• ৪৬৭. হাফেজা মেয়েকে গায়রে হাফেজ ছেলের বিবাহের বিধান

    ☞ প্রশ্ন 😕
    মাননীয় মুফতী সাহেব!
    আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, হাফেজা মেয়েকে গায়রে হাফেজ ছেলে বিবাহ করতে পারবেনা। কারণ, কুরআনের উপর কোন কিছু রাখা জায়েয নাই। আর হাফেজা মেয়ে কুরআনের মতই। প্রচলিত এ কথা সঠিক কিনা? দলীলসহ জানতে চাই!
    প্রশ্নকারী :
    এস এম সগীর বিন মানসুর
    নরসিংদী, ঢাকা, বাংলাদেশ।

     উত্তর :

    بسم الله الرحمن الرحيم
    হাফেজা মেয়েকে গায়রে হাফেজ ছেলে বিবাহ করতে পারবে না বলে প্রচলিত কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং গায়রে হাফেজ বা জেনারেল শিক্ষিত ছেলে যদি দ্বীনদার ও পরহেযগার হয়, তবে হাফেজা বা আলেমা মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে। এতে কোন সমস্যা নেই। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
    عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ، إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ، وَفَسَادٌ عَرِيضٌ

    হযরত আবূ হুরায়রা রা : থেকে বর্ণিত : হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন তোমাদের কাছে এমন লোক বিবাহের প্রস্তাব দেয়, যার দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তবে বিবাহ দিয়ে দাও! যদি তা না কর তবে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ফিতনা-ফাসাদ দেখা দিবে। সনদ হাসান সহীহ। (সুনানে তিরমিযী ১০৮৪ নং হাদীস।)
    অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-

    عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّمَا الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَلَيْسَ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا شَيْءٌ أَفْضَلَ مِنْ الْمَرْأَةِ الصَّالِحَةِ
    হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাযি : থেকে বর্ণিত : হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ। আর দুনিয়ার মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোন সম্পদ নাই। সনদ সহীহ। (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮৫৫ হাদীস।)
    অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-

    عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ.

    হযরত আবূ হুরায়রা রাযি : থেকে বর্ণিত :
    হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয় : ১। তার সম্পদ। ২। তার বংশমর্যাদা। ৩। তার সৌন্দর্য। ৪। তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সনদ সহীহ।
    (সহীহুল বুখারী ৫০৯০ নং হাদীস।)

    উল্লেখিত হাদীস সমূহে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারীত্বকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর হাফেজা ও আলেমা মেয়েরা সাধারণভাবেই দ্বীনদার। তাছাড়া নিজে হাফেজ বা আলেম না হয়েও হাফেজা বা আলেমা মেয়েকে বিবাহ করতে পারা বড়ই সৌভাগ্যের ব্যাপার।

    والله اعلم بالصواب

    ☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :
    আল কুরআন সূরা নিসা ৩, ২৪ নং আয়াত।
    আল কুরআন সূরা নুর ২৬ নং আয়াত।
    সহীহুল বুখারী ৫০৯০ নং হাদীস।
    সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮৫৫ নং হাদীস।
    সুনানে তিরমিযী ১০৮৪ নং হাদীস।
    ফতোয়ায়ে রহিমীয়া ৩/১৪২ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ৭/২১০ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ২/৭৭ পৃষ্ঠা।
    ☞ উত্তর লিখনে :
    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত তাহমীদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ।
    তারিখ-১৫/১১/২০২২ ঈসায়ী।

  • ৪৬৮. প্রথম বিবাহের এক ঘন্টা পর দ্বিতীয় বিবাহের বিধান

    👉 প্রশ্ন :
    মুহতারাম মুফতী সাহেব!
    জনৈক ব্যক্তি এক সাথে দুই মেয়েকে বিবাহ দিল। বিবাহ পড়ানোর সময় কাজী সাহেব বড় মেয়ের বিবাহ ছোট ছেলের সাথে ও ছোট মেয়ের বিবাহ বড় ছেলের সাথে পড়িয়ে দিল। অতঃপর এক ঘণ্টা পর কাজী সাহেব এসে বলতে লাগলেন যে, বিবাহ ভুলে উল্টো পড়ানো হয়ে গেছে। তাই পুনরায় বিবাহ পড়াতে হবে। অতঃপর মেয়ে পরিবর্তন করে অর্থাৎ বড় মেয়ের সাথে বড় ছেলে ও ছোট মেয়ের সাথে ছোট ছেলের বিবাহ পড়ানো হলো। কিন্তু ছোট মেয়ের স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ মানতে রাজি নন। কেননা তার বক্তব্য হলো দ্বিতীয় বিবাহ শুদ্ধ হয়নি। কিন্তু বড় মেয়ের স্বামী তার দ্বিতীয় বিবাহের স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেল এবং সংসার করতে লাগলো। এ অবস্থায় শরীয়তের বিধান কি?
    👉 প্রশ্নকারী :
    এমডি মুহিব্বুল্লাহ ফরাজী
    কাতার প্রবাসী।

