বাল্য বিবাহ বাংলাদেশের জাতীয় আদর্শ হওয়া উচিত৷ কেননা আমাদের জাতীয় সংগীত রচয়িতা বাল্য বিবাহ করেছেন৷
আজ থেকে ১৩৫ বছর আগে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বিয়ে হয় এক মহিলার। নাম মৃণালিনী দেবী৷ আসল নাম ভবতারিনী। এই ভবতারিনীর বয়স যখন দশ বছর, তখন তার সাথে বিয়ে হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।
দশ বছর বয়সী মৃণালিনীর সাথে তাগড়া রবি ঠাকুরের বিয়েতে আমি অবশ্যই বাল্যবিবাহের দোষ খুঁজছিনা। মৃণালিনীর সমাজ, তার পরিবার এবং সে নিজে জানে যে ওই দশ বছরেই সে বিয়ের উপযুক্ত ছিলো। তার সমাজ, পরিবার এবং সে নিজে সবটা জেনেবুঝেই সর্বসম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। আরো উল্লেখ্য, তৎকালীন সময়ে এই বিয়েকে কেউই বাল্য বিবাহ তকমা দিয়ে সমালোচনার বিষবাক্যে এফোঁড়ওফোঁড় করে ছাড়েনি৷ কারণ, ঘটনাটা আদৌ সমালোচনার মতো ব্যাপার ছিলোই না।
সমস্যা বেঁধেছে রবীন্দ্রানুসারীদের নিয়ে৷ রবীন্দ্র ভক্তরা নিজেদের খুব আধুনিক, প্রগতিশীল আর সংস্কৃতিমনা ভাবতে গিয়ে প্রায়ইশ ধর্ম নিয়ে খোঁচাখুঁচি করে থাকে৷ তারা সুযোগ পেলেই রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়ে নিয়ে কটুবাক্য আওড়ায়। অথচ, তাদের আরাধ্য গুরু, পূজিত সংস্কৃতি দেবতাই দশ বছর বয়েসীএকজন কিশোরীকে বিয়ে করেছিলেন আজ থেকে মাত্র ১৩৫ বছর আগে। আরবের সেই সময়ের তুলনায় রবি ঠাকুরের সময়টা অত্যন্ত নিকট অতীত।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব রবীন্দ্র ভক্তরা কেবল আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়সটাই দেখে, কিন্তু রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে উনি যে উম্মাহর একজন ‘শিক্ষক’ হয়ে উঠেছিলেন, বিশাল জ্ঞানের ধারক হয়ে উঠেছিলেন- সে কথা তারা বেমালুম চেপে যাবে। হায়রে হারামীর দলঃ
-
বাল্য বিবাহ বাংলাদেশের জাতীয় আদর্শ
-
হাশরের ময়দানে মানুষের অবস্থা
মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ اَخِيْهِ ۙ
সেদিন অর্থাৎ কিয়ামতের দিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,
وَاُ مِّهٖ وَاَ بِيْهِ ۙ
এবং তার মা ও তার বাবা থেকে,
وَصَا حِبَتِهٖ وَبَنِيْهِ ۗ
এবং তার স্ত্রী ও তার সন্তানাদি থেকে,
لِكُلِّ امْرِیءٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُّغْنِيْهِ ۗ
সেদিন প্রত্যেকেই নিজের চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত থাকবে।
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ ۙ ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ ۚ
এবং সেদিন অনেক মুখ হবে উজ্জ্বল, সহাস্য, উৎফুল্ল।
وَوُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ ۙ تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ ۗ
এবং অনেক মুখ হবে ধূলি ধূসরিত। তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখবে কালিমা।
اُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ.
তারাই কাফের ও পাপিষ্ঠের দল৷
(সূরা আবাসা ৩৪-৪২ আয়াত৷) -
বিচিত্র মানুষ ও মন
※ কারো পাজেরো গাড়ি থামছে রাতের গভীরে নিষিদ্ধ পল্লীতে, অথচ ঘরে অপেক্ষারত স্ত্রী দীর্ঘশ্বাস ফেলছে…!!
※ কেউ ভাঙা ঘরে থেকে স্ত্রীকে নিয়ে অবিরত স্বপ্নের জোয়ারে ভাসছে!!
※ কেউ ভাবছে আর কয়েকটা দিন, অতপর ডিভোর্স পেপারে সাইন করলেই মুক্তি! অথচ কেউ একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য আমরন যুদ্ধ করে চলছে!!
※ কেউ সন্তান ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চাচ্ছে! অথচ কেউ একটা সন্তানের জন্য সারাটা জীবন হাহাকার করে চলছে!!
※ কেউ বছরে ডজন খানেক ভালবাসার মানুষ বদলাচ্ছে! অথচ কেউ শুধু একটা ভালোবাসার মানুষের জন্য অপেক্ষা করে জীবন পার করছে!!
※ কেউ দামি শাড়ি হাতে পেয়েও খুশি নয়! অথচ কেউ তাঁতের নতূন শাড়ির বারবার গন্ধ শুঁকছে!!
※ কেউ লাখ টাকার ডাইনিং টেবিলে বসেও তৃপ্তি সহকারে ভাত খেতে পারছেনা! অথচ কেউ পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ কচলিয়ে গোগ্ৰাসে ভাত গিলছে!!
※ কেউ দামি খাটে শুয়েও আবার ঘুমের ওষুধ খাচ্ছে! অথচ কেউ হিমেল হাওয়ায় অঘোরে ঘুমোচ্ছে!!
※ কারো পড়ার টেবিলে নতুন বইয়ের সমারোহ কিন্তু পড়তে ইচ্ছে করছেনা! অথচ কেউ পড়ার জন্য পুরাতন বইও খুজে পাচ্ছেনা, পকেট খালি বলে!!
※ কেউ বিলাস বহুল গাড়িতে বসে চিন্তিত যে, সন্তানগুলো মানুষ হলোনা! এতো সম্পত্তি রাখতে পারবেতো? অথচ কেউ পায়ে হেঁটে পথ চলছে আর মনে মনে ভাবছে… সন্তানগুলোতো মানুষ করতে পেরেছি! আল্লাহ চাইলে, ওরাই এখন জীবনটা গড়ে নিতে পারবে!!
সত্যিই নানা রঙের মানুষ, নানান রঙের স্বপ্নের ঘুড়ি…! জীবনের নিজস্ব আলাপনে, বাস্তবতার হাত ধরে!! -
৪৪৪. দ্বিতীয় বিবাহে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রসঙ্গে
মুহতারাম
মুফতী সাহেব হুজুর!
প্রথম বিবাহের পর দীর্ঘ আট বছর সংসার করে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েয হবে কি না?
এই প্রসঙ্গে শরীয়ত কি বলে??
দলিলসহ জানালে উপকৃত হবো!
#প্রশ্নকারীঃ
হাফিজা নাজমুন্নাহার (নাজু)
ফেইসবুক থেকে#উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামী আইনে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া জরুরী নয়। এমনিভাবে তৃতীয় বা চতুর্থ বিবাহের জন্যও কোন স্ত্রীর অনুমতি নেয়া জরুরী নয়৷ বরং এক্ষেত্রে জরুরী হলো একাধিক স্ত্রীর মাঝে ইনসাফ কায়েম করা৷ অর্থাৎ ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি তখনি প্রদান করে, যখন সকল স্ত্রীর হক সমানভাবে কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়া আদায় করতে পারবে৷ আর এরুপ আত্মবিশ্বাস থাকলেই কেবল যৌক্তিক কারণে ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি প্রদান করেছে৷ অন্যথায় সাম্যতা বজায় রাখতে না পারলে, কিংবা হক আদায় করতে না পারলে একাধিক বিবাহ জায়েয নয়। যেমন কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ
فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً.
তোমরা বিবাহ কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে দুই, তিন, কিংবা চারজনকে। আর যদি সমঅধিকার বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভীত হও, তাহলে এক বিয়ে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাক। (সূরা নিসা ৩নং আয়াত৷)
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ : «إِذَا كَانَتْ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّه سَاقِطٌ».
হযরত আবূ হুরায়রাহ রাযিঃ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো পুরুষের দু’জন সহধর্মিণী থাকে আর সে তাদের মধ্যে যদি ন্যায়বিচার না করে, তবে সে কিয়ামতের দিন একপাশ পঙ্গু অবস্থায় উঠবে। সনদ সহীহ৷ (সুনানে তিরমিযী ১১৪১ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ৩৯৪২ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৬৯ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ২১৩৩ হাদীস৷ সুনানে দারেমী ২২০৬ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ৮৩৬৩ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৩৬ হাদীস৷)
والله اعلم بالصواب#প্রমান্যগ্রন্থাবলীঃ
সূরা আন-নিসা ৩নং আয়াত৷
তাফসীরে মাযহারী ২/৪৩৪ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে জালালাইন ১/৭৬৮ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে উসমানী ১/৩৮৭ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৩২০ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে শামী ৪/১৩৮ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৭/৫০ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৪/৩০২ পৃষ্ঠা৷#উত্তর_লিখনেঃ
মুফতী তাহমীদ শামী
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ-২৪/২/২০২২ ঈসায়ী৷ -
৪৪৭. আত্নহত্যার বিধি বিধান
#প্রশ্নঃ?
মাননীয় মুফতী সাহেব!
বিনয়ের সাথে জানতে চাচ্ছি যে,
আত্নহত্যাকারীর বিধান কি?
আত্নহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী কিনা?
আত্নহত্যাকারীর জানাযা ও কাফন দাফন করতে হবে কিনা?
#প্রশ্নকারীনীঃ
আলেমা আমেনা ইসলাম
নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা৷#উত্তরঃ
بسم الله الرحمن الرحيم.আত্নহত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ۚ
তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা৷ (সূরা নিসা ২৯ আয়াত৷)আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ
তোমরা নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করোনা৷ (সূরা বাকারা ১৯৫ নং আয়াত৷)#আত্নহত্যাকারীর_বিধানঃ
নিজেকে নিজে হত্যা করার নাম আত্নহত্যা৷ আত্মহত্যা করা মহাপাপ ও কবিরা গুনাহ। আর কবিরা গুনাহ মাফ হয় তাওবার দ্বারা। কিন্তু আত্মহত্যাকারীর জন্য যেহেতু তাওবার সুযোগ নাই। তাই পাপের শাস্তি ভোগের পর ইমানদার হওয়ার কারণে আল্লাহ চাহেতো সে ক্ষমা পাবে এবং জান্নাতে যাবে৷ কিন্তু কেউ যদি কবিরা গুনাহকে হালাল মনে করে তথা আত্নহত্যাকে হালাল মনে করে এবং আত্নহত্যা করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে৷ আর এরুপ অবস্থায় তার তাওবার সুযোগ না থাকার কারনে সে কোন দিন ক্ষমা পাবেনা বরং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে৷ (সূরা নিসা ১১৬ নং আয়াত৷ তাফসীরে মাযহারী ৩/৫৪ পৃষ্ঠা৷ আকিদাতুত তাহাবী ১৭৮- ১৭৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৫৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২১১ পৃষ্ঠা৷ খুলাসাতুল ফতোয়া ১/২১৭ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/৬৪৯ পৃষ্ঠা৷)#আত্নহত্যাকারীর_শাস্তিঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الَّذِي يَخْنُقُ نَفْسَهُ يَخْنُقُهَا فِي النَّارِ، وَالَّذِي يَطْعُنُهَا يَطْعُنُهَا فِي النَّارِ. «مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ، فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ تَحَسَّى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ ـ ثُمَّ انْقَطَعَ عَلَيَّ شَيْءٌ خَالِدٌ يَقُولُ ـ كَانَتْ حَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَجَأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا»
হযরত আবূ হুরায়রা রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে৷ আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে। যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি দোযখের আগুনে সর্বদা পাহাড় থেকে পড়তে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি দোযখের আগুনে সর্বদা স্বীয় হস্তে বিষ পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি লৌহ দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি দোযখের আগুনে একটি লৌহ দ্বারা সর্বদা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ১৩৬৫ হাদীস৷ সুনানে আন-নাসায়ী ১৯৬৫ হাদীস৷)#আত্নহত্যাকারীর_জানাযাঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جُرِحَ فَآذَتْهُ الْجِرَاحَةُ فَدَبَّ إِلَى مَشَاقِصَ فَذَبَحَ بِهَا نَفْسَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَكَانَ ذَلِكَ مِنْهُ أَدَبًا.
