হিজরী ৫৫৭ সালের একরাতের ঘটনা। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ মুনাজাতের পর ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারিদিক নিরব নিস্তব্দ। কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি স্বপ্নে দেখলেন স্বয়ং রাসুল (স) তার কামরায় উপস্থিত। তিনি কোন ভূমিকা ছাড়াই দু’জন নীল চক্ষু বিশিষ্ট লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! (এরা আমাকে বিরক্ত করছে), এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গোটা কক্ষময় পায়চারি করতে লাগলেন। সাথে সাথে তার মাথায় বিভিন্ন প্রকার চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। হৃদয় রাজ্যে ভীড় জমাল হাজারও রকমের প্রশ্ন। তিনি ভাবলেন- আল্লাহর রাসূল তো এখন কবরে জীবনে! তার সাথে অভিশপ্ত ইহুদীরা এমন কী ষড়যন্ত্র করতে পারে? কী হতে পারে তাদের চক্রান্তের স্বরুপ?
তারা কি রাসূল (স)-এর কোন ক্ষতি করতে চায়? চায় কি পর জীবনেও তার সাথে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হতে? আমাকে দু’জন ইহুদীর চেহারা দেখানো হল কেন? শয়তান তো আল্লাহর নবীর অবয়বে আসতে পারে না। তাহলে কি আমি সত্য স্বপ্ন দেখেছি? এসব ভাবতে ভাবতে সুলতান অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি অজু- গোসল সেরে তাড়াতাড়ি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর মহান আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় অনেকক্ষণ মুনাজাত করলেন। সুলতানের এমন কেউ ছিল না যার সাথে তিনি পরামর্শ করবেন। আবার এ স্বপ্নও এমন নয় যে, যার তার কাছে ব্যক্ত করবেন। অবশেষে আবারও তিনি শয়ন করলেন। দীর্ঘ সময় পর যখনই তার একটু ঘুমের ভাব এলো, সঙ্গে সঙ্গে এবারও তিনি প্রথম বারের ন্যায় নবী করীম (সা)কে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি তাকে পূর্বের ন্যায় বলছেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এবার নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) “আল্লাহ্, আল্লাহ্” বলতে বলতে বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তারপর কোথায় যাবেন, কী করবেন কিছুই ঠিক করতে পা পেরে দ্রুত অজু-গোসল শেষ করে মুসল্লায় দাড়িয়ে অত্যধিক ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দু’রাকাত নামায আদায় করলেন এবং দীর্ঘ সময় অশ্রু সিক্ত নয়নে দোয়া করলেন। রাতের অনেক অংশ এখনও বাকী। সমগ্র পৃথিবী যেন কি এক বিপদের সম্মুখীন হয়ে নিঝুম হয়ে আছে। কী এক
মহা বিপর্যয় যেন পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হতে যাচ্ছে । কঠিন বিপদের ঘনঘটা যেন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মুখ তুলে আকাশ পানে তাকালেন। মনে হলো স্বপ্ন দেখা ঐ দু’জন লোক যেন তাকে ধরার জন্য দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। তিনি সেই চেহারা দুটোকে মনের মনিকোষ্ঠা থেকে সরাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হল না। শেষ পর্যন্তু নিরুপায় হয়ে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) চোখ বন্ধ করে আবারও তন্দ্রা-বিভোর হয়ে শুয়ে পড়লেন। শোয়ার পর তৃতীয়বারও তিনি একই ধরনের স্বপ্ন দেখলেন। রাসূল (সা)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ক্রন্দনরত অবস্থায় বিছানা পরিত্যাগ করলেন। এবার তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, নিশ্চয়ই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক কোন না মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি তড়িৎ গতিতে অজু-গোসল করে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষে প্রধানমন্ত্রী
জালালুদ্দীন মৌশুলীর নিকট গিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বপ্নের বিবরণ শুনালেন এবং এ মুহূর্তে কী করা যায়, এ ব্যাপারে সুচিন্তিত পরামর্শ চাইলেন। জালালুদ্দীন মৌশুলী স্বপ্নের বৃত্তান্ত অবগত হয়ে বললে, “হুজুর! আপনি এখনও বসে আছেন? নিশ্চয়ই প্রিয় নবীর রওজা মোবারক কোন কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তাই এ বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য বারবার তিনি আপনাকে স্মরণ করছেন। অতএব, আমার পরামর্শ হল, সময় নষ্ট না করে অতিসত্তর মদীনার পথে অগ্রসর হোন।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) আর কালবিলম্ব করলেন না। তিনি ষোল হাজার দ্রুতগামী অশ্রারোহী সৈন্য এবং বিপুল ধন সম্পদ নিয়ে বাগদাদ থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। রাত দিন সফর করে ১৭তম দিনে মদিনা শরীফে পৌঁছলেন এবং সৈন্য বাহিনীসহ গোছল ও অজু সেরে দু’ রাকাত নফল নামাজান্তে দীর্ঘ সময় ধরে মোনাজাত করলেন। তারপর সৈন্য বাহিনী দ্বারা মদিনা ঘেরাও করে ফেললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আদেশ জারী করে দিলেন যে, বাইরের লোক মদিনায় আসতে পারবে, কিন্তু সাবধান! মদিনা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবে না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) জুম্মার খোৎবা দান করলেন এবং ঘোষণা দিলেন, “আমি মদিনাবাসীকে
দাওয়াত দিয়ে এক বেলা খানা খাওয়াতে চাই। আমার অভিলাষ, সকলেই যেন এই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করে।” সুলতান মদিনাবাসীকে
আপ্যায়নের জন্য বিশাল আয়োজন করলেন এবং প্রত্যেকের নিকট অনুরোধ করলেন, মদিনার কোন লোক যেন এই দাওয়াত থেকে বঞ্চিত না হয়। নির্ধারিত সময়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু হল। প্রত্যেকেই
তৃপ্তিসহকারে খানা খেল। যারা দুরদুরান্ত থেকে আসতে পারেনি তাদেরকেও শেষ পর্যন্ত ঘোড়া ও গাধার পিঠে চড়িয়ে আনা হল। এভাবে প্রায় পনের দিন পর্যন্ত অগনিত লোক শাহী দাওয়াতে শরিক হওয়ার পর সুলতান জিজ্ঞাসা করলেন আরও কেউ অবশিষ্ট আছে কি? থাকলে তাদেরকেও ডেকে আন। এই নির্দেশের পর সুলতান বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হলেন যে, আর কোন লোক দাওয়াতে আসতে বাকী নেই। একথা শুনে তিনি সীমাহীন অস্থির হয়ে পড়লেন। চিন্তার অথৈই সাগরে হারিয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, যদি আর কোন লোক দাওয়াতে শরীক হতে বাকী না থাকে তাহলে সেই অভিশপ্ত লোক দু’জন গেল কোথায়? আমি তো দাওয়াতে শরীক হওয়া প্রতিটি লোককেই অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু কারও চেহারাইতো স্বপ্নে দেখা লোক দুটোর চেহারার সাথে মিলল না, তাহলে কি আমার মিশন ব্যর্থ হবে? আমি কি ঐ কুচক্রী লোক দুটোকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে সক্ষম হব না? এসব চিন্তায় বেশ কিছুক্ষণ তিনি ডুবে রইলেন। তারপর আবারও তিনি নতুন করে ঘোষণা করলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মদিনার সকল লোকদের দাওয়াত খাওয়া এখনও শেষ হয়নি। অতএব সবাইকে আবারও অনুরোধ করা যাচ্ছে, যারা এখনও আসেনি তাদেরকে যেন অনুসন্ধান করে দাওয়াতে শরীক করা হয়। একথা শ্রবণে মদিনাবাসী সকলেই এক বাক্যে বলে উঠল, “হুজুর! মদিনার আশে পাশে এমন কোন লোক বাকী নেই, যারা আপনার দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করেনি।” তখন নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বলিষ্ঠ কন্ঠে বললেন, “আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। আপনারা ভাল ভাবে অনুসন্ধান করুন।” সুলতানের এই দৃঢ়তা দেখে লক্ষাধিক জনতার মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ করে বলে উঠল, “হুজুর! আমার জানামতে দু’জন লোক সম্ভবত এখনও বাকী আছে। তারা আল্লাহ্ওয়ালা বুযুর্গ মানুষ। জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে হাদীয়া তোহফা গ্রহণ করেন না, এমনকি কারও দাওয়াতেও শরীক হন না। তারা নিজেরাই লোকদেরকে অনেক দান-খয়রাত করে থাকেন। নীরবতাই অধিক পছন্দ করেন। লোক সমাজে উপস্থিত হওয়া মোটেও ভালবাসেন না।” লোকটির বক্তব্য শুনে সুলতানের চেহারায় একটি বিদ্যুত চমক খেলে গেল। তিনি কাল বিলম্ব না করে কয়েকজন লোক সহকারে ঐ লোক দুটোর আবাসস্থলে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখলেন, এতো সেই দু’জন, যাদেরকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। তাদেরকে দেখে সুলতানের দু’চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ? তোমরা সুলতানের দাওয়াতে শরীক হলে না কেন?” লোক দুটো নিজের পরিচয় গোপন করে বলল, “আমরা মুসাফির। হজ্বের উদ্দেশ্য এসেছিলাম। হজ্ব কার্য সমাধা করে জিয়ারতের নিয়তে রওজা শরীকে এসেছি। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে আত্মহারা হয়ে ফিরে যেতে মনে চাইল না। তাই বাকী জীবন রওজার
পাশে কাটিয়ে দেওয়ার নিয়তেই এখানে রয়ে গেছি। আমরা কারও দাওয়াত গ্রহণ করি না। এক আল্লাহর উপরই আমাদের পূর্ণ আস্থা। আমরা তারই উপর নির্ভরশীল। এবাদত, রিয়াজত ও পরকালের চিন্তায় বিভোর থাকাই আমাদের কাজ। কুরআন পাক তিলাওয়াত, নফল নামায ও অজিফা পাঠেই আমাদের সময় শেষ হয়ে যায়। সুতরাং দাওয়াত খাওয়ার সময়টা কোথায়?” উপস্থিত জনগণ তাদের পক্ষ হয়ে বলল যে, “হুজুর! এরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে অবস্থান করছে। এদের মত ভাল লোক আর হয় না। সব সময় দরিদ্র, এতিম ও অসহায় লোকদের প্রচুর পরিমাণে সাহায্য করে। তাদের দানের উপর অত্র লোকদের প্রচুর পরিমাণে জীবিকা নির্ভর করে।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) লোকদের কথা শুনে লোক দুটোর প্রতি পুনরায় গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন। এতে আবারও তিনি নিশ্চিত হলেন, এরা তারাই যাদেরকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন। এবার সুলতান জলদ গম্ভীর স্বরে তাদেরকে বললেন, “সত্য কথা বল। তোমরা কে? কেন, কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকছ?” এবারও তারা পূর্বের কথা পুনরাবৃত্তি করে বলল, “আমরা পশ্চিম দেশ থেকে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য এখানে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈকট্য লাভই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যেই আমরা এখানে অবস্থান করছি।” সুলতান এবার কারও কথায় কান না দিয়ে তাদেরকে সেখানে আটক রাখার নির্দেশ দিলেন, অত:পর স্বয়ং তাদের থাকার জায়গায় গিয়ে খুব ভাল করে অনুসন্ধাণ চালালেন। সেখানে অনেক মাল সম্পদ পাওয়া গেল। পাওয়া গেল বহু দুর্লভ কিতাবপত্র। কিন্তু এমন কোন জিনিষ পাওয়া গেল না, যা দ্বারা স্বপ্নের বিষয়ে কোন প্রকার সহায়তা হয়। নূরুদ্দীন জাঙ্কি(র:) অত্যধিক পেরেশান, অস্থির। এখনও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তিনি সীমাহীন চিন্তিত। এদিকে মদীনায় বহু লোক তাদের জন্য সুপারিশ করছে। তারা আবারও বলছে, “হুজুর! এরা নেককার বুযুর্গ লোক। দিনভর রোজা রাখেন। রাতের অধিকাংশ সময় ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই রওজা শরীফের নিকটে এসে আদায় করেন। প্রতিদিন নিয়মিত জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করতে যান। প্রতি শনিবার মসজিদুল কোবাতে গমন করেন। কেউ কিছু চাইলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।” সুলতান তাদের অবস্থা শুনে সীমাহীন আশ্চর্যবোধ করলেন। তথাপি তিনি হাল ছাড়ছেন না। কক্ষের অংশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ফিরিয়ে যাচ্ছেন। ঘরের প্রতিটি বস্তুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু সন্দেহ করার মত কিছুই তিনি পাচ্ছেন না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) এক পর্যায়ে সঙ্গীদের বললেন- “আচ্ছা, তাদের নামাযের মুসাল্লাটা একটু উঠাও দেখি।” সঙ্গীরা নির্দেশ পালন করল। নামাযের মুসল্লাটি বিছানো ছিল একটি চাটাইয়ের উপর। সুলতান আবার নির্দেশ দিলেন, “চাটাইটিও সরিয়ে ফেল।” চাটাই সরানোর পর দেখা গেল একখানা বিশাল পাথর। সুলতানের নির্দেশে তাও সরানো হল। এবার পাওয়া গেল এমন একটি সুরঙ্গপথ যা বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি তা পৌছে গেছে, রওজা শরীফের অতি সন্নিকটে। এ দৃশ্য অবলোকন করা মাত্র নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বিজলী আহতের ন্যায় চমকে উঠলেন। অস্থিরতার কালো মেঘ ছেয়ে যায় তার সমস্ত হৃদয় আকাশে। ক্রোধে লাল হয়ে যায় গোটা মুখমন্ডল। অবশেষে লোক দুটোকে লক্ষ্য করে ক্ষিপ্ত-ক্রদ্ধ সিংহের ন্যায় গর্জন করে ঝাঁঝাঁলো কন্ঠে বললেন- “তোমরা পরিস্কার ভাষায় সত্যি কথাটা খুলে বল, নইলে এক্ষুনি তোমাদের
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুক্ষিন হতে হবে। বল, তোমরা কে? তোমাদরে আসল পরিচয় কী? কারা, কী উদ্দেশ্যে
তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে?” সুলতানের কথায় তারা ঘাবড়ে গেল। কঠিন বিপদ সামনে দেখে আসল পরিচয় প্রকাশ করে বলল,- “আমরা ইহুদী। দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরকে মুসল শহরের ইহুদীরা সুদক্ষ কর্মী দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রচুর অর্থ সহকারে এখানে পাঠিয়েছে।
আমাদেরকে এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, আমরা যেন কোন উপায়ে মুহাম্মদ (স)-এর শবদেহ বের করে ইউরোপীয় ইহুদীদের হাতে হস্তান্তর করি। এই দুরূহ কাজে সফল হলে
তারা আমাদেরকে আরও ধনসম্পদ দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুলতান বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিকল্পনা
