায় সত্যি কথাটা খুলে বল, নইলে এক্ষুনি তোমাদের
    যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুক্ষিন হতে হবে। বল, তোমরা কে? তোমাদরে আসল পরিচয় কী? কারা, কী উদ্দেশ্যে
    তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে?” সুলতানের কথায় তারা ঘাবড়ে গেল। কঠিন বিপদ সামনে দেখে আসল পরিচয় প্রকাশ করে বলল,- “আমরা ইহুদী। দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরকে মুসল শহরের ইহুদীরা সুদক্ষ কর্মী দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রচুর অর্থ সহকারে এখানে পাঠিয়েছে।
    আমাদেরকে এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, আমরা যেন কোন উপায়ে মুহাম্মদ (স)-এর শবদেহ বের করে ইউরোপীয় ইহুদীদের হাতে হস্তান্তর করি। এই দুরূহ কাজে সফল হলে
    তারা আমাদেরকে আরও ধনসম্পদ দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুলতান বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিকল্পনা
    বাস্তবায়নের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলে? কিভাবে তোমরা কাজ করতে?” তারা বলল, “আমাদের নিয়মিত কাজ ছিল, রাত গভীর হলে অল্প পরিমাণ সুড়ঙ্গ খনন করা এবং সাথে ঐ মাটিগুলো চামড়ার মজকে ভর্তি করে অতি সন্তর্পণে মদীনার বাইরে নিয়ে ফেলে আসা। আজ দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত এ মহাপরিকল্পনা
    বাস্তবায়নের কাজে আমরা অনবরত ব্যস্ত আছি। যে সময় আমরা রওজা মোবারকের নিকট পৌছে গেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম যে, এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বনবীর লাশ বের করে নিয়ে যাব, ঠিক সে সময় ধরে আমাদের মনে হল, আকাশ যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। জমীন যেন প্রচন্ড ভূমিকম্পে থরথর করে কাঁপছে। যেন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মহাপ্রলয় সংঘটিত হচ্ছে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় রূপ ধারণ করল, মনে হল সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন আমরা সমাধিস্থ হয়ে পড়ব। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে রেখেছি।” তাদের বক্তব্যে সুলতানের নিকট সব কিছুই পরিস্কার হয়ে গেল। তাই তিনি লোক দুটোকে নযীর বিহীন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন । যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দু:সাহস দেখাতে না পারে। তিনি মসজিদ হতে অর্ধ মাইল দূরে একটি বিশাল ময়দানে বিশ তাহ উঁচু একটি কাঠের মঞ্চ তৈরী করলেন। সাথে সাথে সংবাদ পাঠিয়ে মদীনা ও মদীনার আশেপাশের লোকদেরকে উক্ত ময়দানে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ লক্ষ লোক উক্ত মাঠে সমবেত হল। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অপরাধী লোক দুটোকে লৌহ শিকলে আবদ্ধ করে মঞ্চের উপর বসালেন । তারপর বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে তাদের হীন চক্রান্ত ও ঘৃণ্য তৎপরতার কথা উল্লেখ করলেন। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) -এর বক্তব্য শ্রবণ করে লোকজন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তারা এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করল। সুলতান বললেন- হ্যাঁ, এদের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলকই হবে। তিনি লোকদেরকে বিপুল পরিমাণ লাকড়ী সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তারপর লক্ষ জনতার সামনে সেই ইহুদী দুটোকে মঞ্চের নিম্নভাগে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ভস্ম করে ফেলেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, সেই আগুন নাকি দীর্ঘ এগার দিন পর্যন্ত জ্বলছিল। অত:পর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এক হাজার মন সিসা গলিয়ে রওজা শরীফের চতুষ্পার্শে মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দেন। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ প্রিয় নবীজির কবর পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম না হয়। তারপর তিনি কায়মনোবাক্যে
    আল্লাহ্পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তাকে যে এত বড় খেদমতের জন্য কবুল করা হল সেজন্য সপ্তাহকাল ব্যাপী আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে অবগত হওয়া যায় যে, নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ইন্তিকাল করলে অসীয়ত মোতাবেক তার লাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের অতি নিকটে দাফন করা হয়।