হযরত জাবির বিন সামুরাহ রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর এক সাহাবী আহত হন। আহত এর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি তীরের ফলা দ্বারা আত্মহত্যা করেন। ফলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাযার সলাত পড়েননি। রাবী বলেনঃ তা ছিল তাঁর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় (শাস্তিস্বরূপ)। সনদ সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৫২৬ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ৩১৮৫ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ১০৬৮ হাদীস৷ সুনানে আন-নাসায়ী ১৯৬৪ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৫২ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২০২৯২ হাদীস৷)
উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্যহত্যাকারীর জানাযা পড়েন নি৷ কিন্তু তিনি অন্যদেরকে তার জানাযা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন৷যেমন হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
صَلُّوا عَلَى كُلِّ مَيِّتٍ.
তোমরা প্রত্যেক মৃতের জন্য জানাযার সালাত আদায় করো৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৫২৫ হাদীস৷) উক্ত হাদীসদ্বয়ের আলোকে ফুকাহায়ে কিরাম বলেছেনঃ আত্নহত্যাকারী যেহেতু মুসলিম তাই তার জানাযা আদায় করতে হবে এবং কাফন দাফনেরও ব্যবস্থা করতে হবে৷ তবে আত্নহত্যাকারীর জানাযায় কোন আলেম বা সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত হবেনা৷ যেন ভবিষ্যতে মানুষ আত্নহত্যার মতো মহাপাপে জড়িত হওয়ার দুঃসাহস না করে৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৫২৫- ১৫২৬ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৯৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া ১/৬০৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ১/১২৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৫৭ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/২১৬ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ২/২৭১ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب.#উত্তর_লিখনেঃ
মুফতী তাহমীদ শামী
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ-২০ শাবান ১৪৪৩ হিজরী৷
২৪/৩/২০২২ ঈসায়ী৷ -
৪৫০. বিশ রাকাত তারাবীর ব্যপারে চুড়ান্ত ফতোয়া
রমযানুল মোবারক খাইর বরকত ও রহমতের বসন্তকাল৷ বরং এর বাস্তব অবস্থা শব্দ ও বাক্যের গাঁথুনিতে প্রকাশ করা অসম্ভব৷ এ মাসের দিনে আল্লাহ তায়ালা রোযা ফরয করেছেন এবং রাতে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ আদায় করাকে হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাত করে দিয়েছেন৷ অতএব, রমযানের খাইর ও বরকত পুর্নরুপে হাসিল করতে হলে অবশ্যই তারাবীহ নামাযে যত্নবান হতে হবে৷
#তারাবীহ_নামাযের_ফযিলতঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِرَمَضَانَ “ مَنْ قَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ”.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবীর নামায আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ২০০৮, ২০০৯ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৩৭১ হাদীস৷ সহীহ আত-তারগীব ৯৮২ হাদীস৷)
#তারাবীহ_নামাযের_রাকাত_সংখ্যাঃ
তারাবীহ নামায ২০ রাকাত৷
হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম রাযিঃ, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, মুজতাহিদ ইমামগণ এবং সমগ্র উম্মতে মুসলিমার ঐক্যমত্বের ভিত্তিতে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, তারাবীহ নামায ২০ রাকাত। (ফতোয়ায়ে শামী ১/৫১১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/১৫০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ২/২৩৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ১/১৪৬ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৩/৫২৪ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৫০১-৫০২ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮ পৃষ্ঠা৷)#নবীজীর_তারাবীহঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত আছেঃ
عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة والوتر.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ এবং ৩-রাকাত বিতির পড়তেন। সনদ সহীহ৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৭৬৯২ হাদীস৷ সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪৩৯১ হাদীস৷ আল মুজামুল কাবীর ১২১০২ হাদীস৷ মাজমাউজ যাওয়ায়েদ ১৭২ হাদীস৷)
হাদীস শরীফে আরও বর্নিত হয়েছে-
عن جابر بن عبد الله قال خرج النبى صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فى رمضان فصلى الناس اربعة وعشرون ركعة واوتر بثلاثة
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযিঃ বলেছেনঃ একদা রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসজিদে নববীতে তাশরীফ নিয়ে আসলেন এবং লোকদের নিয়ে চব্বিশ রাকাত নামায আদায় করলেন৷ তথা ৪-রাকাত ফরয,২০ রাকাত তারাবীহ এবং ৩ রাকাত বিতির। সনদ সহীহ৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৭৬৯২ হাদীস৷ তারীখে জুরজান ৫৫৭ হাদীস৷ মুসনাদে হুমাইদ ২১৮ পৃষ্ঠা৷)
অপর হাদীসে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَـ رضى الله عنها ـ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ لَيْلَةً مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ، فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ، وَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاَتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ، فَصَلَّوْا مَعَهُ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا، فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى، فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ، حَتَّى خَرَجَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ، فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ “ أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْتَرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَعْجِزُوا عَنْهَا ”. فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ•
আম্মাজান হযরত আয়িশাহ সিদ্দীকা রাযিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসজিদে নববীতে তাশরীফ আনেন এবং লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করেন৷ সকালে লোকেরা এ সম্পর্কে আলোচনা করলে পরদিন অধিক সংখ্যক লোক সমবেত হয় এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করেন৷ সকালে আবার তাঁরা এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন, যার ফলে তৃতীয় রাতে মাসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ আনেন ও তাদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করেন৷ অতপর চতুর্থ রাতে মাসজিদে মুসল্লীর সংকুলান হল না, কিন্তু সে রাতে তিনি আর তাশরিফ আনেন নি৷ বরং ফজরের নামাযে বেরিয়ে আসলেন এবং নামায শেষে লোকদের দিকে ফিরে প্রথমে তাওহীদ ও রিসালতের সাক্ষ্য দেয়ার পর বললেনঃ শোন! তোমাদের গতরাতের অবস্থা আমার অজানা ছিল না৷ কিন্তু আমি আশংকাভোধ করছি তারাবীর নামায তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হয় কিনা? কেননা এমনটি হলে তা আদায়ে অপারগ হয়ে পড়তে। অতপর বিষয়টি এভাবেই থেকে যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ওফাত পর্যন্ত৷ সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ২০১২ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম৷ সুনানে আবু দাউদ ১৩৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ২৪০ হাদীস৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৫০২ পৃষ্ঠা৷)উক্ত হাদীসগুলো দ্বারা দুটি বিষয় প্রমানিত হয়ঃ
১৷ হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২০রাকাত তারাবীহ পড়েছেন৷
২৷ হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাবীর জামাআত কায়েম করেছেন৷ শুধু উম্মতের মায়ায় ফরয হবার আশংকায় তিন দিনের অধিক জামাআত কায়েম করেননি৷
(আত-তাহমীদ)#খোলাফায়ে_রাশেদীনের_তারাবীহঃ
সহীহ সনদে প্রমাণিত যে, খুলাফায়ে রাশেদীন বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিঃ বলেন- বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতের দ্বারা প্রমাণিত। (ফতোয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া ২৩/১১৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২/৩৪৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৩৯০ পৃষ্ঠা৷ সিলসিলায়ে তারাবীহ ২৮-৫৬ পৃষ্ঠা৷)#হযরত_আবু_বকর_সিদ্দীক_রাযিঃ_এর_তারাবীহঃ
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিঃ ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন৷ যেমন ইবনু শিহাব রহিঃ বলেছেনঃ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাতের পুর্ব থেকে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযিঃ- এর খিলাফতকাল ও হযরত উমর রাযিঃ- এর খিলাফতের প্রথমভাগে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রাযিঃ একাকিভাবে কিংবা কয়েকজন মিলে জামাআতে ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন৷ (সহীহুল বুখারী ২০০৯ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম৷ মুয়াত্তা মালিক ২৪১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৩৯১ পৃষ্ঠা৷ সিলসিলায়ে তারাবীহ ২৮-৫৬ পৃষ্ঠা৷)#হযরত_উমর_রাযিঃ_এর_তারাবীহঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ، إِلَى الْمَسْجِدِ، فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ يُصَلِّي الرَّجُلُ لِنَفْسِهِ، وَيُصَلِّي الرَّجُلُ فَيُصَلِّي بِصَلاَتِهِ الرَّهْطُ فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي أَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلاَءِ عَلَى قَارِئٍ وَاحِدٍ لَكَانَ أَمْثَلَ. ثُمَّ عَزَمَ فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُ لَيْلَةً أُخْرَى، وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ قَارِئِهِمْ، قَالَ عُمَرُ نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ، وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ. يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ، وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَهُ.
হযরত আবদুর রাহমান ইবনু আবদুলক্বারী রহিঃ থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেনঃ আমি রমযানের এক রাতে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিঃ- এর সাথে মাসজিদে নববীতে গিয়ে দেখি যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে জামাআতে বিভক্ত হয়ে তারাবীর নামায আদায় করছে এবং কেউ বা একাকীভাবে নামায আদায় করছে৷ তা দেখে হযরত উমর রাযিঃ বললেনঃ আমি মনে করি এই লোকদেরকে যদি একজন ইমামের পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ কারী হযরত উবাই ইবনু কাব রাযিঃ- এর পিছনে সকলকে জমা করে দিলেন। অতপর আবার কোন এক রাতে আমি হযরত উমর রাযিঃ-এর সাথে মাসজিদে নববীতে উপস্থিত হই। তখন লোকেরা হযরত উবাই ইবনু কাব রাযিঃ এর ইমামতিতে তারাবীহ আদায় করছিল। তখন হযরত উমর রাযিঃ বললেনঃ কতই না সুন্দর ও উত্তম এই নতুন ব্যবস্থা! অতপর তিনি বললেনঃ তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম, যে অংশে তোমরা নামায আদায় কর৷ এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন৷ কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা তারাবীহ আদায় করত। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ২০১০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ২৪২ হাদীস৷)
হাদীস শরীফে আরও বর্নিত হয়েছে-
عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ أَنَّهُ قَالَ، كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً.