বাস্তবায়নের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলে? কিভাবে তোমরা কাজ করতে?” তারা বলল, “আমাদের নিয়মিত কাজ ছিল, রাত গভীর হলে অল্প পরিমাণ সুড়ঙ্গ খনন করা এবং সাথে ঐ মাটিগুলো চামড়ার মজকে ভর্তি করে অতি সন্তর্পণে মদীনার বাইরে নিয়ে ফেলে আসা। আজ দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত এ মহাপরিকল্পনা
বাস্তবায়নের কাজে আমরা অনবরত ব্যস্ত আছি। যে সময় আমরা রওজা মোবারকের নিকট পৌছে গেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম যে, এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বনবীর লাশ বের করে নিয়ে যাব, ঠিক সে সময় ধরে আমাদের মনে হল, আকাশ যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। জমীন যেন প্রচন্ড ভূমিকম্পে থরথর করে কাঁপছে। যেন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মহাপ্রলয় সংঘটিত হচ্ছে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় রূপ ধারণ করল, মনে হল সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন আমরা সমাধিস্থ হয়ে পড়ব। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে রেখেছি।” তাদের বক্তব্যে সুলতানের নিকট সব কিছুই পরিস্কার হয়ে গেল। তাই তিনি লোক দুটোকে নযীর বিহীন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন । যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দু:সাহস দেখাতে না পারে। তিনি মসজিদ হতে অর্ধ মাইল দূরে একটি বিশাল ময়দানে বিশ তাহ উঁচু একটি কাঠের মঞ্চ তৈরী করলেন। সাথে সাথে সংবাদ পাঠিয়ে মদীনা ও মদীনার আশেপাশের লোকদেরকে উক্ত ময়দানে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ লক্ষ লোক উক্ত মাঠে সমবেত হল। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অপরাধী লোক দুটোকে লৌহ শিকলে আবদ্ধ করে মঞ্চের উপর বসালেন । তারপর বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে তাদের হীন চক্রান্ত ও ঘৃণ্য তৎপরতার কথা উল্লেখ করলেন। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) -এর বক্তব্য শ্রবণ করে লোকজন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তারা এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করল। সুলতান বললেন- হ্যাঁ, এদের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলকই হবে। তিনি লোকদেরকে বিপুল পরিমাণ লাকড়ী সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তারপর লক্ষ জনতার সামনে সেই ইহুদী দুটোকে মঞ্চের নিম্নভাগে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ভস্ম করে ফেলেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, সেই আগুন নাকি দীর্ঘ এগার দিন পর্যন্ত জ্বলছিল। অত:পর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এক হাজার মন সিসা গলিয়ে রওজা শরীফের চতুষ্পার্শে মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দেন। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ প্রিয় নবীজির কবর পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম না হয়। তারপর তিনি কায়মনোবাক্যে
আল্লাহ্পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তাকে যে এত বড় খেদমতের জন্য কবুল করা হল সেজন্য সপ্তাহকাল ব্যাপী আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে অবগত হওয়া যায় যে, নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ইন্তিকাল করলে অসীয়ত মোতাবেক তার লাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের অতি নিকটে দাফন করা হয়।
-
বিশ্বনবী (সাঃ) এর রওজা থেকে দেহাবশেষ চুরির চেষ্টার ভয়ংকর ঘটনা
-
পাঁচটি কাজের নসীহত
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺑِﺸْﺮُ ﺑْﻦُ ﻫِﻼَﻝٍ ﺍﻟﺼَّﻮَّﺍﻑُ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮِﻱُّ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﻌْﻔَﺮُ ﺑْﻦُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﺭِﻕٍ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : )) ﻣَﻦْ ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﻋَﻨِّﻲ ﻫَﺆُﻻَﺀِ ﺍﻟْﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﻓَﻴَﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﻳُﻌَﻠِّﻢُ ﻣَﻦْ ﻳَﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻬِﻦَّ .(( ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﺃَﻧَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺄَﺧَﺬَ ﺑِﻴَﺪِﻱ ﻓَﻌَﺪَّ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ )) : ﺍﺗَّﻖِ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﺭِﻡَ ﺗَﻜُﻦْ ﺃَﻋْﺒَﺪَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺍﺭْﺽَ ﺑِﻤَﺎ ﻗَﺴَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻚَ ﺗَﻜُﻦْ ﺃَﻏْﻨَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺃَﺣْﺴِﻦْ ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﺭِﻙَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻭَﺃَﺣِﺐَّ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻣَﺎ ﺗُﺤِﺐُّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻚَ ﺗَﻜُﻦْ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ ﻭَﻻَ ﺗُﻜْﺜِﺮِ ﺍﻟﻀَّﺤِﻚَ ﻓَﺈِﻥَّ ﻛَﺜْﺮَﺓَ ﺍﻟﻀَّﺤِﻚِ ﺗُﻤِﻴﺖُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐَ )).
হযরত অাবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) অামাকে পাঁচটি নসীহত করেছেন,
১. হারাম সমূহ ছাড়, তাহলে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় অাবেদ হিসাবে গণ্য হবে।
২. অাল্লাহ তোমার তকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক, তাহলে লোকদের মধ্যে সবচেয়ে স্বনির্ভর হতে পারবে।
৩. প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর অাচরণ করতে থাক, তাহলে প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে।
৪. নিজের জন্য যা পছন্দ কর তা অপরের জন্যও পছন্দ কর, তাহলে প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে।
৫. বেশি হাসবেনা কারণ বেশি হাসাহাসি করলে অন্তর মৃত হয়ে যায়।
(তিরমিযি ২/৫৬) -
কোরআনের প্রেমিক হও!
তুমি যদি কাব্য প্রেমিক হও!
তবে মনে রেখ,
কোরআনের চেয়ে সুন্দর
কোন কাব্যগ্রন্থ নাই!!
তুমি যদি সাহিত্য প্রেমিক হও!
তবে মনে রেখ,
কোরআনের চেয়ে সুন্দর
কোন সাহিত্যগ্রন্থ নাই!!
তুমি যদি ইতিহাস প্রেমিক হও!
তবে মনে রেখ,
কোরআনের চেয়ে সুন্দর
কোন ইতিহাসগ্রন্থ নাই!!
তুমি যদি দার্শনিক প্রেমিক হও!
তবে মনে রেখ,
কোরআনের চেয়ে সুন্দর
কোন দার্শনিকগ্রন্থ নাই!!