  • পাঁচটি কাজের নসীহত

    ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺑِﺸْﺮُ ﺑْﻦُ ﻫِﻼَﻝٍ ﺍﻟﺼَّﻮَّﺍﻑُ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮِﻱُّ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﻌْﻔَﺮُ ﺑْﻦُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﺭِﻕٍ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : )) ﻣَﻦْ ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﻋَﻨِّﻲ ﻫَﺆُﻻَﺀِ ﺍﻟْﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﻓَﻴَﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﻳُﻌَﻠِّﻢُ ﻣَﻦْ ﻳَﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻬِﻦَّ .(( ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﺃَﻧَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺄَﺧَﺬَ ﺑِﻴَﺪِﻱ ﻓَﻌَﺪَّ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ )) : ﺍﺗَّﻖِ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﺭِﻡَ ﺗَﻜُﻦْ ﺃَﻋْﺒَﺪَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺍﺭْﺽَ ﺑِﻤَﺎ ﻗَﺴَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻚَ ﺗَﻜُﻦْ ﺃَﻏْﻨَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺃَﺣْﺴِﻦْ ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﺭِﻙَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻭَﺃَﺣِﺐَّ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻣَﺎ ﺗُﺤِﺐُّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻚَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ ﻭَﻻَ ﺗُﻜْﺜِﺮِ ﺍﻟﻀَّﺤِﻚَ ﻓَﺈِﻥَّ ﻛَﺜْﺮَﺓَ ﺍﻟﻀَّﺤِﻚِ ﺗُﻤِﻴﺖُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐَ )).
    হযরত অাবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) অামাকে পাঁচটি নসীহত করেছেন,
    ১. হারাম সমূহ ছাড়, তাহলে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় অাবেদ হিসাবে গণ্য হবে।
    ২. অাল্লাহ তোমার তকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক, তাহলে লোকদের মধ্যে সবচেয়ে স্বনির্ভর হতে পারবে।
    ৩. প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর অাচরণ করতে থাক, তাহলে প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে।
    ৪. নিজের জন্য যা পছন্দ কর তা অপরের জন্যও পছন্দ কর, তাহলে প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে।
    ৫. বেশি হাসবেনা কারণ বেশি হাসাহাসি করলে অন্তর মৃত হয়ে যায়।
    (তিরমিযি ২/৫৬)

  • কোরআনের প্রেমিক হও!

    তুমি যদি কাব্য প্রেমিক হও!
    তবে মনে রেখ,
    কোরআনের চেয়ে সুন্দর
    কোন কাব্যগ্রন্থ নাই!!
    তুমি যদি সাহিত্য প্রেমিক হও!
    তবে মনে রেখ,
    কোরআনের চেয়ে সুন্দর
    কোন সাহিত্যগ্রন্থ নাই!!
    তুমি যদি ইতিহাস প্রেমিক হও!
    তবে মনে রেখ,
    কোরআনের চেয়ে সুন্দর
    কোন ইতিহাসগ্রন্থ নাই!!
    তুমি যদি দার্শনিক প্রেমিক হও!
    তবে মনে রেখ,
    কোরআনের চেয়ে সুন্দর
    কোন দার্শনিকগ্রন্থ নাই!!
    তুমি যদি কবিতা প্রেমিক হও!
    তবে মনে রেখ,
    কোরআনের চেয়ে সুন্দর
    কোন কবিতাগ্রন্থ নাই!!
    তুমি যদি গ্রন্থ প্রেমিক হও!
    তবে মনে রেখ,
    কোরআনের চেয়ে সুন্দর
    কোন গ্রন্থ নাই!!
    তুমি যদি……
    তুমি যদি……

  • ঐতিহাসিক ৫ ই মে

    রক্তের দাগ মুছেনিতো আজো ,
    ক্ষত বিক্ষত লাশটি
    পড়ে রয়েছে দেখো ।
    কি ছিল আমার মত
    শত তরুনের অপরাধ ?
    যার তরে হাজারো
    পিতার চোঁখে আজ
    কষ্টের বিষাদ ।
    পা তো বাড়াইনি তোদের
    ভোগের প্রসাদে ,
    তবে কেন গুলি চালালি
    আমার এই বুকে ?
    ৫ মের অবরোধ ও ৬ মের
    কালো রাত,
    ভয়বহ যুদ্ধক্ষেত্র ও
    রক্ত শ্রুতের সেই
    প্রাভাত ।
    ভুলিনি কভু ভুলতে
    পারবোনা এই নির্মম
    ইতিহাস ।

  • “সর্বত্র শান্তির জন্যই জিহাদের বিধান”

    ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
    পৃথিবীর পাহাড় উপত্যকা,
    মরুভুমি গিরিপথ
    আর বিস্তীর্ণ জনপদ,
    সর্বত্রই আজ বিরাজ
    করছে এক সীমাহীন শুন্যতা।
    অশান্তি অন্যায়
    আর চরম নিরাপত্তাহীনতা।
    চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে মরামারি,হানাহানি,খুনাখুনি,
    রাহাজানি,আর জুলুম-নির্যাতনের
    বীভৎস প্রতিযোগিতা।
    জোর যার মুল্লুক তার
    নীতিতে সামর্থ্যবানরা
    হামলে পড়ছে দুর্বলদের উপর।
    বিশেষতঃ মুসলিম জাতি
    আজ শিকার হচ্ছে
    চতুর্মুখি আক্রমনের।
    বিশ্ব কুফরী শক্তির
    নানাবিধ ষড়যন্ত্রের
    কবলে পড়ে হয়ে গেছে দিশেহারা৷
    নিজেদের অবহেলা,অলসতা
    আর কাফিরদের চক্রান্তে
    বহু পুর্বই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কোরআন ও সুন্নাহ থেকে।
    ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ছেড়ে পাশ্চাত্য সভ্যতা সাংস্তকৃতিতে নিজেদেরকে নিমজ্জিত করার ফলে
    হয়ে গেছে তারা মেরুদন্ডহীন।
    বিজাতীয় অনুকরনপ্রীতির
    ফলে তারা হয়ে পড়েছে বোধ উপলব্দিহীন।
    আর এরই অনিবার্য ফলশ্রুতিতে
    মুসলিম জাতির উপর
    একদিকে যেমন অপসাস্কৃতির
    প্রাধান্য বিস্তার করেছে,
    অপরদিকে তেমনি তাদের উপর লাঞ্চনা আর অবমাননার প্রাবল্য ও আধিক্য লাভ করেছে।

    এসব কিছুর একমাত্র কারন হলো,
    মুসলিমরা আল্লাহর এক মহান
    ফরয হুকুম জিহাদকে বর্জন করেছে।
    যেমন কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
    ※ হে ইমানদারগন! তোমাদের কি হলো যে,যখন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য তোমাদের বের হতে বলা হয়,তখন তোমরা মাটি জড়িয়ে ধর,তবে তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনেই সন্তষ্ট হয়ে গেলে? অথচ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী আখিরাতের তুলনায় একেবারেই নগন্য৷
    (সূরা তাওবা ৩৮ নং আয়াত)

    ※ আর তোমাদের কি হলো যে,
    তোমরা আল্লাহর রাস্তায়
    জিহাদ করছো না সেইসব দুর্বল, অসহায় নর-নারী ও শিশুদের পক্ষে,
    যারা বলে হে আমাদের রব!
    এই জনপদ থেকে আমাদেরকে বের করে নিয়ে যাও,যার অধিবাসীরা জালেম৷ আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন বন্ধু,অভিভাবক এবং সাহায্যকারী পাঠাও৷
    (সূরা নিসা আয়াত ৭৫)

    ※ আর নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলিমদেরকে জিহাদের বিধান দেয়া হলো। কেননা তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন করা হয়েছে। আর এ কাজে তাদের সাহায্যের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট
    (সুরা-হজ আয়াত ২২)

    ※ আর তোমরা কাফির মুশরিকদের
    বিরুদ্ধে জিহাদ করতে থাকো,
    যতক্ষণ না ফিতনা-ফাসাদ নির্মুল হয়
    এবং সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তায়ালার দীন কায়েম হয়। (সুরা-বাকারা ১৯৩)

    ※ হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তার নৈকট্য অনুসন্ধান করো, আর তার রাস্তায় জিহাদ করো,
    যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো৷
    (সূরা মায়িদা আয়াত ৩৫)

    ※ তোমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয়েছে। যদিও তা তোমাদের কাছে তিক্ত মনে হয়। সম্ভবত,বিষয়টা তোমাদের
    কাছে অপছন্দনীয়,অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা-বাকারা ২১৬)

    ※ আর যদি আল্লাহ তায়ালা
    জগতবাসীর মাঝে একদল
    মুজাহিদ দ্বারা অপরদল কাফিরদেরকে জিহাদের মাধ্যমে দমিয়ে না রাখতেন,
    তবে সমগ্র বিশ্বজগতে বিশৃংখলা
    ছড়িয়ে পড়তো।কিন্তু আল্লাহ তায়ালা
    জগতবাসীর উপর অত্যন্ত দয়াবান।
    আর এ কারনেই তিনি জগতবাসীকে যাবতীয় বিশৃংখলা থেকে বাঁচাতে
    জিহাদের মত কার্যকরী বিধান দান করেছেন।(সুরা-বাকারা আয়াত ২৫১)

    মুলতঃ আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের
    জান-মাল,ইজ্জত-আব্রু,আত্নরহ্মা,
    মানবতা এবং মনুষ্যত্ব ঠিক রাখার জন্যই জিহাদের বিধান দান করেছেন।
    সুতরাং জিহাদ ফরয বিধান৷
    আর সর্বাবস্থায় অন্তরে জিহাদের
    নিয়ত ও তামান্না রাখা ওয়াজিব৷