     উত্তর :

    بسم الله الرحمن الرحيم
    উল্লেখিত অবস্থায় প্রথম বিবাহ অর্থাৎ বড় মেয়ের সাথে ছোট ছেলে এবং ছোট মেয়ের সাথে বড় ছেলের বিবাহ সহীহ হয়েছে। কিন্তু পুনরায় এক ঘণ্টা পর কাজী সাহেব যে বিবাহ পড়িয়েছেন তা সহীহ হয়নি। কেননা কোন মেয়ে কারো বিবাহে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ হারাম। তবে উক্ত বিবাহ যদি রদবদল করতেই হয় তাহলে তখন কর্তব্য ছিল প্রথমে উভয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পুনরায় বিবাহ পড়িয়ে দেওয়া। আর বড় ছেলে দ্বিতীয় বিবাহের স্ত্রীকে তথা বড় মেয়েকে নিয়ে যে সংসার করেছে তা বৈধ হয়নি বরং যিনা হয়েছে। সুতরাং এখনি তাদেরকে পৃথক করে দিতে হবে। উল্লেখ্য : এখনো তাদের প্রথম বিবাহ বহাল রয়েছে।

    والله اعلم بالصواب

    👉 প্রামাণ্য গ্রন্থাবলী :
    আল কুরআন সূরা নিসা ২৪ নং আয়াত।
    তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/২১ পৃষ্ঠা।
    আহকামুল কুরআন ৩/৩০২ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে আলমগীরী ২/৫৩ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/২৪৪ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ৩/৪৫ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ২/২৫৭ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১০/৪০৮ পৃষ্ঠা।
    ফতোয়ায়ে শামী ৪/৪৫৬ পৃষ্ঠা।
    বেহেশতী জেওর ৪/৪১১ পৃষ্ঠা।

    👉 উত্তর লিখনে :
    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত তাহমীদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ।
    তারিখ-০১/০১/২০২৩ ঈসায়ী।

  • ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

    প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা, স্নেহ-প্রীতি, ভক্তি-শ্রদ্ধা ইত্যাদি রবের পক্ষ হতে বান্দার প্রতি সীমাহীন অনুগ্রহ। এ মর্মে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন :

    وَمِنْ اٰيٰتِهٖۤ اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوْۤا اِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَّوَدَّةً وَّرَحْمَةً ؕ اِنَّ فِىْ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ.

    আর তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সৃষ্টি করিয়াছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করিয়াছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রহিয়াছে। (সূরা রূম ২১ আয়াত।)

    তাই ভালোবাসা হলো আত্মার তৃপ্তি। মনের প্রশান্তি। জীবন চলার পাথেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা শিক্ষা দিয়েছেন, যা কোনো বিশেষ দিবসের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও উত্তম চরিত্র-মাধুর্য দ্বারা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয় করে নিয়েছেন শত কোটি মানুষের হৃদয়, বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামের বিকিরণ। প্রতিটি ভালোবাসা হতে হবে আবেগ, বিবেক ও স্রষ্টার সম্মতির সমন্বয়। কিন্তু যে ভালোবাসা হয় শুধু আবেগ বা কু-প্রবৃত্তির, সে ভালোবাসা মানুষের ইহকাল-পরকাল উভয়কে ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংস করে দেয় মানুষের মনুষ্যত্বকে, জাগরিত করে পশুত্বের হিংস্র বৈশিষ্ট্যকে।

    দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান বিশ্বে ভালোবাসা দিবসের নামে উৎপত্তি হচ্ছে নানান অপসংস্কৃতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা। ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন। যা ইসলামের নীতি ও আদর্শবহির্ভূত। আর তাইতো নৈতিক অবক্ষয় দাবানলের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে।

    ভালোবাসা দিবসের সূচনা :