তুমি যদি কবিতা প্রেমিক হও!
তবে মনে রেখ,
কোরআনের চেয়ে সুন্দর
কোন কবিতাগ্রন্থ নাই!!
তুমি যদি গ্রন্থ প্রেমিক হও!
তবে মনে রেখ,
কোরআনের চেয়ে সুন্দর
কোন গ্রন্থ নাই!!
তুমি যদি……
তুমি যদি…… -
ঐতিহাসিক ৫ ই মে
রক্তের দাগ মুছেনিতো আজো ,
ক্ষত বিক্ষত লাশটি
পড়ে রয়েছে দেখো ।
কি ছিল আমার মত
শত তরুনের অপরাধ ?
যার তরে হাজারো
পিতার চোঁখে আজ
কষ্টের বিষাদ ।
পা তো বাড়াইনি তোদের
ভোগের প্রসাদে ,
তবে কেন গুলি চালালি
আমার এই বুকে ?
৫ মের অবরোধ ও ৬ মের
কালো রাত,
ভয়বহ যুদ্ধক্ষেত্র ও
রক্ত শ্রুতের সেই
প্রাভাত ।
ভুলিনি কভু ভুলতে
পারবোনা এই নির্মম
ইতিহাস । -
“সর্বত্র শান্তির জন্যই জিহাদের বিধান”
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
পৃথিবীর পাহাড় উপত্যকা,
মরুভুমি গিরিপথ
আর বিস্তীর্ণ জনপদ,
সর্বত্রই আজ বিরাজ
করছে এক সীমাহীন শুন্যতা।
অশান্তি অন্যায়
আর চরম নিরাপত্তাহীনতা।
চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে মরামারি,হানাহানি,খুনাখুনি,
রাহাজানি,আর জুলুম-নির্যাতনের
বীভৎস প্রতিযোগিতা।
জোর যার মুল্লুক তার
নীতিতে সামর্থ্যবানরা
হামলে পড়ছে দুর্বলদের উপর।
বিশেষতঃ মুসলিম জাতি
আজ শিকার হচ্ছে
চতুর্মুখি আক্রমনের।
বিশ্ব কুফরী শক্তির
নানাবিধ ষড়যন্ত্রের
কবলে পড়ে হয়ে গেছে দিশেহারা৷
নিজেদের অবহেলা,অলসতা
আর কাফিরদের চক্রান্তে
বহু পুর্বই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কোরআন ও সুন্নাহ থেকে।
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ছেড়ে পাশ্চাত্য সভ্যতা সাংস্তকৃতিতে নিজেদেরকে নিমজ্জিত করার ফলে
হয়ে গেছে তারা মেরুদন্ডহীন।
বিজাতীয় অনুকরনপ্রীতির
ফলে তারা হয়ে পড়েছে বোধ উপলব্দিহীন।
আর এরই অনিবার্য ফলশ্রুতিতে
মুসলিম জাতির উপর
একদিকে যেমন অপসাস্কৃতির
প্রাধান্য বিস্তার করেছে,
অপরদিকে তেমনি তাদের উপর লাঞ্চনা আর অবমাননার প্রাবল্য ও আধিক্য লাভ করেছে।
‘
এসব কিছুর একমাত্র কারন হলো,
মুসলিমরা আল্লাহর এক মহান
ফরয হুকুম জিহাদকে বর্জন করেছে।
যেমন কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
※ হে ইমানদারগন! তোমাদের কি হলো যে,যখন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য তোমাদের বের হতে বলা হয়,তখন তোমরা মাটি জড়িয়ে ধর,তবে তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনেই সন্তষ্ট হয়ে গেলে? অথচ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী আখিরাতের তুলনায় একেবারেই নগন্য৷
(সূরা তাওবা ৩৮ নং আয়াত)
‘
※ আর তোমাদের কি হলো যে,
তোমরা আল্লাহর রাস্তায়
জিহাদ করছো না সেইসব দুর্বল, অসহায় নর-নারী ও শিশুদের পক্ষে,
যারা বলে হে আমাদের রব!
এই জনপদ থেকে আমাদেরকে বের করে নিয়ে যাও,যার অধিবাসীরা জালেম৷ আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন বন্ধু,অভিভাবক এবং সাহায্যকারী পাঠাও৷
(সূরা নিসা আয়াত ৭৫)
‘
※ আর নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলিমদেরকে জিহাদের বিধান দেয়া হলো। কেননা তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন করা হয়েছে। আর এ কাজে তাদের সাহায্যের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট
(সুরা-হজ আয়াত ২২)
‘
※ আর তোমরা কাফির মুশরিকদের
বিরুদ্ধে জিহাদ করতে থাকো,
যতক্ষণ না ফিতনা-ফাসাদ নির্মুল হয়
এবং সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তায়ালার দীন কায়েম হয়। (সুরা-বাকারা ১৯৩)
‘
※ হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তার নৈকট্য অনুসন্ধান করো, আর তার রাস্তায় জিহাদ করো,
যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো৷
(সূরা মায়িদা আয়াত ৩৫)
‘
※ তোমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয়েছে। যদিও তা তোমাদের কাছে তিক্ত মনে হয়। সম্ভবত,বিষয়টা তোমাদের
কাছে অপছন্দনীয়,অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা-বাকারা ২১৬)
‘
※ আর যদি আল্লাহ তায়ালা
জগতবাসীর মাঝে একদল
মুজাহিদ দ্বারা অপরদল কাফিরদেরকে জিহাদের মাধ্যমে দমিয়ে না রাখতেন,
তবে সমগ্র বিশ্বজগতে বিশৃংখলা
ছড়িয়ে পড়তো।কিন্তু আল্লাহ তায়ালা
জগতবাসীর উপর অত্যন্ত দয়াবান।
আর এ কারনেই তিনি জগতবাসীকে যাবতীয় বিশৃংখলা থেকে বাঁচাতে
জিহাদের মত কার্যকরী বিধান দান করেছেন।(সুরা-বাকারা আয়াত ২৫১)
‘
মুলতঃ আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের
জান-মাল,ইজ্জত-আব্রু,আত্নরহ্মা,
মানবতা এবং মনুষ্যত্ব ঠিক রাখার জন্যই জিহাদের বিধান দান করেছেন।
সুতরাং জিহাদ ফরয বিধান৷
আর সর্বাবস্থায় অন্তরে জিহাদের
নিয়ত ও তামান্না রাখা ওয়াজিব৷ -
কতই না বিনয়ী ছিলেন আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ خُرُوجًا إِذَا بُعِثُوا وَأَنَا خَطِيبُهُمْ إِذَا وَفَدُوا وَأَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا لِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَأَنَا أَكْرَمُ وَلَدِ آدَمَ عَلَى رَبِّي وَلاَ فَخْرَ ”
আনাস ইবনু মালিক রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন লোকদেরকে উঠানো হবে কিয়ামাতের মাঠে, সেদিন আমিই সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশকারী হব। যখন সকল মানুষ আল্লাহ্ তা’আলার আদালতে একত্র হবে, তখন আমি তাদের ব্যাপারে বক্তব্য উত্থাপন করব। তারা যখন নিরাশ ও হতাশাগ্রস্ত হবে তখন আমিই তাদের সুশংবাদ প্রদানকারী হব। সেদিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতেই থাকবে। আমার প্রতিপালকের নিকট আদম-সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচাইতে সম্মানিত৷ তবুও এতে গর্বের কিছু নেই। সনদ হাসান গরীব৷ (সুনানে তিরমিযী ৩৬১০ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ৫৭৬৫ হাদীস৷) -
বাঁধনহারা শোক
বাঁধনহারা শোক সিমাহীন কাঁন্না,
আঁখিতে অশ্রু বাঁধ মানেনা৷
আক্ষেপের যাতনা আর সয়না,
কোথায় আছো প্রিয়তম শাহে মাদিনা৷
‘
কত যে তোমার পানে চেয়ে থেকেছি,
কত যে তোমার লাগি অশ্রু ঢেলেছি৷
কত যে নির্ঘুম রাত জেগেছি!
