রচনা-প্রবন্ধ

জুমুআর নামাজের ফজিলত সমুহঃ

মুফতী তাহমীদ শামী

1. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“জুম’আর দিন মসজিদের দরজায়
ফেরেশতা এসে হাজির হয়।
সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে
আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে।
প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকেন
তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা
আসেন তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে
যারা আসেন তাদের জন্য ছাগল,
চতুর্থবারে যারা আসেন তাদের জন্য
মুরগী, ও সর্বশেষ পঞ্চমবারে যারা
আগমন করেন তাদের জন্য ডিম
কুরবানী বা দান করার সমান সওাব্ব
লিখে থাকেন। আর যখন ইমাম খুৎবা
দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়েন
ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ
করে খুৎবা শুনতে বসে যান।” (বুখারী
৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)
2) দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়ঃ
জুম’আর দিনের আদব যারা রক্ষা করে
তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে
দেওয়া হয়।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
‘যে ব্যাক্তি ভালভাবে পবিত্র হল
অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ
দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল,
তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী এ সাত
দিনের সাথে আরও তিনদিন যোগ
করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে
দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে খুৎবার সময় যে
ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু
নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক
কাজ করল।’ (মুসলিমঃ ৮৫৭)
3) জুম’আর আদব রক্ষাকারীর দশ দিনের
গুনাহ মুছে যায়ঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক
হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে
যারা মসজিদে প্রবেশের পর
তামাশা করে, তারা বিনিময়ে
তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ)
দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে
যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে
দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ
যাকে চান তাকে কিছু দেন আর
যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয়
প্রকার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির
হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে
খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে
সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয়
না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ
আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ
দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা
মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)
4) প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল
রোজা ও এক বছরের সারারাত
তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়ঃ
যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর
সালাত আদায় করে তার প্রতিটি
পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো
এক বছরের রোজা পালন এবং রাত
জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব
লিখা হয়।
আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ)
থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন,
“জুমা’আর দিন যে ব্যাক্তি গোসল
করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে
স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং)
নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে
মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও
প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে,
পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ
কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়),
ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে,
মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে,
কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে
না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি
পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী
রোজা পালন ও সারা বছর রাত
জেগে ইবাদত করার সমতুল্য
সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪,
১৬২১৮)
5) দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়ের
গুনাহের কাফফারাঃ
জুম’আর সালাত জুম’আ
আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর
মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম’আ
থেকে পরবর্তী জুম’আ, এক রমজান
থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী
সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা)
গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে
যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে
নিজেকে বাঁচিয়ে
রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button