    নোংরা ও জঘন্য ইতিহাসের স্মৃতিচারণের নাম বিশ্ব ভালবাসা দিবস। এ ইতিহাসটির বয়স ১৭৩৭ বছর হলেও বিশ্ব ভালবাসা দিবস নামে এর চর্চা শুরু হয় সাম্প্রতিক কালেই। ২৭০ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারির কথা। তখন রোমের সম্রাট ছিলেন ক্লডিয়াস। সে সময় ভ্যালেন্টাইন নামে একজন সাধু ছিল, যিনি তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকাদেরকে গোপন পরিণয়-মন্ত্রে দীক্ষা দিত। এ অপরাধে সম্রাট ক্লডিয়াস সাধু ভ্যালেন্টাইনের শিরশ্ছেদ করেন। আর যেদিন তাকে শিরশ্ছেদ করা হয়, সেদিনটি ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারী। তার এ ভ্যালেন্টাইন নাম থেকেই এ দিনটির নাম করণ করা হয় ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ যা আজকের ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’।

    বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৩ ইং সাল থেকে। কিছু ব্যবসায়ীর মদদে এটি প্রথম চালু হয়। অপরিণামদর্শী মিডিয়া কর্মীরা এর ব্যাপক কভারেজ দেয়। আর যায় কোথায়! লুফে নেয় তাকে বাংলার তরুণ-তরুণীরা। এরপর থেকে মুসলমানের মধ্যে বৈধ ভালবাসার পরিবর্তে অবৈধ ভালোবাসা বেঁধে দেয়ার কাজটা যথারীতি চলছে। আর এর ঠিক পিছনেই মানব জাতির আজন্ম শত্রু মিস্টার ইবলিস এইডস নামক মরণ-পেয়ালা হাতে নিয়ে খিলখিল করে হাসছে। মানুষ যখন বিশ্ব ভালবাসা দিবস সম্পর্কে জানত না, তখন পৃথিবীতে ভালবাসার অভাব ছিলনা। আজ পৃথিবীতে ভালবাসার বড়ই অভাব। তাই দিবস পালন করে ভালবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হয়! আর হবেই না কেন! অপবিত্রতা নোংরামি ও শঠতার মাঝে তো আর প্রকৃত ভালোবাসা নামক বস্তুটি থাকতে পারে না। তাই আল্লাহ তায়ালা মানুষের হৃদয় মন থেকে ভালবাসা উঠিয়ে নিয়েছেন।

    বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে চেনার কিছু বাস্তব নমুনা :

    দিনটি যখন আসে তখন শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা তো একেবারে বেসামাল হয়ে উঠে। নিজেদের রূপ-সৌন্দর্য উজাড় করে প্রদর্শনের জন্য রাস্তায় নেমে পড়ে। শুধুই কি তাই ! অঙ্কন পটীয়সীরা উল্কি আঁকার জন্য পসরা সাজিয়ে বসে থাকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে। তাদের সামনে তরুণীরা পেট-পিঠ,বুক-বাহু আর হস্তদ্বয় মেলে ধরে পছন্দের উল্কিটি এঁকে দেয়ার জন্য। তারপর রাত পর্যন্ত নীরবে-নিবৃতে চলে প্রেমিক- প্রেমিকার অবৈধ আনন্দ উল্লাস। যেদিন অকালেই হাড়িয়ে ফেলে কত নারী তার সবচেয়ে মূল্যবান সতীত্ব। এ হলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের কর্মসূচি! আমি বলি কি! এ দিবসটিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস না বলে বিশ্ব বেহায়াপনা দিবস বললে অন্তত নামকরণটি যথার্থ হতো।

    বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালনের ক্ষতিকর কিছু দিক :

    ☞ ভালোবাসা নামের এ শব্দটির সাথে এক চরিত্রহীন লম্পটের স্মৃতি জড়িয়ে যারা ভালোবাসার জয়গান গেয়ে চলেছে, পৃথিবীবাসীকে তারা সোনার পেয়ালায় করে নীল বিষ পান করিয়ে বেড়াচ্ছে।

    ☞ তরুণ তরুণদের সস্তা যৌন আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন : তারা তো পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়। আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না। (সূরা মায়িদা ৬৪ আয়াত।)

    ☞ নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করছে। যারা ঈমানদারদের সমাজে এ ধরণের অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন : যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি.. (সূরাহ নূর ১৯ আয়াত।)

    বস্তুত যে সমাজেই চরিত্র-হীনতার কাজ ব্যাপক, তথায় আল্লাহর নিকট থেকে কঠিন আযাবসমূহ ক্রমাগত অবতীর্ণ হওয়া অবধারিত। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্লজ্জতা প্রকাশমান এবং তারা এর ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করে, তার অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ মহামারি, সংক্রামক রোগ এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ এত প্রকট হয়ে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কখনই দেখা যায় নি। (সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০০৯ হাদীস।)