তোমাকে পাবার আশায় শাহে মাদিনা৷
‘
তুমি ছাড়া আমার জীবন মরুভূমি,
তুমি ছাড়া হাহাকার হৃদয় জমি৷
তুমি ছাড়া কাটেনা মোর দিবসযামী!
স্বপ্নে হলেও দেখা দাও এইতো কামনা৷ -
মহানবী (স:)-এর ১২টি প্রিয় খাবার
প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তাঁর গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। এসব খাবার নবীজী (স:) আহার করতেন এবং দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী (স:) এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ ও নির্ভুল, নিরঙ্কুশভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবীজী (স:) এর খাবারের মধ্যে রয়েছে
১/বার্লি৷
২/খেজুর৷
৩/ডুমুর৷
৪/আঙ্গুর৷
৫/মধু৷
৬/তরমুজ৷
৭/দুধ৷
৮/মাশরুম৷
৯/অলিভ অয়েল৷
১০/ডালিম বা বেদানা৷
১১/ভিনেগার৷
১২/পানি।
”
খাবারের গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো:
১নং খাবার বার্লি (জাউ):
এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায়
বিশেষ উপকারী।
:
২নং খাবার খেজুর:
খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে। নবীজী (স:) বলতেন, যে বাড়ীতে খেজুর নেই সে বাড়ীতে কোন খাবার নেই। এমনকি সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আল্লাহর নবী সা: ৷
:
৩নং খাবার:ফিগস বা ডুমুর:
ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণ সম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার।
:
৪নং খাবার আঙ্গুর:
নবীজী (স:) আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভাল বাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাত্ক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।
:
৫নং খাবার মধু:
মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।
:
৬নং খাবার তরমুজ:
সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নবীজী (স:) তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবতী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।
:
৭নং খাবার দুধ:
দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন নবীজী (স:) দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানীরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে দেখেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক।
:
৮নং খাবার মাশরুম:
আজ বিশ্বজুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) মাশরুম চোখের জন্য ভালো এবং এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক এবং মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীর প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।
:
৯নং খাবার: অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ বহুমুখী। তবে আজ মানুষের ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও বয়স ধরে রাখার জন্য যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন তাদের দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য ভালো এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।
:
১০নং খাবার ডালিম-বেদানা:
বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে এবং নবীজী (স:) বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে।
:
১১নং খাবার ভিনেগার:
ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। নবীজী (স:) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ আজকের এই মডার্ন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্ট বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।
:
১২-নং খাবার পানি:
পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন। এবং পানির অপর
নামকে জীবন বলেও ঘোষনা করেন৷ -
শবে বরাতেরও যাদেরকে ক্ষমা করা হয় না
কতিপয় লোক এমন রয়েছে যাদেরকে (খাটি তাওবা ব্যতীত) শবে বরাতের রজনীতেও ক্ষমা করা হয় না৷
‘
(১) মুশরিক৷
(২) গনক৷
(৩) যাদুকর৷
(৪) মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান৷
(৫) ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত অাত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী৷
(৬) জালিম শাসক ও তার সহযোগী৷
(৭) না হক হত্যাকারী৷
(৮) পরনারীগামী৷
(৯) মদ্যপানকারী৷
(১০) ইর্ষাপরায়ণকারী৷
(১১) নিন্দাকারী৷
(১২) গায়ক ও বাদক৷
(১৩) মিথ্যা শপথের সাহায্যে পণ্য বিক্রয়কারী৷
(১৪) পায়ের গিরার নিচে (গর্ব সহকারে) কাপড় পরিধানকারী৷
(১৫) পরস্পর শত্রুতা পোষণকারী
(১৬) কৃপণ৷
(১৭) অন্যায়ভাবে শুল্ক আদায়কারী৷
(১৮) জুয়াড়ি৷
(১৯) দাবা-পাশার খেলোয়াড়ী৷
(২০) বিদআ’ত প্রচলনকারী৷
(২১) মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী৷
(২২) সুদ দাতা৷
(২৩) সুদ গ্রহিতা৷
(২৪) ঘুষ দাতা ও গ্রহিতা
(২৫) সন্ত্রাস ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী।
(ফতোয়ায়ে তাহমীদ) -
আশুরার খানাপিনা গ্রহণযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমানিত
আশুরার দিনে ভালো ও উত্তম খানার আমল গ্রহণযোগ্য হাদীসে প্রমাণিত। তাই গ্রহণযোগ্য হাদীস না থাকার দাবি সঠিক নয়। এ আমল একাধিক সাহাবা,তাবেয়ী ও তৎপরবর্তী ইমামগণ থেকে অনুসৃত। তাঁরা আমল করে নিজ অভিজ্ঞতার কথাও বর্ণনা করেছেন।
এ সংক্রান্ত হাদীস একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত। যেমন,
১৷ হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি.(মুজামে আওসাত; তাবারানী-৯৩০২,শুআবুল ঈমান,বায়হাকী-৭/৩৭৭)
২৷ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. (মুজামে কাবীর, তাবারানী-১০০০৭,শুআবুল ঈমান,বায়হাকী-৭/৩৭৬-৩৭৭, মুআয্যিহু আওহামিল জামই ওয়াত তাফরীক,খতীব বাগদাদী-২/৩০৭)
৩৷ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. (আল-ইলালুল মুতানাহিয়া, ইবনুল জাওযী-২/৬২-৬৩,
দ্র.লিসানুল মীযান,ইবনে হাজার-৭/৩৭৫)
৪৷ হযরত আবু হুরায়রা রা. (শুআবুল ঈমান,বায়হাকী- ৫/৩৩৩, আখবারু আসবাহান, আবু নুআইম-১/১৯৮)
৫৷ হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. (শুআবুল ঈমান বায়হাকী-৭/৩৭৫, আলইসতিযকার,ইবনে আব্দুল বার-১০/১৪০)
এই পাঁচটি রিওয়ায়াতের মাঝে শেষ তথা হযরত জাবের রাযি. এর বর্ণনাটি তুলনামূলক শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য। তাঁর বর্ণনাকেই বিস্তারিত তুলে ধরছি।
জাবের রাযি. এর হাদীস ও সনদ বিশ্লেষণ৷ হযরত জাবের রাযি. এর হাদীসের একটি সনদ যা ইমাম ইবনে আবদুল বার রহ. (৪৬৩হি.) বর্ণনা করেছেন তা নিম্নরূপঃ
حدثنا أحمد بن قاسم ومحمد بن إبراهيم ومحمد بن حكم قالوا حدثنا محمد بن معاوية قال حدثنا الفضل بن الحباب قال حدثنا هشام بن عبد الملك الطيالسي قال حدثنا شعبة عن أبي الزبير عن جابر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول من وسع على نفسه وأهله يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته، قال جابر جربناه فوجدناه كذلك وقال أبو الزبير وقال شعبة مثله
এ সনদে সাহাবী হযরত জাবের রাযি. এর পরবর্তী তিনজন রাবী- (১) আবুয যুবায়ের৷
(২) শুবা৷
(৩) হিশাম বিন আব্দুল মালেক৷ তাঁদের সবাই সহীহ মুসলিমের রাবী। সবাই নির্ভরযোগ্য ও ছিকাহ। তাঁদের পরবর্তী রাবী ফযল বিন হুবাব আবূ খলীফা। তিনিও প্রসিদ্ধ ও ছিকাহ রাবী। ইমাম যাহাবী রহ. (৭৪৮হি.) তাঁর সম্পর্কে বলেনঃ
أبو خليفة الإمام الثقة محدث البصرة الفضل بن الحباب الجمحي البصري… وكان محدثا صادقا مكثرا عن طبقة الوقت حدث عنه أبو بكر الجعابي والطبراني والإسماعيلي وابن عدي وأبو الشيخ وأبو أحمد الغطريفى وخلق كثير وعاش مائة سنة غير أشهر. مات في جمادى الأولى سنة خمس وثلاثمائة…. وكان حسن المعرفة صاحب فنون.:
(তাযকিরাতুল হুফফায ২/৬৭০)
তিনি আরো বলেনঃ
وكان ثقة عالما. ما علمت فيه لينا إلا ما قال السليماني: إنه من الرافضة. فهذا لم يصح عن أبي خليفة.