ইমাম মালিক রহিঃ ইয়াযিদ ইবনু রুমান রহিঃ হতে বর্ণনা করেন- তিনি বলেছেনঃ লোকজন উমার ইবনু খাত্তাব রাযিঃ-এর খিলাফতকালে রমযানে বিশ রাক’আত তারাবীহ এবং তিন রাক’আত বিতর পড়তেন৷ সনদ সহীহ৷ মুয়াত্তা মালিক ২৪৪ হাদীস৷ সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪৩৯৪ হাদীস৷ মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ১৪৪৩ হাদীস৷)#হযরত_উসমান_রাযিঃ এর_তারাবীহঃ
হযরত উসমান রাযিঃ ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন৷ যেমন-
হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ রহিঃ বলেছেনঃ হযরত উসমান রাযিঃ এর শাসনামলে লোকেরা বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। শুধু তাই নয়! ইমামের লম্বা কেরাতের কারণে লোকেরা লাঠির উপর ভর দিয়ে তারাবীহ পড়তেন৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪৬১৭ হাদীস৷ আল-খুলাসাতুল আহকাম ১৯৬১ হাদীস৷ উমদাতুল ক্কারী শরহে বুখারী ৫/২৬৪ পৃষ্ঠা৷)
#হযরত_আলী_রাযিঃ_এর_তারাবীহঃ
হযরত আলী রাযিঃ ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন! যেমন হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عن ابى عبد الرحمن السلمى عن على قال دعى القراء فى رمضان فامر منهم رجلا يصلى بالناس عشرين ركعة قال وكان على يوتر بهم
হযরত আবু আব্দুর রহমান সুলামী রহিঃ বলেছেনঃ হযরত আলী রাযিঃ রমজান মাসে কারীদের ডাকতেন। তারপর তাদের মাঝে একজনকে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতে হুকুম দিতেন। আর হযরত আলী রাযিঃ নিজেই বিতের পড়াতেন৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪৮০৫, ৪৩৯৭ হাদীস৷ কানযুল উম্মাল ২৩৪৭৪ হাদীস৷)#সাহাবীদের_তারাবীহঃ
সকল সাহাবায়ে কিরাম রাযিঃ ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন৷ যেমন- তারীখুল খুলাফা তথা খুলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস অনুযায়ী হযরত ওমর রাযিঃ ১৫তম হিজরীতে জামাআতের সাথে ২০ রাকাত তারাবীর প্রচলন শুরু করেন। আর উম্মুল মুমিনীন হযরত সাইয়্যেদাহ আয়িশা সিদ্দীকা রাযিঃ ৫৭হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। পুরো ৪২বছর আম্মাজান আয়শা রাযিঃ-এর হুজরার নিকটবর্তী মাসজিদে নববীতে সাহাবায়ে কিরাম রাযিঃ ২০ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন৷ দীর্ঘ এ ৪২বছরের ভিতর আম্মাজান রাযিঃ কোনদিন ২০ রাকাত তারাবীহ বা তারাবীর জামাআতের ব্যপারে কোন আপত্তি করেননি এবং কোন সাহাবীও কোনদিন কোন আপত্তি করেননি৷
অতএব সহজেই বুঝা যায় যে,২০ রাকাত তারাবীর ব্যাপারে সকল সাহাবীদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ যা শরীয়তের একটি শক্তিশালী দলিলও বটে৷ বরং শরীয়ত নিজেই ইজমাকে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং যাদের মাধ্যমে ইজমা সম্পন্ন হয় তাদের ব্যাপারে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, এরা কখনো গোমরাহীর ব্যাপারে একমত পোষণ করবেনা৷ কুরআনুল কারীমে তো সুস্পষ্টভাবে মুহাজির ও আনসার সাহাবীগনের অনুসরণ করার আদেশও করা হয়েছে৷ হাদীস শরীফে হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মনে রেখো! আমার পরে তোমরা যারা জীবিত থাকবে তারা বহু মতানৈক্য দেখতে পাবে৷ তখন তোমরা কেবল আমার সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অনুসরণ করবে এবং সকল প্রকার বিদআত থেকে দুরে থাকবে৷ যেহেতু খোলাফায়ে রাশেদীনের ব্যাপারে ওহীর মাধ্যমে হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা জেনেছেন যে, তাদের জারীকৃত সুন্নাতসমুহ নবী-শিক্ষার ভিত্তিতেই হবে, তাদের সুন্নাত নবীর সুন্নাতের অনুগামী ও আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি মোতাবেকই হবে৷ তাই হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে ব্যাপকভাবে ঘোষণা দিয়ে যান যে, তোমরা খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে মজবুতভাবে আকড়ে রাখবে৷ সুতরাং যখন কোন বিষয়ে প্রমাণ হবে যে, এটি চার খলিফার কোন এক জনের সুন্নাত, তখন তার অনুসরণের জন্য হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উপরোক্ত নির্দেশণাই যথেষ্ট৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে আবু দাউদ ৪৬০৭, ৪৬০৬ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ২৬-২৭ পৃষ্ঠা৷ ফাতহুল বারী-৪/৪৩৬ পৃষ্ঠা৷ উমদাতুল কারী-৫/২৬৭ পৃষ্ঠা৷ ইরশাদুস সারী ৩/৫১৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৩৯০ পৃষ্ঠা৷)#আহলে_সুন্নত_ওয়াল_জামাআতের_তারাবীহঃ
হযরত উমর রাযিঃ- এর আমল হতে দীর্ঘ ১২শত বৎসর পর্যন্ত তামাম পৃথিবীজুড়ে ২০ রাকাত তারাবীর প্রচলন ছিল৷ দীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে ২০ রাকাত তারাবীর ব্যপারে কেহ কোন প্রকার দ্বিমত পোষণ করেনি৷ সুতরাং প্রমানিত হলো যে, দীর্ঘ ১২শত বছর পর্যন্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকলেই ২০ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন৷ বিশ্ব বিখ্যাত মুহাদ্দীস হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দীসে দেহলবী রহঃ বলেছেনঃ বর্তমান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ। চার মাযহাবের বাহিরে কেউ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত নয়! আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত পরিচিতিঃ
১৷ হানাফী মাযহাব৷
২৷ মালেকী মাযহাব৷
৩৷ শাফেয়ী মাযহাব৷
৪৷ হাম্বলী মাযহাব৷
(ফতোয়ায়ে কাজীখান ১/১১২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ১/৫১১ পৃষ্ঠা৷ মিরকাত- শরহে মিশকাত ৩/১৯৪ পৃষ্ঠা৷ ইতহাফুল সাদাতুল মুত্তাকীন ৩/৪২২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ২৬ পৃষ্ঠা৷)#চার_মাযহাবের_তারাবীহঃ
১৷ #হানাফী_মাযহাবঃ
হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানীফা রহিঃ এর মতে তারাবীহ নামায ২০ রাকাত৷ (ফতোয়ায়ে কাজীখান ১/১১২ পৃষ্ঠা৷ ইলাউস সুনান ৭/৬৯-৭১ পৃষ্ঠা৷ শরহুস সুন্নাহ ২/৫১১ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ২/৬০৪ পৃষ্ঠা৷)২৷ #মালেকী_মাযহাবঃ
মালেকী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মালিক রহিঃ- এর মতে তারাবীহ নামায ২০ রাকাত৷ (ইলাউস সুনান ৭/৬৯-৭১ পৃষ্ঠা৷ শরহুস সুন্নাহ ২/৫১১ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ২/৬০৪ পৃষ্ঠা৷ হেদায়াতুল মুজতাহিদ ১/১৬৭ পৃষ্ঠা৷)৩৷ #শাফেয়ী_মাযহাবঃ
শাফেয়ী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম শাফেয়ী রহিঃ- এর মতে তারাবীহ নামায ২০ রাকাত৷ (ইলাউস সুনান ৭/৬৯-৭১ পৃষ্ঠা৷ শরহুস সুন্নাহ ২/৫১১ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ২/৬০৪ পৃষ্ঠা৷)৪৷ #হাম্বলী_মাযহাবঃ
হাম্বলী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিঃ- এর মতে তারাবীহ নামায ২০ রাকাত৷ (ইলাউস সুনান ৭/৬৯-৭১ পৃষ্ঠা৷ শরহুস সুন্নাহ ২/৫১১ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ২/৬০৪ পৃষ্ঠা৷)#_৮_রাকাত_তারাবীহ_নামে_সর্বপ্রথম_বিদআতের_সূচনাঃ
প্রচলিত আহলে হাদীস নামক বাতিল ফিরকার আবিস্কার মতে তারাবীহ নামায ৮ রাকাত৷ সর্বপ্রথম ১২৮৪ হিজরীতে ভারতের আকবরাবাদ থেকে এক লা-মাযহাবী মৌলভী সাহেব ৮ রাকাত তারাবীর ফতোয়া প্রদান করেন। এরপর ১২৮৫ হিজরীতে পাঞ্জাব সীমান্তে প্রসিদ্ধ গায়রে মুকাল্লিদ ভন্ড ও প্রতারক শায়েখ মুহাম্মাদ হুসাইন বিটালভী ফতোয়া দিল যে, ৮ রাকাত তারাবীহ পড়া সুন্নত৷ আর ২০ রাকাত তারাবীহ পড়া বিদআত৷ সে সুন্নতকে বিদআত আর বিদআতকে সুন্নাত বলে ফতোয়া দিল৷ কিন্তু তৎকালীন প্রাজ্ঞ হক্কানী উলামায়ে কেরামগণ তার এ ফতোয়াকে ভুল হিসেবে প্রমাণিত করেন এবং ৮ রাকাত তারাবীহ নামক বিদআতকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ২০ রাকাত তারাবীর সুন্নত আমলকে অব্যহত রাখেন।
অতপর ১৩৭৭ হিজরীতে আরবে প্রসিদ্ধ দুই লামাযহাবী ও প্রতারক শায়েখ নাসিরুদ্দীন আলবানী ও শায়েখ নসীব রেফায়ী ৮ রাকাত তারাবীর মত প্রকাশ করেন। তখন শায়েখ আতিয়্যা সালিমসহ আরবের জমহুর উলামায়ে কেরামগণ তাদের উক্ত রায়কে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সাহাবায়ে কেরাম রাযিঃ এর যুগ থেকে চলে আসা ২০ রাকাত তারাবীর আমলকে অব্যহত রাখেন। যা আজো অব্যাহত রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে- ইনশাআল্লাহ!! (আহকামুস সিয়াম ২৭-২৮ পৃষ্ঠা৷ রাসায়েলে আহলে হাদীস ২/২৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ১/১৪৬ পৃষ্ঠা৷)#আহলে_হাদীস_নামক_বাতীল_ফিরকাদের_৮_রাকাত_তারাবীর_ব্যর্থ_দলীলঃ
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً،
হযরত আবূ সালামা ইবনু আবদুর রাহমান রহঃ থেকে বর্ণিত৷ তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা সিদ্দীকা রাযিঃ-কে জিজ্ঞেস করেন-রমযানে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর সালাত কিরূপ ছিল? উত্তরে আম্মাজান রাযিঃ বললেনঃ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান ও রমযান ব্যতীত অন্য সময়ে রাতে ১১ রাকাত নামায আদায় করতেন৷ সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ২০১৩ হাদীস৷)
সকল মুহাদ্দিসিনে কিরামের মতে উক্ত হাদীসের ১১রাকাত নামাযের মধ্যে ৮রাকাত হলো তাহাজ্জুদ৷ আর বাকি ৩-রাকাত হলো বিতর৷ কিন্তু হাস্যকর ব্যপার হলো আহলে হাদীসের শায়েখরা তাহাজ্জুদ এবং তারাবীর তফাতও বুঝেনা৷ তারা এটাও জানেনা যে, তারাবীহ কোন মাসে পড়তে হয়! কেননা উক্ত হাদীস যদি তারাবীহ সংক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে তো ১২মাস তারাবীহ পড়ার কথা৷ কারন উক্ত হাদীসে পরিস্কার বর্নিত হয়েছে নবীজী রমযান ও অন্যান্য মাসে ৮ রাকাত নামায পড়তেন৷ আর আমরা সকলেই যানি যে, তারাবীহ ১২ মাস পড়া হয়না, বরং ১২ মাস পড়া হয় তাহাজ্জুদ নামায৷ কাজেই প্রমানিত হল যে, এটি তারাবীহ সংক্রান্ত হাদীস নয়! বরং তাহাজ্জুদ সংক্রান্ত হাদীস৷
অতএব ৮ রাকাত তারাবীহ পড়ার মতকে গ্রহণ করার অর্থ হল- সাহাবী ও তাবেয়ীগণের অনুসৃত আমলকে প্রত্যাখ্যান করে নব্যসৃষ্ট বিদআতী দলের অনুসরণ করা। অথচ এরুপ নব-আবিষ্কৃত বিদআত সম্পর্কে হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় ১৫শত বছর পুর্বেই উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন যে- তোমরা নব-আবিষ্কৃত বিদআত থেকে খুব সতর্কতার সঙ্গে বেচে থাকবে৷ কেননা, প্রতিটি নব আবিষ্কৃতই বিদআত৷ আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী৷ আর প্রতিটি গোমরাহী জাহান্নামে যাবে৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে আবু দাউদ ৪৬০৭, ৪৬০৬ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ২৬-২৮ পৃষ্ঠা৷)
পরিশেষে একটি হাদীসের মাধ্যমে লেখা ইতি টানছি-
وَعَنْ اَبِىْ قَتَادَة قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِه قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِه قَالَ لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا. رَوَاهُ أَحْمَد
হযরত আবূ ক্বাতাদাহ্ রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ চুরি হিসেবে সবচেয়ে বড় চোর হল ঐ ব্যক্তি যে নামাযে চুরি করল। সহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! নামাযে কিভাবে চুরি করে? নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ নামাযের চুরি হল রুকূ’-সাজদাহ্ পূর্ণ না করা। সনদ সহীহ৷ (মিশকাতুল মাসাবীহ ৮৮৫ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২২১৩৬ হাদীস৷ সহীহ আত্ তারগীব ৫২৪ হাদীস৷)
উক্ত হাদীসের আলোকে আমি (মুফতী তাহমীদ শামী) বলতে চাই যে, নামাযে রুকু সিজদা সঠিকভাবে আদায় না কারী যদি বড় চুর হয়! তবে নামাযে রাকাত চুরি করলে কি হবে? যেমন যারা ২০ রাকাত তারাবীর মধ্যে ১২ রাকাতই চুরি করে তারা কি!? চুর!? না ডাকাত!??