  • কতই না বিনয়ী ছিলেন আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

    عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ خُرُوجًا إِذَا بُعِثُوا وَأَنَا خَطِيبُهُمْ إِذَا وَفَدُوا وَأَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا لِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَأَنَا أَكْرَمُ وَلَدِ آدَمَ عَلَى رَبِّي وَلاَ فَخْرَ ‏”‏
    আনাস ইবনু মালিক রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ
    তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন লোকদেরকে উঠানো হবে কিয়ামাতের মাঠে, সেদিন আমিই সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশকারী হব। যখন সকল মানুষ আল্লাহ্ তা’আলার আদালতে একত্র হবে, তখন আমি তাদের ব্যাপারে বক্তব্য উত্থাপন করব। তারা যখন নিরাশ ও হতাশাগ্রস্ত হবে তখন আমিই তাদের সুশংবাদ প্রদানকারী হব। সেদিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতেই থাকবে। আমার প্রতিপালকের নিকট আদম-সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচাইতে সম্মানিত৷ তবুও এতে গর্বের কিছু নেই। সনদ হাসান গরীব৷ (সুনানে তিরমিযী ৩৬১০ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ৫৭৬৫ হাদীস৷)

  • বাঁধনহারা শোক

    বাঁধনহারা শোক সিমাহীন কাঁন্না,
    আঁখিতে অশ্রু বাঁধ মানেনা৷
    আক্ষেপের যাতনা আর সয়না,
    কোথায় আছো প্রিয়তম শাহে মাদিনা৷

    কত যে তোমার পানে চেয়ে থেকেছি,
    কত যে তোমার লাগি অশ্রু ঢেলেছি৷
    কত যে নির্ঘুম রাত জেগেছি!
    তোমাকে পাবার আশায় শাহে মাদিনা৷

    তুমি ছাড়া আমার জীবন মরুভূমি,
    তুমি ছাড়া হাহাকার হৃদয় জমি৷
    তুমি ছাড়া কাটেনা মোর দিবসযামী!
    স্বপ্নে হলেও দেখা দাও এইতো কামনা৷

  • মহানবী (স:)-এর ১২টি প্রিয় খাবার

    প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তাঁর গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। এসব খাবার নবীজী (স:) আহার করতেন এবং দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী (স:) এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ ও নির্ভুল, নিরঙ্কুশভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
    নবীজী (স:) এর খাবারের মধ্যে রয়েছে
    ১/বার্লি৷
    ২/খেজুর৷
    ৩/ডুমুর৷
    ৪/আঙ্গুর৷
    ৫/মধু৷
    ৬/তরমুজ৷
    ৭/দুধ৷
    ৮/মাশরুম৷
    ৯/অলিভ অয়েল৷
    ১০/ডালিম বা বেদানা৷
    ১১/ভিনেগার৷
    ১২/পানি।

    খাবারের গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো:
    ১নং খাবার বার্লি (জাউ):
    এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায়
    বিশেষ উপকারী।
    :
    ২নং খাবার খেজুর:
    খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে। নবীজী (স:) বলতেন, যে বাড়ীতে খেজুর নেই সে বাড়ীতে কোন খাবার নেই। এমনকি সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আল্লাহর নবী সা: ৷
    :
    ৩নং খাবার:ফিগস বা ডুমুর:
    ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণ সম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার।
    :
    ৪নং খাবার আঙ্গুর:
    নবীজী (স:) আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভাল বাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাত্ক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।
    :
    ৫নং খাবার মধু:
    মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।
    :
    ৬নং খাবার তরমুজ:
    সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নবীজী (স:) তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবতী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।
    :
    ৭নং খাবার দুধ:
    দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন নবীজী (স:) দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানীরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে দেখেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক।
    :
    ৮নং খাবার মাশরুম:
    আজ বিশ্বজুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) মাশরুম চোখের জন্য ভালো এবং এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক এবং মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীর প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।
    :
    ৯নং খাবার: অলিভ অয়েল:
    অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ বহুমুখী। তবে আজ মানুষের ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও বয়স ধরে রাখার জন্য যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন তাদের দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য ভালো এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।
    :
    ১০নং খাবার ডালিম-বেদানা:
    বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে এবং নবীজী (স:) বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে।
    :
    ১১নং খাবার ভিনেগার:
    ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। নবীজী (স:) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ আজকের এই মডার্ন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্ট বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।
    :
    ১২-নং খাবার পানি:
    পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন। এবং পানির অপর
    নামকে জীবন বলেও ঘোষনা করেন৷

Back to top button