(মীযানুল ইতিদাল ৪/৪২৩ (৬৭২৮)
ইবনে হিব্বান রহ. (৩৫৪হি) তাঁকে কিতাবুস সিকাতে (১৪৮৮৮) উল্লেখ করেছেন। মাসলামা বিন কাসিম রহ. বলেছেনঃ
كان ثقة مشهورا كثير الحديث
(লিসানুল মীযান ৬/৩৩৮)
আবু ইয়ালা খালীলী রহ. (৪৪৬হি.) বলেনঃ
منهم من وثقه ومنهم من تكلم فيه وهو إلى التوثيق أقرب
(আলইরশাদ ইলা মারিফাতি উলামায়িল হাদীস ২/৫২৬)
হাদীসের ইমামদের উল্লিখিত বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হলো,আবু খলীফ ফযল বিন হুবাব একজন ছিকাহ রাবী। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো দুর্বলতা ছিলো না। ইমাম যাহাবী রহ. হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তার দুর্বলতাকে নাকচ করে দিয়েছেন। যেমনটি উপরে উল্লেখ হয়েছে। তারপরের রাবী হলেন, মুহাম্মদ বিন মুআবিয়া। ইবনে হাযম রাহ. (৪৩৬হি.) সহ আরো অনেকই তাকে ছিকাহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার রাহ. তা সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন,
وشيوخ ابن عبد البر الثلاثة موثقون وشيخهم محمد بن معاوية هو ابن الأحمر راوي السنن عن النسائي وثقه ابن حزم ، وَغيره فالظاهر أن الغلط فيه من أبي خليفة فلعل ابن الأحمر سمعه منه بعد احتراق كتبه والله أعلم.
(লিসানুল মীযান ৬/৩৩৮)
এরপরের তিনজন রাবী এক সাথে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার রহ. তিনজনকেই ছিকাহ বলেছেন। পূর্বের আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, হযরত জাবের রাযি. এর উক্ত হাদীসের সকল রাবীই ছিকাহ ও নির্ভরযোগ্য। হাদীসটি সহীহ না হওয়ার গ্রহণযোগ্য কোনো কারণও নেই। তাই হাদীসটি নির্ভরযোগ্য। আরও নিশ্চিত হওয়ার লক্ষে নিম্নে হাদীসের বড় বড় ইমামদের বক্তব্য পেশ করা হলোঃ
১৷ হাদীসের বিশিষ্ট ইমাম ও হাফিয আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান রাহ. (৬২৮হি.) উল্লিখিত হাদীস সম্পর্কে বলেনঃ
إسناد هذا الحديث حسن، وإنما لم نصححه من أجل تدليس أبي الزبير، وهو لم يذكر سماعه من جابر لهذا الحديث، ومسلم يقبل روايته، وكيفما كانت فهو صحيح على مذهبه.
(ফাযায়িলে আশুরা,ইবনুল কাত্তান পৃ. ১৬ মাখতূতা)
২৷ হাদীসের ইমাম ও হাফিযুল হাদীস ইমাম ইরাকী রাহ. (৮০৬হি.) এ সনদটিকে সহীহ মুসলিমের মানে উত্তীর্ণ বলেছেন। এ সনদটিকে তিনি সর্বাধিক সহীহও বলেছেন। তিনি বলেনঃ
رواه ابن عبد البر في الاستذكار من رواية أبي الزبير عنه على شرط مسلم، قال البيهقي : هذه الأسانيد وإن كانت ضعيفة فهي إذا ضم بعضها إلى بعض أخذت قوة، وهذا مع كونه لم يقع له رواية أبي الزبير عن جابر التي هي أصح طرق الحديث. (انتهى من أماليه، نقلا عن اللآلي المصنوعة، والدرر المنتثرة للسيوطي.)
৩৷ আলোচ্যবিষয়ে একটি হাদীস হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি বিভিন্ন সনদে রয়েছে। তার মাঝে একটি সনদকে ইমাম ইবনে নাসের রাহ. সহীহ বলেছেন। কেউ কেউ হাসানও বলেছেন। যেমন ইমাম ইরাকী রাহ. বলেনঃ
قد ورد هذا الحديث عن أبي هريرة من طرق، صحح بعضها الحافظ أبو الفضل ابن ناصر، وبعضها حسن على رأي ابن حبان،…
৪৷ ইমাম বায়হাকী রাহ. (৪৫৮হি.) আলোচ্যবিষয়ে একাধিক হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ
هذه الأسانيد وإن كانت ضعيفة فهي إذا ضم بعضها إلى بعض أخذت قوة
(শুআবুল ঈমান ৫/৩৩৩)
৫৷ ইমাম মুনযিরী রাহ. (৬৫৬হি.) হযরত আবু হুরায়রা রাযি. এর হাদীস উল্লেখ করে ইমাম বায়হাকী রাহ. এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেনঃ
رواه البيهقي وغيره من طرق وعن جماعة من الصحابة وقال البيهقي هذه الأسانيد وإن كانت ضعيفة فهي إذ ضم بعضها إلى بعض أخذت قوة والله أعلم
(আত-তারগীব ওয়াততারহীব- ১৫৩৬)
৫৷ হাফিয ইবনে হাজার রাহ. আবু সাঈদ খুদরী রাযি. এর হাদীস উল্লেখ করে বলেনঃ
ولولا الرجل المبهم لكان إسناده جيدا لكنه يقوى بالذي قبله وله شواهد عن جماعة من الصحابة غير أبي سعيد منهم عبد الله بن مسعود وعبد الله بن عمر وجابر وأبو هريرة وأشهرها حديث عبد الله بن مسعود
(আলআমালিউল মুতলাকা পৃ. ২৮)
‘
৬৷ হাফিযুল হাদীস সুয়ূতী রাহ. (৯১১হি.) যারা হাদীসটি প্রমাণিত নয় বলেছেন তাদের কথা রদ্দ করে বলেনঃ
كلا بل هو ثابت صحيح، أخرجه البيهقي في “الشعب” من حديث أبي سعيد الخدري، وأبي هريرة، وابن مسعود، وجابر، وقال: أسانيده كلها ضعيفة، ولكن إذا ضم بضعها إلى بعض أفاده قوة.