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে এ সমস্ত নামায চুর ও ডাকাত শায়েখদের থেকে হেফাজত করুন!!والله اعلم بالصواب
مفتى تحميد شامى
#উত্তর_লিখনেঃ
#মুফতী_তাহমীদ_শামী
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ-২৭ শাবান ১৪৪৩ হিজরী৷
৩১/৩/২০২২ ঈসায়ী৷ -
৪৪৮. যাকাতের বিধি বিধান (৪০টি মাসআলা)
بسم الله الرحمن الرحيم
যাকাত আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- বৃদ্ধি, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিশুদ্ধি।
যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ৷ যাকাত ফরয হয়েছে মক্কায়৷ কিন্তু যাকাতের নিসাব বা আনুসাঙ্গিক বিষয় নির্ধারন হয়েছে দ্বিতীয় হিজরীতে মদিনায়৷ আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমের ৩২ স্থানে যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন৷ হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংক্ষ্য হাদীসে যাকাতের গুরুত্ব ও মাহাত্ব বর্ননা করেছেন৷ তাই যাকাত আদায়ে মুমিনদের যত্নবান হওয়া কর্তব্য৷ (সহীহুল বুখারী ১৪০৩ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাযাহ ১৭৮৪ হাদীস৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৩৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুয যাকাত ৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৫৪৬ পৃষ্ঠা৷)১৷ মাসআলাঃ
#যাকাত_ফরয_হওয়ার_শর্তঃ
১৷ মুসলিম হওয়া৷ কারন যাকাত একটি ইবাদাত৷ আর অমুসলিমের জন্য কোন ইবাদাত হতে পারেনা৷ তাই অমুসলিমের উপর যাকাত ফরয নয়৷
২৷ স্বাধীন হওয়া৷ কারন তা দ্বারা মালিকানার পূর্ণতা অর্জন হয়৷ আর গোলাম কোন মালের মালিক থাকেনা৷ তাই গোলামের উপর যাকাত ফরয নয়৷
৩৷ বুদ্ধিমান হওয়া৷ কারন যাকাত স্ব-ইচ্ছা ব্যতীত আদায় হয়না৷ আর পাগলের বুদ্ধি না থাকার দরুণ তার স্ব-ইচ্ছা বলতে কিছু নেই৷ তাই পাগলের উপর যাকাত ফরয নয়৷ এমনকি অবিভাবকদের জন্যও তাঁর সম্পদ থেকে যাকাত আদায় করা জায়েয হবেনা৷
৪৷ বালেগ হওয়া৷ কারন যাকাত স্ব-ইচ্ছা ব্যতীত আদায় হয়না৷ আর নাবালেগের ইচ্ছাও ধর্তব্য নয়৷ তাই নাবালেগের উপর যাকাত ফরয নয়৷ এমনকি অবিভাবকদের জন্যও তাঁর সম্পদ থেকে যাকাত আদায় করা জায়েয হবেনা৷
৫৷ নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া৷ কারন হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পরিমাণকে যাকাত ফরয হওয়ার কারণরুপে নির্ধারন করেছেন৷
৬৷ উক্ত মাল মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া৷ কারন মৌলিক প্রয়োজনীয় মালের উপর যাকাত ফরয নয়৷
৭৷ মাল বর্ধনশীল হওয়া৷ অর্থাৎ বর্ধনশীল মালের যাকাত ফরয হওয়ার জন্য পূর্ণ এক চন্দ্র বছর মালিকানায় থাকা শর্ত। আর অবর্ধনশীল মাল পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকা শর্ত নয়। যেমন- মাটি থেকে উৎপন্ন শস্য ও ফল৷ যে সকল শস্য ও ফল মাটি থেকে উৎপন্ন হয় সেগুলোর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। বরং শস্য কর্তনের পরেই তা নিছাব পরিমাণ হলে তার যাকাত দিতে হবে। কেননা শস্য কর্তনের পরে তা বৃদ্ধি হয় না। বরং তা পর্যায়ক্রমে কমে যায়।
৮৷ মালে নিসাব এক বছর পূর্ণ হওয়া৷ কারন হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মালে নিসাব এক বছর অতিক্রান্ত হওয়াকে যাকাত ফরয হওয়ার কারণরুপে নির্ধারন করেছেন৷
৯৷ প্রয়োজনীয় ঋন থেকে মুক্ত হওয়া৷ কারন যার উপর তার সম্পদকে বেষ্টনকারী ঋন রয়েছে তার উপর যাকাত ফরয নয়৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬১-৪৬২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৫৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৫৬৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৭৩ পৃষ্ঠা৷ আল-হিদায়া ১/১৮৬ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ২/৮২ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২২৫ পৃষ্ঠা৷ মালাবুদ্দা মিনহু ১৩৪ পৃষ্ঠা৷)২৷ মাসআলাঃ
#যাকাতের_নিসাবঃ
স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল- বিশ মিসকাল। আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ।
আর রুপার ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল- দুই’শ দিরহাম। আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা৷ এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে এবং বছর অতিক্রান্ত হলে যাকাত ফরয হবে। (সুনানে আবু দাউদ ১৫৭৩, ১৫৭৪ হাদীস৷ সহীহুল বুখারী ১৪০৫,১৪৪৭ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৫৮ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাযাহ ১৭৯১ হাদীস৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৬১, ৫৬৬ হাদীস৷ শরহে বেকায়া ১/৫৪৯ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১০ পৃষ্ঠা৷)৩৷ মাসআলাঃ
যাকাতের নিসাব বছর পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে চন্দ্রবর্ষের হিসাব ধর্তব্য হবে, সৌর বর্ষের হিসাব গ্রহণযোগ্য হবেনা। আর যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে সেদিনই যাকাত আদায় করা ফরয হবে। তাই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যাকাত আদায়ে বিলম্ব করা জায়েয হবেনা৷ কেননা তা গরীবদের হক৷ আর কারো হক আদায়ে বিলম্ভ করা গুনাহের কাজ৷ (সূরা মুনাফিকূন ১০ আয়াত৷ সহীহুল বুখারী ১৪৩০ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৯৫ হাদীস৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৬৪, ৫৬৬ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪২৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৭০ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৩ পৃষ্ঠা৷)৪৷ মাসআলাঃ
যে সম্পদের উপর যাকাত ফরয হয়েছে তার চল্লিশ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করা ফরয হয়৷ তথা- সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে শতকরা আড়াই টাকা হারে নগদ টাকা কিংবা ওই পরিমাণ টাকার কাপড়-চোপড় বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। (সুনানে তিরমিযী ৬২৩ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস ১৮০৩ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ২২৩০- ২২৩৩ হাদীস৷ ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ১/৩৭৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৪/৭২ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪০ পৃষ্ঠা৷)৫৷ মাসআলাঃ
প্রয়োজনের উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয় তাহলে বছর অতিক্রান্ত হলে যাকাত ফরয হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬৭৯৭,৬৮৫১ হাদীস৷ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৯৯৩৭ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৫৬২ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৯৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৭১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৪/৭২ পৃষ্ঠা৷)৬৷ মাসআলাঃ
সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য এগুলোর কোনোটিই পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ হয়না, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশী হয়, তাহলে যাকাত ফরয হবে এবং প্রতিটির মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩ পৃষ্ঠা৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৬৬ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৯৩ হাদীস৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩৭ পৃষ্ঠা৷)৭৷ মাসআলাঃ
কারো কাছে নিসাবের চেয়ে কম সোনা বা রুপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রুপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশী হয়, তাহলে যাকাত ফরয হবে এবং মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে৷ (সুনানে নাসায়ী ২৪৭৯ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৩৬ পৃষ্ঠা৷ আল-হিদায়া ১/২০৪ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩৭ পৃষ্ঠা৷)৮৷ মাসআলাঃ
কারো কাছে নিসাবের চেয়ে কম রুপা আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে৷ যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশী হয়। তাহলে যাকাত ফরয হবে এবং এর মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৯৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৬৭ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৩০৩ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩৭ পৃষ্ঠা৷)৯৷ মাসআলাঃ
কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে৷ যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশী হয়। তাহলে যাকাত ফরয হবে এবং মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে৷ (সুনানে আবু দাউদ ১৫৬৬ হাদীস৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৬৭ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৩০৩ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩৭ পৃষ্ঠা৷ দরসুল ফিকাহ ১/১৬০ পৃষ্ঠা৷)১০৷ মাসআলাঃ
নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা ও বাণিজ্যদ্রব্যের হিসাব আনুপাতিক হারেই করতে হবে৷ অর্থাৎ যাকাতের নিসাব যে হারে হিসাব করা হয়েছে অন্যান্য সম্পদ সে হারেই হিসাব করতে হবে এবং সে হারেই যাকাত দিতে হবে৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯০ পৃষ্ঠা৷ মুসনাদে আহমাদ ৭১৩, ৯১৫, ১২৭০ হাদীস৷ সুনানে দারেমী ১৬২৯ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৯৯ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/৮৪ পৃষ্ঠা৷)১১৷ মাসআলাঃ
কারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিল এবং বছরের মাঝে এ জাতীয় আরো কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেল৷ এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত ফরয হবে৷ বছরের মাঝে যে সম্পদ যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরী নয়৷ (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬৮৭২,৭০৪০, ৭০৪৪ হাদীস৷ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩২৫,১০৩২৭ হাদীস৷
ফতোয়ায়ে শামী ২/৩০২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/৬০ পৃষ্ঠা৷ নূরুল ঈযাহ ১৪৬ পৃষ্ঠা৷)১২৷ মাসআলাঃ
বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত ফরয হবে৷ তাই বছরের মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে যদি সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যায় এবং পুনরায় নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে ঐ সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত ফরয হবে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৯২ হাদীস৷ মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৪২,৭০৪৪ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৩০২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৫৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/৮৪-৮৫ পৃষ্ঠা৷ আল-হিদায়া ১/২০৪ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৪৪ পৃষ্ঠা৷)১৩৷ মাসআলাঃ
#যেসব_মালের_উপর_যাকাত_ফরয_হয়ঃ
পাঁচ প্রকার মালের উপর যাকাত ফরয হয়ঃ
১৷ সোনা-রুপা৷
২৷ নগদ অর্থ বা চেক৷
৩৷ ব্যবসায়ী পন্য৷
৪৷ উৎপাদিত ফসল৷
৫৷ গৃহ পালিত পশু৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬৯ পৃষ্ঠা৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮১৪ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৫৬২ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৪৬ পৃষ্ঠা৷ তাফহীমুল কুদুরী ১০৬ পৃষ্ঠা৷)১৪৷ মাসআলাঃ
সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা ব্যবহার হোক বা বছরে দু’একবার ব্যবহার হোক কিংবা একে বারেই ব্যবহার না হোক সর্বাবস্থায়ই তার উপর যাকাত ফরয হবে। অনুরুপভাবে সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরয হবে। (সুনানে আবু দাউদ ১৫৬৫ হাদীস৷ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬৯-৪৭১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৩৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৩৯ পৃষ্ঠা৷)১৫৷ মাসআলাঃ
জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকার্জ থাকলে তাও যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকার্জে লেগেছে, অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৬৪৮ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৫৬৩ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৩৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৩৯ পৃষ্ঠা৷)১৬৷ মাসআলাঃ
মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে যাকাত ফরয হবে। তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, ইত্যাদি নগদ টাকা-পয়সার মধ্যেই গন্য হবে এবং এসবের ওপরও যাকাত ফরয হবে। (সুনানে আবু দাউদ ১৫৬৪ হাদীস৷ মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬২,৩০০ পৃষ্ঠা৷)১৭৷ হজ্বের উদ্দেশ্যে বা ঘর-বাড়ি নির্মাণের জন্য কিংবা ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদির জন্য অথবা ব্যবসা বানিজ্যের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে৷ তা নিসাব পরিমাণ হলে বা যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩২৫ হাদীস৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৬৭ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪২৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৫৬ পৃষ্ঠা৷ নিযামুল ফতোয়া ২/১০৩ পৃষ্ঠা৷)
১৮৷ মাসআলাঃ
ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট হোক কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি হোক, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং এসবের মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত ফরয হবে। (সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮ পৃষ্ঠা৷ সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭ পৃষ্ঠা৷ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১০৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৩৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৩৮ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৪৪ পৃষ্ঠা৷)১৯৷ মাসআলাঃ
#ঋণ_ও_পাওনা_টাকার_যাকাতঃ
ঋণের ক্ষেত্রে অনেকেই যাকাতের নিসাব নির্নয়ে ভুল করে থাকে৷ তাই ঋণের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করছি৷
ঋণ দুই প্রকার-
১৷ প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে নেয়া ঋণ৷
২৷ ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নেয়া ঋণ৷
প্রথম প্রকারের ঋণ যদি এত হয় যে, সম্পদ থেকে বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকেনা, তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয হবেনা।
আর দ্বিতীয় প্রকারের ঋণ যা উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়েছে৷ যেমন ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বা মিল-কারখানা বানানোর জন্য কিংবা বিল্ডিং বানিয়ে ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার জন্য৷ এ সমস্ত ঋণ যাকাতের নিসাব থেকে বাদ দেয়া যাবেনা৷ অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেয়া বা যাকাত না দেয়া জায়েয হবেনা৷ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১০৭ পৃষ্ঠা৷ মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ ১/১৭২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৩ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৯০ পৃষ্ঠা৷ দরসুল ফিকাহ ১/১৮১-১৮২ পৃষ্ঠা৷)২০৷ মাসআলাঃ
বিয়ে-শাদিতে মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে অর্থাৎ স্বামীর কাছে স্ত্রীর যে পাওনা বা ঋণ রয়েছে। এই ঋণ যাকাতের নিসাব থেকে বাদ দেয়া যাবেনা৷ বরং যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৭৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৪০ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩ পৃষ্ঠা৷ দরসুল ফিকাহ ১/১৭৫ পৃষ্ঠা৷)২১৷ মাসআলাঃ
স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা তথা মোহরানা নিসাব পরিমাণ হলেও তা হস্তগত হওয়ার পুর্বে যাকাত ফরয হয়না৷ আর হস্তগত হওয়ার পর যদি পুর্ব থেকেই ঐ মহিলার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে তাহলে তখন থেকে বছর গণনা শুরু হবে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত ফরয হবে। আর যদি স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার পুর্ব থেকেই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকে, তাহলে এই সদ্যপ্রাপ্ত মোহরানা অন্যান্য সম্পদের সাথে যোগ হবে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত ফরয হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৬/৫০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৭৮ পৃষ্ঠা৷ মালাবুদ্দা মিনহু ১৩৭ পৃষ্ঠা৷)২২৷ মাসআলাঃ
অন্যকে যে টাকা কর্জ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রয় করেছে কিংবা দোকান ভাড়া নেয়ার জন্য এ্যাডভান্স দিয়েছে৷ এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য সম্পদের সাথে যোগ হয়ে যদি নিসাব পরিমাণ হয় তাহলে যাকাত ফরয হবে৷ তবে পাওনা উসূল হওয়ার পুর্বে ওই টাকার যাকাত আদায় করা জরুরী হবেনা৷ কিন্তু কেউ আদায় করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তাছাড়া উপরোক্ত ক্ষেত্রে পাওনা উসূল হতে যদি কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে উসুল হওয়ার পর বিগত সকল বছরের যাকাত আদায় করা ফরয হবে। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১০৮ পৃষ্ঠা৷ মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ ১/১৭২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪২৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৪৩ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/২৬১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৭/৭৭ পৃষ্ঠা৷)২৩৷ মাসআলাঃ
সরকারী কর্মচারীদের বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য বাধ্যতামূলক যে পরিমাণ টাকা কর্তন করে রাখা হয়, সে পরিমাণ অর্থ যেহেতু উত্যলনের পুর্বে কর্মচারীর মালিকানায় আসেনা৷ তাই তা হস্তগত হওয়ার পুর্বে যাকাত ফরয হবেনা এবং বিগত দিনগুলোর যাকাতও আদায় করতে হবেনা৷ কিন্তু ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার উপর যাকাত ফরয হবে৷ কেননা তা উত্যলনের সুযোগ থাকাতে তার মালিকায় রয়েছে বলে গন্য হবে৷ তাই ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা হস্তগত হওয়ার পুর্বেই যাকাত ফরয হবে এবং বিগত দিনগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে৷ (ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৫৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৭৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৩০৬ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/২৬০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে রহিমিয়া ৭/১৫২ পৃষ্ঠা৷ দরসুল ফিকাহ ১/১৭৬ পৃষ্ঠা৷)২৪৷ মাসআলাঃ
#যেসব_জিনিসের_ওপর_যাকাত_ফরয_হয়নাঃ
সোনা-রুপা ব্যতীত অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয হয়না৷ তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা, জাওহার ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলেও যাকাত ফরয হয়না৷ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৭১ হাদীস৷ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৮৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/৮৫ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৪৩ পৃষ্ঠা৷)২৫৷ মাসআলাঃ
নিজ এবং পরিবার পরিজনের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বাহনের ওপর যাকাত ফরয হয়না। অনুরুপভাবে পরিধেয় বস্ত্র, জুতা হাত ঘড়ি, মোবাইল, চশমা ইত্যাদি প্রয়োজনের তুলনায় অধিক হলেও যাকাত ফরয হয়না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৯-২০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৭৪ পৃষ্ঠা৷)২৬৷ মাসআলাঃ
গৃহের আসবাবপত্র যেমন খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, আলমারী ইত্যাদি এবং গার্হস্থ সামগ্রী যেমন হাড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, গ্লাস ইত্যাদির উপরও যাকাত ফরয হয়না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৫৬০ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/৮৫ পৃষ্ঠা৷)২৭৷ মাসআলাঃ
ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া দিলেও যাকাত ফরয হয়না। তবে ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর যাকাত ফরয হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৩৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/৯৩ পৃষ্ঠা৷)২৮৷ মাসআলাঃ
ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর-বাড়ি, গাড়ী-ঘোড়া, বা অন্য কোনো সামগ্রী যেমন ডেকোরেটরের বড় বড় ডেগ, থালা-বাটি ইত্যাদি ক্রয় করে ভাড়া দিলেও যাকাত ফরয হয়না। তবে ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর যাকাত ফরয হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৩৮ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৪৪ পৃষ্ঠা৷ ফিকহুন নাওয়াযিল ১/১৫৯-১৬০ পৃষ্ঠা৷ ফিকহুল মুয়াসসার ২৩৫ পৃষ্ঠা৷)২৯৷ মাসআলাঃ
#যাকাতের_নিয়তঃ
যাকাত আদায় হওয়ার জন্য যাকাতের নিয়ত করা জরুরী। নিয়ত ব্যতীত সকল টাকা-পয়সাও যদি সদকাহ করে দেয় তবুও যাকাত আদায় হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৫৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতার খানিয়া ২/২৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৭৩ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২২৫ পৃষ্ঠা৷)৩০৷ মাসআলাঃ
যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে কিছু টাকা দান করা হয়েছে৷ কিন্তু দান করার সময় বা পুর্বে যাকাতের নিয়ত ছিল না, তো গ্রহীতার কাছে সেই টাকা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যাকাতের নিয়ত করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তদ্রূপ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা হয়েছে, গ্রহীতা তা খেয়ে ফেলার বা বিক্রি করে দেওয়ার পুর্বে যাকাতের নিয়ত করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এরপরে নিয়ত করলে যাকাত আদায় হবেনা। বরং সাধারণ দান হিসেবে বিবেচিত হবে৷ এ কারনে নিসাবের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই যাকাতের নিয়তে টাকা পৃথক করে রাখা উচিত৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৮-২৬৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৬ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪০ পৃষ্ঠা৷ ফিকহুল মুয়াসসার ২৩৭ পৃষ্ঠা৷)৩১৷ মাসআলাঃ
যাকাতের টাকা পৃথক করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার পুর্বেই তা চুরি হয়ে গেছে বা অন্য কোনোভাবে নষ্ট হয়ে গেছে, তাহলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় যাকাত দিতে হবেনা৷ তবে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট হয়ে থাকে তবে পুনরায় যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৩১-৫৩২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৭০ পৃষ্ঠা৷ আল-হিদায়া ১/১৯৯-২০০ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪০ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৬০ পৃষ্ঠা৷)৩২৷ মাসআলাঃ
যাকাত গ্রহণকারীকে যাকাতের টাকা দেয়া হচ্ছে তা বলার প্রয়োজন নেই৷ বরং যাকাতের নিয়তে হাদিয়া বলে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে৷ আর নিকট আত্নীয়কে যাকাত দেয়ার ক্ষেত্রে এভাবে দেয়াই উত্তম। (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৮ পৃষ্ঠা৷ খাইরুল ফতোয়া ৩/৩৯৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ২/৫০ পৃষ্ঠা৷ মাজমাউল আনহুর ১/২৯০ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪১ পৃষ্ঠা৷)৩৩৷ মাসআলাঃ
অন্যের পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করতে হলে তার অনুমতি নেয়া ওয়াজিব। অন্যথায় ঐ ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাত আদায় হবেনা। (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৬ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪২ পৃষ্ঠা৷)৩৪৷ মাসআলাঃ
কোনো দরিদ্র ব্যক্তির নিকট যদি কোন ধ্বনী ব্যক্তি টাকা পাওনা থাকে৷ তখন ধ্বনী ব্যক্তি যদি যাকাতের নিয়তে পাওনা মাফ করে দেয় তাহলে যাকাত আদায় হবেনা। বরং এ ক্ষেত্রে করনীয় হলো- প্রথমে দরিদ্র ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করতে হবে৷ অতপর সেখান থেকে ঋণ উসূল করে নিতে হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৭১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪১৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/১৫৫ পৃষ্ঠা৷ ফিকহুল মুয়াসসার ২৩৮ পৃষ্ঠা৷)৩৫৷ মাসআলাঃ