(আদ্দুরারুল মুনতাছিরা পৃ. ১৯)
মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবদুল মালিক রহ. আশুরার প্রামাণ্যতা ও ফযীলত বিষয়ে একটি কাসীদা লিখেছেন। কাসীদায় তিনি বলেনঃ
قال الرسول صلاة الله تشمله
قولا وجدنا عليه الحق والنورا
من بات في ليل عاشوراء ذا سعة
يكن بعيشته في الحول محبورا
ইমাম সয়ূতী রাহ. কাসীদাটি উল্লেখ করে বলেনঃ
وهذا من الإمام الجليل دليل على صحة الحديث والله أعلم
(আল্লাআলিউল মাসনূআ, সুয়ূতী ২/৯৬)
,
৭৷ আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী রাহ. (৯৭৪হি.) বলেনঃ
وما مر من أن التوسعة فيه لها أصل هو كذلك… وظاهر كلام البيهقي أن حديث التوسعة حسن على رأي غير ابن حبان أيضا فإنه رواه من طرق عن جماعة من الصحابة مرفوعا ثم قال وهذه الأسانيد وإن كانت ضعيفة لكنها إذا ضم بعضها إلى بعض أحدثت قوة وإنكار ابن تيمية أن التوسعة لم يرد فيها شيء عنه وهم لما علمت
(আসসাওয়ায়িকুল মুহরিকা; ইবনে হাজার মাক্কী ২/৫৩৬, প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা)
৮৷ কাযী শাওকানী রাহ. (১২৫০হি.) বলেনঃ
وقد أطال الكلام عليه في اللآلىء بما يفيد أن طرقه يقوي بعضها بعضا
(আলফাওয়ায়িদুল মাজমুআ পৃ. ৯৮)
৯- বিশিষ্ট সালাফী আলেম সাইয়্যেদ সাবেক মারহুম (১৪২০হি.) বলেনঃ
للحديث طرق أخرى كلها ضعيفة، ولكن إذا ضم بعضها إلى بعض ازدادت قوة.
(ফিকহুস সুন্নাহ ১/৫১৯)
‘
এখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলো যারা আশুরার দিন ভাল খানাপিনার ফযীলতকে সমর্থন করেছেন এবং হাদীসকে আমল ও গ্রহণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। হাদীসটির নির্ভরযোগ্যতা নিছক সনদই নয়। বরং এর পিছনে সালাফের আমল ও তালাক্কীও বিদ্যমান। একাধিক সালাফ থেকে আমলটি বর্ণিত হয়েছে।
‘
সংশয় নিরসনঃ
আলোচ্যবিষয়ে কোনো কোনো ইমাম ভিন্ন কথাও বলেছেন, যা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। আমাদের দেশের সালাফী ও লা-মাযহাবী ভায়েরা তাদের ব্যাখ্যাসাপেক্ষ কথা বিনা-বিচারে গ্রহণ করে তর্ক জুড়ে দেয়। প্রমাণিত হাদীসকে অস্বীকার করতে দ্বিধাবোধও করে না। তাদের এমন প্রবণতা সালাফী আলেমদের অন্ধ তাকলীদ থেকেই সৃষ্ট। যারা আলোচ্যবিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন তাঁদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়ার পূর্বে একটি মূলনীতির ওয়াযাহাত ও স্পষ্ট হওয়া উচিত। ,
নীতিটি হলো, কোনো ইমাম যদি হাদীসের প্রামাণ্যতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেন বা কোনো হাদীসকে মালূল বলেন, এবং অন্য কোনো ইমাম তার সাথে দ্বিমত পোষণ না করেন, তাহলে তাঁর সিদ্ধান্তটি বিনা দ্বিধায় গ্রহণীয় ও মান্য। আর যদি অন্য কোনো ইমাম তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, তাহলে বিনা দ্বিধায় গ্রহণীয় নয়। আহলে ইলমদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়, উভয়ের দলীল নিয়ে গবেষণা করে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেয়া। অনেক ইমামই এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এখানে হাফিযুল হাদীস ইবনে হাজার রাহ. এর বক্তব্যই তুলে ধরা যথেষ্ট মনে করছি। তিনি বলেনঃ
فإذا وجدنا حديثا قد حكم إمام من الأئمة المرجوع إليهم بتعليله فالأولى اتباعه في ذلك كما نتبعه في تصحيح الحديث إذا صححه. وهذا حيث لم يختلفوا فإذا اختلفوا فلا بد من الترجيح.
(আননুকাত আলা ইবনিস সালাহ ১/১১৪)
তিনি আরও বলেনঃ
فمتى وجدنا حديثا قد حكم إمام من الأئمة المرجوع إليهم – بتعليله – فالأولى إتباعه في ذلك كما نتبعه في تصحيح الحديث إذا صححه. وهذا حيث لا يوجد مخالف منهم لذلك المعلل، وحيث يصرِّح بإثبات العلة فأما إن وجد غيره صححه فينبغي حينئذ توجه النظر إلى الترجيح بين كلاميهما.
(প্রাগুক্ত ২/৭১১)
আলোচ্যবিষয়ে আমরা দেখেছি যে,হাদীসের একাধিক বিখ্যাত ইমাম ও হাফিয উক্ত হাদীসটিকে সহীহ,হাসান বলেছেন। এছাড়া অনেকেই সামগ্রিক দৃষ্টিতে আলোচ্য বিষয়টিকে প্রমাণিত বলে মত দিয়েছেন। সুতরাং এর বিপরীত কোনো মতামত আসলে তা বিনা বিবেচনায় গ্রহণ করার সুযোগ নেই। দলীল ও কারণ খুঁজে দেখতে হবে। এ মূলনীতি স্মরণ রাখলে নিম্নের আলোচনা বুঝতে সহজ হবে ইনশা আল্লাহ।
প্রথমত,পূর্ববর্তী কোনো ইমামই উপরোল্লিখিত আবুয যুবায়েরের সনদকে দুর্বল বা ভিত্তিহীন বলেননি। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. সহ আরো যারা এ বিষয়ে কথা বলেছেন তারা কেউ আবুয যুবায়েরের সনদের কথা উল্লেখ করেননি। তাঁদের আলোচনা অন্য কোনো বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং তা আবুয যুবায়েরের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ আহমদ সিদ্দীক গুমারী রহ. (১৩৮০) বলেনঃ
أما من ضعفه كالعقيلي وابن حبان وابن عدي وأمثالهم ممن خرجوا بعض طرقه في تراجم بعض الضعفاء، فإنهم لم يحكموا عليه إلا من تلك الطرق الضعيفة، ولم يتعرضوا لغيرها من الطرق التي تقع لهم، وهي التي على شرط الصحيح أو الحسن.
(হাদিয়্যাতুস সগরা পৃ.৭)
দ্বিতীয়ত, মুনকার হওয়ার আপত্তি। যারা হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন তারাও উসূলভিত্তিক কোনো গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ বা দলীল উপস্থিত করেননি। যেমন ইবনে হাজার রহ.। তিনি ‘আমালী’র মাঝে আলোচ্যবিষয়কে দলীলসিদ্ধ মেনে নিয়েছেন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু তিনি ‘লিসানুল মীযান’ কিতাবে আবুয যুবায়েরের হাদীসকে মুনকার বলেছেন। তবে নির্দিষ্টভাবে মুনকার হওয়ার কারণ উল্লেখ করেনি। সম্ভাবনা হিসেবে যা বলেছেন তাও আপত্তিমুক্ত নয়।
হাফিয ইবনে হাজার রহ. সনদের একজন রাবী ফযল বিন হুবাব আবূ খলীফাকে এ বর্ণনায় দুর্বল সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য মতে আবু খলীফার কিতাব পুড়ে যাওয়ার পর তার স্মৃতিতে দুর্বলতা এসেছিলো। মুহাম্মদ বিন মুআবিয়া তার থেকে হাদীসটি কিতাব পুড়ে যাওয়ার পর গ্রহণ করেছেন। এ হাদীস বর্ণনা করতে আবু খলীফা ভুল করেছেন। আর মুহাম্মদ বিন মুআবিয়া সেভাবেই বর্ণনা করেছেন। (দ্র. লিসানুল মীযান ৬/৩৩৮)
হাফিয ইবনে হাজার রহ. কিতাব পুড়ে যাওয়ার যে আপত্তি তুলে ধরেছেন তা কয়েক কারণে শক্তিশালী নয়।
এক, আবু খলীফা একজন ছিকাহ রাবী। অনেকেই তাঁর প্রশংসা ও নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু ইয়ালা খলীলী রহ. ব্যতীত কেউই তার কিতাব পুড়ে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করেননি। অথচ আবু ইয়ালা খলীলী রহ. প্রত্যক্ষদর্শী নন এবং তিনি কোনো সনদও বর্ণনা করেননি। এ কারণেই হয়ত অন্যরা তা উল্লেখ করেননি। বরং যাহাবী রহ. তার ব্যাপারে দূর্বলতাকে নাকচ করে বলেছেন, ما علمت فيه لينا ।
দুই, মুহাম্মদ বিন মুআবিয়ার সূত্রে আবু খলীফার অনেক হাদীসকেই ইমামগণ গ্রহণ করেছেন। যদি মুহাম্মদ বিন মুআবিয়া আবু খলীফা থেকে তার কিতাব পুড়ে যাওয়ার পরই শুনতেন তাহলে অন্যান্য বর্ণনাগুলো গৃহিত হত না। (দ্র. আলইসতিযকার)
তিন, উল্লিখিত ইমামগণ যারা এ সনদটিকে গ্রহণ করেছেন তাদের দৃষ্টিতেও হাফিয ইবনে হাজার রাহ. এর আপত্তিটি গৃহিত হয়নি।
সর্বোপরি সালাফের একাধিক ইমাম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। অনেকেই আমলটিকে দলীলসিদ্ধ বলেছেন। সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে হাদীসকেও গ্রহণযোগ্য বলেছেন। খোদ ইবনে হাজার রাহ. তা সমর্থন করেছেন। যেমনটি উপরে উল্লেখ হয়েছে।
তৃতীয়ত, শুবা রহ. এর আবুয যুবায়ের থেকে বর্ণনা করা কেন্দ্রিক আপত্তি। কেউ কেউ আপত্তি করেছেন উল্লিখিত সনদে ইনকিতা আছে। কারণ, শুবা রহ. আবুয যুবায়ের থেকে মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করে। (কিতাবুল মাজরুহীন ১/১৫১) আর এ হাদীসটি সেটি নয়। তাঁদের এ আপত্তিটিই যথার্থ নয়। কেননা, শুবা রাহ. মুদাল্লিস নন। তাঁর পরবর্তী কোনো রাবীও মুদাল্লিস নন। সুতরাং এখানে তাদলীস নেই এটিই স্বাভাবিক। যদি ইনকিতাকে মেনেও নেয়া হয়, তারপরও সনদ দুর্বল হবে না। কারণ শুবা রহ. সকল শায়েখ ছিকাহ ছিলেন। (আলজারহু ওয়াততাদীল ১/১২৮)
সুতরাং এখানে ইনকিতা থাকলেও যাকে হযফ করা হয়েছে তিনি যয়ীফ নন। এছাড়াও ইমাম আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান আবুয যুবায়ের তাদলীসের কথা উল্লেখ করলেও এই ইনকিতার কথা উল্লেখ করেননি। এমনিভাবে ইমাম ইরাকী রহ.ও তা উল্লেখ করেননি। এমনকি হাফিয ইবনে হাজার রহ. অন্য আপত্তি তুললেও এই ইনকিতার কথা বলেননি। এ থেকেও বোঝা যায় যে, এ আপত্তিটি প্রভাবক নয়।
এ কয়েকটি আপত্তি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো আপত্তি কেউ করেনি। কেউ কেউ অনুমান নির্ভর কথা বলেছেন, যা বিবেচ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে সালাফীরা আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার ভক্তিতে এ হাদীস নিয়ে বাড়তি সমালোচনায় লিপ্ত।
আশা করি পরিস্কার হয়েছে যে, খোদ মুহাদ্দিসগণের উসূল ও নীতির আলোকেই আমাদের আলোচ্য হাদীসটি মুনকার বা মালূল নয়। মুজতাহিদ মুহাদ্দিসগণের মানহাজ ও উসূল হিসেবে মালূল বলার আরো সুযোগ নেই। কেননা তারা ইল্লতের স্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ব্যতীত ছিকাহ রাবীর হাদীসকে মালূল বলেন না। ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ রহ. এর ভাষায় বলা যায়,
ليس يتبين على طريقة الفقهاء وهم … ؛ فإن الثقة إذا روى اعتُمِدَت روايتُه إلا بِعِلَّةٍ بَيِّنَة
(আলইমাম ফি মারিফাতি আহাদিসিল আহকাম ৩/২০০)
আমরা দেখেছি যে, এখানে স্পষ্ট ও সন্তোষজনক কোনো কারণ নেই।
উপরোক্ত আলোচনায় আমরা দেখলাম, আশুরার দিনে তাওসিআ তথা ভাল খানাপিনা করা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য একাধিক হাদীস ও সালাফের আমল বিদ্যমান রয়েছে। উসূলে হাদীসের বিচারেই হাদীসগুলো গ্রহণযোগ্য। সুতরাং একে ভিত্তিহীন বলা সঠিক নয়।