#যাকাত_আদায়ের_খাতসমূহঃ
১৷ ৷ নিঃস্ব ও অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি৷
২৷ নেসাবের মালিক নয় এমন গরীব ব্যক্তি।
৩৷ যাকাতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি৷
৪৷ চিত্ত আকর্ষণ করা হয় এরুপ নব-মুসলিম৷
৫৷ দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য গোলাম ব্যক্তি৷
৬৷ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি৷
৭৷ আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত ব্যক্তি৷
৮৷ মুসাফির ব্যক্তি৷
(সূরা তাওবা ৬০ আয়াত৷
তাফসীরে রূহুল মাআনী ৬/৩১৩ পৃষ্ঠা৷ তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ৪/১৭১ পৃষ্ঠা৷ তাফসীরে মাযহারী ৪/২৩৫ পৃষ্ঠা৷
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৫৮৯ হাদীস৷ জাওয়াহিরুল ফিকাহ ৬/৬৯ পৃষ্ঠা৷ মুখতাসারুল কুদুরী ১/১৪৫ পৃষ্ঠা৷)৩৬৷ মাসআলাঃ
#যাদেরকে_যাকাত_দেওয়া_যায়ঃ
১৷ সহোদর ভাই-বোনকে৷ বৈমাত্রেয় ভাই-বোনকে৷ বৈপিত্রেয় ভাই-বোনকে৷ দুধ ভাই-বোন এবং তাদের সন্তানকে৷
২৷ নিজ চাচা ও ফুফী এবং তাদের সন্তানকে৷
৩৷ নিজ মামা ও খালা এবং তাদের সন্তানকে৷
৪৷ নিজ সৎ মা ও তাদের সন্তানকে৷
৫৷ শশুর-শাশুরী ও তাদের সন্তানকে৷
৬৷ ধনীদের গরীব পিতা-মাতাকে৷
৭৷ ধনীদের গরীব বালেগ সন্তানকে৷
৮৷ ধনীদের গরীব স্ত্রীকে৷
৯৷ ধনী স্ত্রীর গরীব স্বামীকে৷
১০৷ গরীব লোকের নাবালেগ সন্তানকে৷
১১৷ মেয়ের স্বামী ও পুত্রবধুকে৷
১২৷ উস্তাদ ছাত্রকে এবং ছাত্র উস্তাদকে৷
১৩৷ স্বামীর অন্য স্ত্রীর সন্তানকে৷
১৪৷ স্ত্রীর পুর্বের স্বামীর সন্তানকে৷
১৫৷ সফর অবস্থায় মাল না থাকলে ধনী মুসাফিরকে৷
১৬৷ গরীব লোকের নাবালেগ সন্তানকে৷
১৭৷ ঋনগ্রস্থ ব্যক্তিকে৷
(সহীহুল বুখারী ১৪৬১ হাদীস৷ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪২- ৫৪৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৫৮৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৬৯-৭২ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪৪ পৃষ্ঠা৷)৩৭৷ মাসআলাঃ
#যাদেরকে_যাকাত_দেয়া_যায়নাঃ
১৷ নিজ পিতা, দাদা-দাদী, পরদাদা ও পরদাদীকে৷
২৷ নিজ মাতা, নানা-নানী, পরনানা ও পরনানীকে৷
৩৷ নিজের ছেলে, নাতী-পুতী অধঃস্থনদেরকে৷
৪৷ নিজের মেয়ে, মেয়ের পক্ষের নাতী-নাতনী নিম্নোদেরকে৷
৫৷ স্বামী তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে৷
৬৷ নিসাব পরিমান মালের মালিককে৷
৭৷ নিসাব পরিমান মালের মালিকের নাবালেগ সন্তানদেরকে৷
৭৷ অমুসলিমকে৷
৮৷ বনু হাশিমকে৷
৯৷ রাস্তা-ঘাট নির্মাণের জন্য৷
১০৷ ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণের জন্য৷
১১৷ কুপ বা খাল খননের জন্য৷
১২৷ মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণের জন্য৷
১৩৷ স্কুল কলেজ নির্মাণের জন্য৷
১৪৷ পাঠাগার নির্মাণের জন্য৷
১৫৷ ইসলাম প্রচার বা ইসলামী রাজনিতীর জন্য৷
১৬৷ ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতার জন্য৷
১৭৷ ওয়াজ মাহফিলের জন্য৷
১৮৷ ধর্মিয় বই-পুস্তক ছাপানোর জন্য৷
১৯৷ মৃত ব্যক্তির কাফনের জন্য ইত্যাদি৷ উক্ত খাতসমূহে যাকাত দিলেও যাকাত আদায় হবেনা৷
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫১৬-৫১৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৫৮৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৫৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৮৪ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/২৮২ পৃষ্ঠা৷ খাইরুল ফতোয়া ৩/৩৮৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১০৪-১০৫ পৃষ্ঠা৷ ফিকহুল মুয়াসসার ২৪৭ পৃষ্ঠা৷)৩৮৷ মাসআলাঃ
নিজ আত্নীয়-স্বজনকে যাকাত দিলে দ্বিগুন সাওয়াব হবে৷
১৷ দানের সাওয়াব৷
২৷ আত্নীয়তা রক্ষার সাওয়াব৷
সুতরাং যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে উত্তম হলো প্রথমে নিজের লোকদেরকে দেওয়া, তারপর রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয়-স্বজনকে দেওয়া, তারপর অন্যান্ন আত্নীয়দেরকে দেওয়া, তারপর পতিবেশীকে দেওয়া, তারপর নিজ গ্রাম বা শহরের লোকদেরকে দেওয়া৷ (সহীহুল বুখারী ১৪৬১ হাদীস৷ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪২- ৫৪৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬২ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৪৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১০০-১০১ পৃষ্ঠা৷)৩৯৷ মাসআলাঃ
দরিদ্র আলেম উলামা বা মাদরাসার ছাত্রকে যাকাত দেয়া সবচেয়ে উত্তম৷ কেননা এতে তিনগুন সাওয়াব পাওয়া যাবে৷ ১৷ দানের সাওয়াব৷ ২৷ দ্বীনের সহায়তার সাওয়াব৷ ৩৷ সদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব৷ তবে দ্বীনদার নয় এমন ব্যক্তিকেও যাকাত দেওয়া যাবে। (ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ২/৫৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৫৯২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১০০ পৃষ্ঠা৷ আপকে মাসায়িল ৫/১৪১ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৬৭ পৃষ্ঠা৷)৪০৷ মাসআলাঃ
যাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হল, যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে যাকাত দেয়া। যাতে করে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। কিন্তু এরূপ না করে যদি যাকাতদাতা নিজের খুশি মতো দরিদ্র লোকটির কোনো প্রয়োজনে টাকাটি খরচ করে দেয়, যেমন তার ঘর সংস্কার করে দিল বা টয়লেট স্থাপন করে দিল কিংবা পানি অথবা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিল ইত্যাদি৷ তাহলে যাকাত আদায় হবেনা। (ফতোয়ায়ে শামী ২/২৫৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ১/১৬১ পৃষ্ঠা৷ খুলাসাতুল ফতোয়া ১/২৪৪ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/২৯০ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب.#সৌজন্যেঃ
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ- ১২/৪/২০২২ ঈসায়ী৷
১০ই রমযান ১৪৪৩ হিজরী৷ -
৪৫১. পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিধান
প্রশ্নঃ?
বরাবর
মুফতী তাহমীদ শামী হুজুর!
আপনার কাছে জানার বিষয় হলো-মুসলমানদের জন্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা জায়েয হবে কিনা? যেমন বৈশাখী পোষাক পরিধান করা, বৈশাখী মেলা উদযাপন করা, ইলিশ-পান্তা খাওয়া, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, কপালে সিঁদুর দেয়া, মঙ্গল সুতা দিয়ে রাখি বাঁধা, নানারকম উল্কি আঁকা ইত্যাদি৷
বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো! ধন্যবাদ হুজুর!!
প্রশ্নকারীঃ
হাফেজা তানিয়া ইসলাম তনি
ঢাকা, বাংলাদেশ৷☞ উত্তরঃ
بسم الله الرحمن الرحيمপহেলা বৈশাখ উদযাপন করা বিজাতীয় ও বিধর্মীদের কৃষ্টিকালচার৷ যা মুসলিমদের জন্য পালন করা সম্পুর্ন নাজায়িয ও হারাম৷ যেমন- কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন–
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡُ.
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। (সূরাহ আল ইমরান ১৯ আয়াত৷)অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন–
ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺒْﺘَﻎِ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻹِﺳْﻼﻡِ ﺩِﻳﻨًﺎ ﻓَﻠَﻦْ ﻳُﻘْﺒَﻞَ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﺍﻵﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ.
আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম (বিধর্মী বা বিজাতীয়দের কৃষ্টি-কালচার) অন্বেষণ করবে, তার থেকে তা কখনই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরাহ আল ইমরান ৮৫ আয়াত৷)হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ” .
হযরত ইবনু উমার রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত গণ্য হবে। সনদ হাসান সহীহ৷ (সুনানে আবূ দাউদ ৪০৩১ হাদীস৷)অতএব পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের নামে বৈশাখী পোষাক পরিধান করা, বৈশাখী মেলা উদযাপন করা, ইলিশ-পান্তা খাওয়া, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, কপালে সিঁদুর দেয়া, মঙ্গল সুতা দিয়ে রাখি বাঁধা, নানারকম উল্কি আঁকা, ঢাকঢোল ও কাসার ঘণ্টা বাজানো, পেঁচা, বাদুড়, শিয়াল, কুকুর, হনুমান প্রভৃতি জীব-জন্তুর মুখোশ পরে শোভাযাত্রা বের করা ইত্যাদি সবই হিন্দুয়ানী ও বিজাতীয় অপসংস্কৃতি৷ যা পালন করা কুফরী৷
অপরদিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে ছেলে-মেয়েদের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও বিভিন্ন আপত্তিকর মেলামেশার যে মহরা চলে ইত্যাদি সবই হারাম৷ অতএব পহেলা বৈশাখের সকল কর্যক্রম থেকে বিরত থাকা ঈমানী দায়িত্ব৷
والله اعلم بالصواب
📖 প্রমান্যগ্রন্থাবলীঃ
সূরাহ আল ইমরান ১৯, ৮৫ আয়াত৷
সুনানে আবূ দাউদ ৪০৩১ হাদীস৷
মিরকাত শরহে মিশকাত ৮/২২২ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/৮৭-৮৮ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে জামেয়া ৫/৬৫ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে রশিদিয়া ২৪৯ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে রহিমিয়া ২/৩৫১ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে হামিদিয়া ২/৩৬৭ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ১/১৭৬ পৃষ্ঠা৷
বেহেশতী জেওর ১/৬৭ পৃষ্ঠা৷#উত্তর_লিখনেঃ
মুফতী তাহমীদ শামী
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ-০১ বৈশাখ ১৪২৯ বাংলা৷
১৪/৪/২০২২ ঈসায়ী৷ -
৪৫২. ইতিকাফের বিধি বিধান
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ .
ইতিকাফ আরবি শব্দ৷ ইতিকাফ শব্দের অর্থ হলো- বসে থাকা, অবস্থান করা, বিশ্রাম করা, সাধনা করা ইত্যাদি। শরয়ী পরিভাষায় যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাআত সহকারে নিয়মিত আদায় করা হয়, এমন মসজিদে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়ত সহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। (সূরা বাকারা ১৮৭ নং আয়াত৷ আহকামুল কুরআন ১/৫১৩, ৫১৫ পৃষ্ঠা৷
#ইতিকাফের_গুরুত্বঃ
ইতিকাফ রমযানের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত৷ আর রমযানের অন্যান্য করনীয় ইবাদাত শেষে একজন রোযাদারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ইতিকাফ করা৷ কেননা
রমযানের খায়র-বরকত লাভে ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর নসিব হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আর লাইলাতুল কদরের আশায় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে রমযানের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করেছেন৷ আতপর দ্বিতীয় দশদিন ইতিকাফ করেছেন৷ অতপর স্বপ্নে তাকে জানানো হলো যে, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে রয়েছে৷ অতপর তিনি শেষ দশকে ইতিকাফ করার ব্যপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। শুধু তাই নয়! নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে প্রতি বৎসর ইতিকাফ করেতেন এবং তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন এবং তাঁর সাহাবীরাও ইতিকাফ করতেন৷ আর উম্মতকে তিনি ইতিকাফ করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। যেমন হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
ﻋَﻦْ ﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻓَﺴَﺎﻓَﺮَ ﻋَﺎﻣًﺎ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌَﺎﻡِ ﺍﻟْﻤُﻘْﺒِﻞِ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﻳَﻮْﻣًﺎ .
হযরত উবাই বিন কা’ব রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর রমাদানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। তবে তিনি কোন এক বছর রমযানে সফরে অতিবাহিত করেন। এরপর পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ই‘তিকাফ করেন। সনদ সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৭০ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ২৪৬৩ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৮০৩ হাদীস৷ সহীহ ইবনে খুযায়মাহ ২২২৭ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২০৭৭০ হাদীস৷ মুসতাদারাকে হাকীম ১৬০১ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ২১০২ হাদীস৷)
হাদীস শরীফে আরও বর্নিত হয়েছে-
ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ : ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﷺ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺣَﺘّٰﻰ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻪ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩ .
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ তিনি বলেনঃ হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সবসময়ই রমযান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেছেন৷ তাঁর ওফাতের পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ২০২৬ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১১৭২ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাঊদ ২৪৬২ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৭৯০ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২৪৬১৩ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ২০৯৭ হাদীস৷)
হাদীস শরীফে আরও বর্নিত হয়েছে-
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺮِﺽُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨّﺒِﻲِّ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠّﻢَ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻞّ ﻋَﺎﻡٍ ﻣَﺮّﺓً، ﻓَﻌَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣَﺮّﺗَﻴْﻦِ ﻓِﻲ ﺍﻟﻌَﺎﻡِ ﺍﻟّﺬِﻱ ﻗُﺒِﺾَ ﻓِﻴﻪِ، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﻛُﻞّ ﻋَﺎﻡٍ ﻋَﺸْﺮًﺍ، ﻓَﺎﻋْﺘَﻜَﻒَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻌَﺎﻡِ ﺍﻟّﺬِﻱ ﻗُﺒِﺾَ ﻓِﻴﻪِ .
হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ বলেছেনঃ হযরত জিবরীল প্রতি বছর হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একবার কুরআন শোনাতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ওফাত হয় সে বছর দুই বার শোনালেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ইন্তেকালের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছেন। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ৪৯৯৮, ২০৪৪ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৬৯ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ২৪৬৬ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৭৯০ হাদীস৷ সুনানে দারেমী ১৭৭৯ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ৭৭২৬ হাদীস৷)১৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফের_শর্তসমূহঃ
১৷ মুসলিম হওয়া৷
২৷ বালিগ বা বালিগা হওয়া৷
৩৷ সুস্থ-মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া৷
৪৷ ইতিকাফের নিয়ত করা৷
৫৷ মাসজিদে ইতিকাফ করা৷
৬৷ মাসজিদে নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করা৷
৭৷ রোযা অবস্থায় ইতিকাফ করা৷
(আহকামুল কুরআন ১/৫২২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১০,৫১১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৪৫৭ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/২৮৬ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৮৭ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৫ পৃষ্ঠা৷)২৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফের_স্থানঃ
ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হলো-মাসজিদুল হারাম৷ তারপর মাসজিদুন নববী৷ তারপর মাসজিদুল আকসা৷ তারপর মাসজিদুল জুমুআ৷ তারপর মাসজিদে পাঞ্জেগানা৷ আর মহিলাদের জন্য ইতিকাফের সর্বোত্তম স্থান হলো- ঘরের অন্দর মহল৷ এছাড়া অন্য কোথাও ইতিকাফ সহীহ হবেনা৷ (আহকামুল কুরআন ১/৫১৩, ৫১৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুল হাদীস ৬৫২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৬ পৃষ্ঠা৷ মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা ১৯২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে রহিমীয়া ৫/২০৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী গাওহার ১১/১৪৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/২৮৮ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/২১৩ পৃষ্ঠা৷)৩৷ মাসআলাঃ
পুরুষের ইতিকাফ সহীহ হওয়ার জন্য শরয়ী মসজিদ হওয়া জরুরী। যেমন কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মাসজিদে অবস্থান কর ততক্ষন পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না৷ -(সূরা বাকারা ১৮৭ আয়াত৷) ইমাম কুরতুবী রাহিঃ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ উক্ত আয়াতের আলোকে সকল ইমাম এ বিষয়ে একমত যে, মসজিদ ছাড়া অন্যস্থানে ইতিকাফ সহীহ হবে না। তাই নামায-ঘরে বা ইবাদত খানায় কিংবা অন্য কোন স্থানে ইতিকাফ সহীহ হবে না। অনুরুপভাবে মিল ফেক্টরীর ওয়াকফবিহীন মাসজিদেও ইতিকাফ সহীহ হবেনা৷ যদিও ইমাম মুয়াযযিন নির্ধারিত থাকে৷ (সূরা বাকারা ১৮৭ আয়াত৷ তাফসীরে কুরতুবী ২/২২২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুল কুরআন ১/৫১২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুল আওকাফ ৭২ পৃষ্ঠা৷ মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা ১৯১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৪৪০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া ৩/৪৪২ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০ পৃষ্ঠা৷)৪৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফ_তিন_প্রকারঃ
১৷ ওয়াজিব ইতিকাফ৷ তথা-মান্নতের ইতিকাফ৷
২৷ সুন্নত ইতিকাফ৷ তথা-রমযান মাসের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ৷
৩৷ নফল ইতিকাফ৷ তথা-যে কোন দিন বা যে কোন সময়ের ইতিকাফ৷ তবে নফল ইতিকাফ এক মুহুর্তও হতে পারে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৭২, ১৭৬৯ হাদীস৷ মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা ১৯১ পৃষ্ঠা৷ নাসরুল বারী শরহে বুখারী ৫/৬৪৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৫/২১৭ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী গাওহার ১১/১৪৭ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৫ পৃষ্ঠা৷)৫৷ মাসআলাঃ
#সুন্নত_ইতিকাফঃ
রমযান মাসের শেষ দশদিন মহল্লার মাসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ আলাল কিফায়া৷ অর্থাৎ মহল্লার দু’একজন লোক ইতিকাফ করলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে৷ আর যদি মহল্লার একজন লোকও ইতিকাফ না করে, তবে মহল্লার সকলেই সুন্নাত তরকের গুনাহগার হবে৷ (সহীহুল বুখারী ২০২৬ হাদীস৷ মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা ১৯১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ৩/৪৩০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৩/৩০২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/২৮৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৬ পৃষ্ঠা৷)৬৷ মাসআলাঃ
অনেক এলাকায় এরুপ প্রচলন রয়েছে যে, শুধু রমযানের শেষ তিনদিন ইতিকাফ করে৷ এতে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ ইতিকাফ আদায় হবেনা বরং তা নফল ইতিকাফ হিসেবে গন্য হবে৷ আর উক্ত অবস্থায় সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার কারনে মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে৷ (সহীহুল বুখারী ২০২৬ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ৭৭২৬ হাদীস৷ ইমদাদুল ফতোয়া ২/১৫৪ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৬ পৃষ্ঠা৷ মাসায়েলে ইতিকাফ ২৬ পৃষ্ঠা৷)৭৷ মাসআলাঃ
রমযান মাসের বিশ রোযার দিন সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ইতিকাফের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করা এবং ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফে বহাল থাকা জরুরী৷ তবে সূর্যাস্তের পুর্বেই যদি ঈদের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফে অবস্থান করা জরুরী৷ (নাসরুল বারী শরহে বুখারী ৫/৬৪৩ পৃষ্ঠা৷ আনওয়ারুল মিশকাত ৩/৩৭২ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/২১৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/৬৬ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৬ পৃষ্ঠা৷)৮৷ মাসআলাঃ
অনেক এলাকায় ইতিকাফ করার জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যায়না৷ তখন অন্য এলাকা থেকে লোক এনে ইতিকাফে বসায়৷ এতে ইতিকাফ আদায় হয়ে যাবে৷ কিন্তু এরুপ করা উচিত নয়৷ (ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৬/৫১২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৪৪২ পৃষ্ঠা৷ খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭ পৃষ্ঠা৷ ইলাউস সুনান ১৬/১৭২ পৃষ্ঠা৷ মাসায়েলে ইতিকাফ ২৪-২৫ পৃষ্ঠা৷)৯৷ মাসআলাঃ
বিনিময় দিয়ে বা বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েয৷ কেননা ইতিকাফ একটি ইবাদাত৷ আর ইবাদাতের বিনিময় দেয়া-নেয়া জায়েয নেই৷ তাই বিনিময় দিয়ে-নিয়ে ইতিকাফ আদায় হবেনা৷ কিন্তুু ইতিকাফকারীকে হাদিয়া দেয়া অবশ্যই জায়েয হবে৷ (ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/৩২৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/১৯৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতার খানিয়া ২/৩২৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ১/৪৫৮ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৬ পৃষ্ঠা৷)১০৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফকারীর_করণীয়ঃ
১৷ অধিক পরিমাণে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা৷
২৷ অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা৷
৩৷ অধিক পরিমাণে তাসবীহ তাহলীল পাঠ করা৷
৪৷ অধিক পরিমাণে তাওবা ইস্তিফফার করা৷
৫৷ অধিক পরিমানে নফল নামায আদায় করা৷
৬৷ সর্বদা আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মগ্ন থাকা৷
৭৷ ইলমে দ্বীন চর্চা করা৷
৮৷ দ্বীনি কিতাবাদী মুতায়ালা করা৷
৯৷ দ্বীনি কিতাবাদী রচনা করা৷
১০৷ ফতোয়া ও মাসআলা মাসায়িল রিসার্চ করা৷
(নাসরুল বারী শরহে বুখারী ৫/৬৪৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/৬৭ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৭ পৃষ্ঠা৷ আহকামে রমযানুল মোবারক ১০ পৃষ্ঠা৷)১১৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফ_ভঙ্গের_কারণসমূহঃ
১৷ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় স্ত্রী-সহবাস করা৷
২৷ খাহেশাতসহ স্বামী-স্ত্রী আদর-সোহাগ করা৷
৩৷ হস্তমৈথুন করে বির্যপাত করা৷
৪৷ শরয়ী প্রয়োজন ব্যতীত রোযা ভঙ্গ করা৷
৫৷ শরয়ী প্রয়োজন ব্যতীত মাসজিদ থেকে বের হওয়া৷
৬৷ ভুলক্রমে মাসজিদ থেকে বের হওয়া৷
৭৷ জোরপুর্বক কেউ মাসজিদ থেকে বের করে দিলে৷
৮৷ চিকিৎসার জন্য মাসজিদ থেকে বের হলে৷
৯৷ রোগীর সেবার জন্য মাসজিদ থেকে বের হলে৷
১০৷ জানাযা পড়া বা পড়ানোর জন্য মাসজিদ থেকে বের হলে৷
১১৷ ফরয নয় এমন গোসলের জন্য মাসজিদ থেকে বের হলে৷
১২৷ জিহাদের উদ্দেশ্যে মাসজিদ থেকে বের হলে৷
১৩৷ মহিলাদের হায়েয বা নেফাস হলে৷ (সূরা বাকারা ১৮৭ আয়াত৷ সুনানে আবূ দাঊদ ২৪৭৩ হাদীস৷ সুনানুল কুবরা-বায়হাকী ৮৫৯৪ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ২০০৪ হাদীস৷ আহকামুল কুরআন ১/৫২০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৩৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১২-৫১৩ পৃষ্ঠা৷)১২৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফকারীর_গোসলের_হুকুমঃ
ইতিকাফ অবস্থায় ফরয গোসল ব্যতীত অন্য গোসলের জন্য মাসজিদের বাহিরে গেলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে৷ এমনকি জুমার গোসলের জন্যও৷ কেননা হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় জুমার গোসল করেন নি৷ তবে হাঁ যদি অতিব প্রয়োজন হয় যার কারনে শারীরিক অস্থিরতা অনুভব হয় এবং ইবাদতে বিঘ্নতা ঘটে, তাহলে গোসল করতে পারবে৷ তবে এ ক্ষেত্রে করনীয় হলো অজুর জন্য বের হয়ে অজুর সমপরিমাণ সময়ে গোসল করে নেওয়া৷ কিন্তু গায়ে সাবান লাগালে ও কাপড় ধুয়ে সময় নষ্ট করলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে৷ (বেহেশতী জেওর ৩/২৭২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে উসমানী ২/১৯৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাদানিয়া ১/৩১৮ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/৫০৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুল হাদীস ৬৫৪ পৃষ্ঠা৷ মাসায়িলে ইতিকাফ ৪৬ পৃষ্ঠা৷)১৩৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফকারী_যেসব_কারনে_মাসজিদ_থেকে_বের_হতে_পারেঃ
১৷ পস্রাব পায়খানা করার জন্য৷
২৷ অজু করার জন্য৷
৩৷ ফরয গোসল করার জন্য৷
৩৷ খানা আনার জন্য৷ যদি কোন লোক না থাকে৷
৪৷ আযান দেওয়ার জন্য৷ যদি তিনি মুয়াযযিন হয়৷
৫৷ জুমার নামায আদায় করার জন্য৷ যদি উক্ত মাসজিদে জুমা না হয়৷
৬৷ জান-মালের নিরাপত্তার জন্য৷
৭৷ মাসজিদ ভেঙ্গে গেলে অন্য মাসজিদে যাওয়ার জন্য৷
(আহকামুল কুরআন ১/৫১৮ পৃষ্ঠা৷ আহকামুল হাদীস ৬৫৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৪৪৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ২/৪৬০ পৃষ্ঠা৷ কিতাবুল ফিকাহ ১/৯৫৩ পৃষ্ঠা৷ মাজমাউল আনহুর ১/২৫৬ পৃষ্ঠা৷)১৪৷ মাসআলাঃ
#ইতিকাফের_কাযাঃ
রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা অবস্থায় যদি কোন দিনের ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়, তবে শুধু সে দিনের ইতিকাফ কাযা করা ওয়াজিব হবে৷ আর তা সামনের রমযানেও কাযা করতে পারবে। তবে রমযানের বাইরে ইতিকাফটি কাযা করতে চাইলে সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন নফল রোযাসহ সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করতে হবে। উল্লেখ- শুধু ওয়াজিব ও সুন্নত ইতিকাফের কাযা করতে হয়৷ নফল ইতিকাফের কোন কাযা নেই৷ (সহীহুল বুখারী ২০৪১ হাদীস৷ মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা ২১৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ৩/৪৪৪ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮২ পৃষ্ঠা৷ ফাতহুল কাদীর ২/৩০৮ পৃষ্ঠা৷)১৫৷ মাসআলাঃ
#মান্নতের_ইতিকাফঃ
কেহ যদি মান্নত করে যে, মাসজিদুল হারামে বা মাসজিদুন নববীতে কিংবা মাসজিদুল আকসায় অথবা অন্য কোন মাসজিদে ইতিকাফ করবে, তবে যে কোন মাসজিদে ইতিকাফ করলেই মান্নত পুরা হয়ে যাবে৷ (সহীহুল বুখারী ২০৩২ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ২৪৭৪ হাদীস৷ মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা ২১৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)১৬৷ মাসআলাঃ
কেহ যদি একমাস ইতিকাফ করার মান্নত করে মৃত্যু বরন করে, তবে প্রতি দিনের ইতিকাফের জন্য সদকাতুল ফিতর পরিমাণ খাদ্য বা মূল্য মিসকিনকে দেয়া ওয়াজিব হবে৷ তবে কেহ যদি অসুস্থ অবস্থায় মান্নত করে যে, যদি সুস্থ হই তবে একমাস ইতিকাফ করবো, কিন্তু সুস্থ হওয়ার পুর্বেই সে মারা গেল, তাহলে কিছুই করতে হবেনা৷ আর কারো জিম্মায় ইতিকাফের কাযা থাকলে মৃত্যুর পুর্বেই অসিয়ত করে যাওয়া ওয়াজিব৷ (সহীহুল বুখারী ২০৪৩ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫১৬-৫১৭ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪৪ পৃষ্ঠা৷ আহকামুল কুরআন ১/৫১৭ পৃষ্ঠা৷)
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ#সৌজন্যেঃ
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
১৯ রমযান ১৪৪৩ হিজরী৷
২১/৪/২০২২ ঈসায়ী৷ -
৪৫৩. সদকাতুল ফিতরের বিধি বিধান
بسم الله الرحمن الرحيم.
#সদকাতুল_ফিতর_ওয়াজিব_হওয়ার_কারনঃ
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنْ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ فَمَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنْ الصَّدَقَاتِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযাদারের অনর্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচার-আচরণের কাফ্ফারাস্বরূপ এবং গরীব-মিসকীনদের আহারের সংস্থান করার জন্য সদকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন৷ যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পূর্বে তা পরিশোধ করে (আল্লাহর নিকট)-তা গ্রহণীয় দান হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পর তা পরিশোধ করে, তাও দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি দান হিসেবে বিবেচিত হবে। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ১৬০৯ হাদীস৷ সুনানে দারাকুতনী ২০৬৭ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ১৮১৮ হাদীস৷)
※ হযরত আবু হাফস শাহীন গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণনা করেনঃ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَا يَزَالُ صِيَامُ الْعَبْدِ مُعَلَّقًاۢ بَيْنَ السَّمَآءِ وَالْأَرْضِ حَتّٰى يُؤَدِّىَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ.
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
বান্দাহর রোযা রবের নিকট পৌঁছে না, আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী ঝুলন্ত অবস্থায় রয়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সদকাতুল ফিতর আদায় করে। (কানযুল উম্মাল ২৪১৩০ হাদীস৷ ফয়জুল কালাম ৩৬০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷ দুররাতুন নাসিহীন ৪৯৩ পৃষ্ঠা৷)১৷ মাসআলাঃ
#যাদের_উপর_সদকাতুল_ফিতর_ওয়াজিবঃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى النَّاسِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيْرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنْ الْمُسْلِمِيْنَ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, আযাদ-গোলাম, বালেগ-নাবালেগ সকলের উপর রমযানে সদকাতুল ফিতর হিসেবে একসা খেজুর কিংবা একসা যব নির্ধারন করে দিয়েছেন৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৬ হাদীস৷ সহীহুল বুখারী ১৫০৪ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৬৮ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৬ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ২৫০৪ হাদীস৷)২৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন যে ব্যক্তির মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তথা- সাড়ে সাত ভড়ি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভড়ি রুপা কিংবা এই পরিমাণ অর্থসম্পদ থাকে, তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। আর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর হস্তগত থাকা শর্ত নয়৷ (সহীহুল বুখারী ১৫১১ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৬/৫৫২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৫৫ পৃষ্ঠা৷ শরহে মুখতাসারুল কুদুরী ১/১৪৯ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷)৩৷ মাসআলাঃ
সদকাতুল ফিতর নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব। তাছাড়া নিজের স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘরের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অনুমতিক্রমে ফিতরা দিলে আদায় হয়ে যাবে। (সহীহুল বুখারী ১৫১২ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৭০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৮৮ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৬৫ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৮ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)৪৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়৷ কাজেই কোন বাচ্চা যদি সুবহে সাদিকের পুর্বে জন্ম গ্রহণ করে তবে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে৷ আর কেহ যদি সুবহে সদিকের পুর্বেই মৃত্যবরণ করে তবে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবেনা৷ তাছাড়া পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর দেয়া ওয়াজিব হয় না, কিন্তু কেহ যদি ফিতরা দেয় তবে নফল সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। (সহীহু মুসলিম ২১৭৮ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৭-৪৬৮ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৭৪-২৭৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০-৪১ পৃষ্ঠা৷)৫৷ মাসআলাঃ
#সদকাতুল_ফিতরের_পরিমাণঃ
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضى الله عنه ـ يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ.
হযরত আবূ সা’ঈদ খুদরী রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ তিনি বলেনঃ হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে থাকাবস্থায় আমরা একসা পরিমাণ খাদ্য অথবা একসা পরিমাণ যব অথবা একসা পরিমাণ খেজুর অথবা একসা পরিমাণ পনির অথবা একসা পরিমাণ কিসমিস দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ১৫০৬ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৭৫ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷)৬৷ মাসআলাঃ
যব, খেজুর, আঙ্গুর, পনির এই চার প্রকার খাদ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু একসা পরিমাণ দিতে হবে৷ একসা এর পরিমাণ হলো- ৩কেজি ৩০০গ্রাম৷ সতর্কতাবশত সাড়ে তিন কেজি দেয়া উত্তম হবে৷ আর গম বা আটা দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে পাথাপিছু আধাসা পরিমাণ দিতে হবে৷ আধাসা এর পরিমাণ হলো- ১কেজি ৬৫০গ্রাম৷ সতর্কতাবশত পৌনে দুই কেজি দেয়া উত্তম হবে৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮২৯ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৯৯০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৪ পৃষ্ঠা৷ ইমদাদুল ফতোয়া ২/৭৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৫/২২০, ৬/৫৫০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৫ পৃষ্ঠা৷)৭৷ মাসআলাঃ
#পাঁচ_প্রকার_খাদ্যদ্রব্য_দ্বারা_ফিতরা_আদায়_করা_উত্তমঃ
১৷ যব৷
২৷ খেজুর৷
৩৷ আঙ্গুর বা কিসমিস৷
৪৷ পনির৷
৫৷ গম বা আটা৷
উক্ত পাঁচ প্রকার খাদ্যদ্রব্য থেকে অধিক মূল্যবান বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম৷ এছাড়া উক্ত মূল্যের অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য দ্বারাও ফিতরা আদায় করা যায়৷ অতএব সাধ্যানুযায়ী সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত৷ (সহীহু মুসলিম ২১৭৪ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ১০৭৯৮ হাদীস৷ সুনানে দারামী ১৬৬৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮৩ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১-৪২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১১৪ পৃষ্ঠা৷)৮৷ মাসআলাঃ
#টাকা_দ্বারাও_সদকাতুল_ফিতর_আদায়_করা_যায়ঃ
যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-
ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﺍﻟْﻌُﺮُﻭﺽَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻮَﺭِﻕِ ﻭَﻏَﻴْﺮِﻫَﺎ.
হযরত উমর রাযিঃ সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে টাকা ইত্যাদি গ্রহণ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৫৩৯ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)
※ অপর বর্ণনায় এসেছে-
হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযিঃ রমযানে সদকাতুল ফিতরে খাদ্যের মূল্য পরিমাণ দিরহাম আদায় করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৪৭২ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)
※ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহিঃ বলেছেনঃ
عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «لَا بَأْسَ أَنْ تُعْطِيَ الدَّرَاهِمَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ»
সদকাতুল ফিতর দিরহাম দ্বারা প্রদান করতে কোন সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৪৭১ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪২ পৃষ্ঠা৷)৯৷ মাসআলাঃ
সকল ফকীহগণের ঐকমত্য হলো- গরিবদের জন্য যা বেশী উপকারী হয় তা দ্বারা ফিতরা দেয়া উত্তম। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমাণে টাকা-পয়সাই সবচেয়ে বেশী উপকারী বস্তু৷ কেননা এর দ্বারা সহজেই যে কোন প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব হয়৷ কাজেই টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়াই উত্তম৷ আর হাদীসে যেসব বস্তু ফিতরার জন্য নির্ধারন করা হয়েছে তা মূলত সহজতার জন্যই ছিল৷ নির্দিষ্ট করার জন্য ছিলনা৷ তবে মূল্যের পরিমাণ নির্ধারন করার ক্ষেত্রে অবশ্যয়ই উক্ত বস্তুসমূহ দ্বারা নির্ধারণ করতে হবে৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৪৭২ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৬১৫ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ৪/২১৯ পৃষ্ঠা৷ শরহে মুয়াত্তা মালিক আওজাযুল মাসালিক ৬/১২৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৬৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)১০৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত৷ তবে ঈদের নামাযের পরে দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে৷ কিন্তু তা অনুত্তম৷ কেননা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই সদকাতুল ফিতর প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তাই ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই ফিতরা প্রদান করে দিবে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৬১০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৬১৫ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৭ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৫৪ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৫ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৫৫ পৃষ্ঠা৷)১১৷ মাসআলাঃ
যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায় ফিতরাও তাদেরকেই দেওয়া যায়৷ এক ফিতরা একজনকে দেওয়া উত্তম৷ তবে একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়৷ তেমনিভাবে একাধিক ফিতরাও একজনকে দেওয়া যায়৷ (সুনানে আবু দাউদ ১৬১১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৬/৫৫০ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৭৬ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১১২ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب.#সৌজন্যেঃ
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ- ২৫/৪/২০২২ ঈসায়ী৷
২৩ রমযান ১৪৪৩ হিজরী৷