    ☞ তরুণ তরুণীরা বিবাহ পূর্ব দৈহিক সম্পর্ক গড়তে কোন রকম কুণ্ঠাবোধ করছে না। অথচ তরুণ ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন মিশরের মহা এক রানী অভিসারে ডেকেছিল, তখন তিনি কারা বরণকেই এহেন অপকর্মের চেয়ে উত্তম জ্ঞান করেছিলেন। যুব-চরিত্রকে পবিত্র রাখার জন্য তিনি অতুলনীয় ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন! আল্লাহ তায়ালা সূরা ইউসুফের ২৩-৩৪ নং আয়াত পর্যন্ত এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

    ☞ শরীরে উল্কি আঁকাতে যেয়ে নিজের ইজ্জত-আব্রু পরপুরুষকে দেখানো হয়। যা প্রকাশ্য কবিরা গুনাহ। যেমন হাদীস শরীফে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যে আঁকায়, উভয়য়ের উপরই আল্লাহর লা‘নত। (সহীহুল বুখারী ৫৪৭৭ হাদীস।)

    মূলত যার লজ্জা নেই, তার পক্ষে এহেন কাজ নেই যা করা সম্ভব নয়। তাইতো হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তাহলে যা ইচ্ছা তুমি তাই করতে পার। (সহীহুল বুখারী ৩২২৫ হাদীস।)

    ☞ ভালোবাসা দিবসের নামে নির্লজ্জতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যিনা-ব্যভিচার, খুন-খারাবী ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি : থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে জনগোষ্ঠীর-মধ্যে ব্যভিচার ব্যাপক হবে, তথায় মৃত্যুর আধিক্য ব্যাপক হয়ে দেখা দেবে। (মুয়াত্তা মালিক ৮৭০ হাদীস।)

    উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসের ভাষ্য কতটা বাস্তব, বর্তমান বিশ্বের চিত্র এর প্রমাণ বহন করছে।

    সুতরাং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মুসলমানের জন্য এ দিবস পালন করা বা এটাকে সমর্থন করা অথবা এ উপলক্ষে প্রেম-ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। অতএব তা পরিহার করা ঈমানী দায়িত্ব!

    والله اعلم بالصواب
    লেখক :
    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত-তাহমীদ রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ।
    তারিখ-১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ঈসায়ী।

  • ৪৭০. তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের বিধান (হিল্লা বিয়ের আদ্যোপান্ত)

    প্রশ্ন :
    বরাবর
    মাননীয় মুফতী সাহেব।
    বিনয়ের সাথে জানতে চাচ্ছি যে,
    জনৈক স্বামী তার স্ত্রীকে বলেছে যে অমুক কথাটা তুমি তোমার ভাইকে বলবে না। কিন্তু স্ত্রী তা তার ভাইয়ের কাছে বলে ফেলে। অতঃপর স্বামী জানতে পেরে রাগ করে স্ত্রীকে ফোন করে বলেন যে, তুকে এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক। অতঃপর ফোন কেটে দেয়। এরপর থেকে প্রায় দুই বছর এইভাবেই কেটে যায় এবং স্বামী আশ্বস্ত করেন যে ইহার একটি সমাধান বের করবেন। আর মাঝে মধ্যে তাদের মাঝে সাক্ষাৎ হত কিন্তু কখনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। উনাদের দুইটা সন্তানও রয়েছে। উনারা আবার সংসার করতে চায় এমতাবস্থায় ওনাদের উপর শরিয়তের হুকুম কি.. কুরআন হাদিসের আলোকে সমাধান কি অনুগ্রহ করে জানাবেন।

    উত্তর

    ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ.

    বর্ণিত অবস্থায় স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের জন্য হারাম হয়ে গিয়েছে। আর তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য স্বামীর সংসারে থাকা, স্বামীর সাথে দেখা-সাক্ষাত করা, কথা-বার্তা বলা ইত্যাদি সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং তারা দু-বছর যাবত হারাম কাজে লিপ্ত রয়েছেন। তাই এখনি পৃথক হয়ে যাওয়া ও তাওবা করা জরুরী।
    আর উক্ত অবস্থায় শরয়ী হিল্লা ব্যতীত স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের জন্য হালাল হবেনা। নিম্নে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো। (সূরা বাকারা ২৩০ আয়াত। ফতোয়ায়ে শামী ৩/৪১০ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে কাসেমিয়া ১/৪৩৭ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৪৫৭ পৃষ্ঠা।)

    শরয়ী হিল্লা :

    কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
    ﻓَﺈِﻥ ﻃَﻠَّﻘَﻬَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺤِﻞُّ ﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪُ ﺣَﺘَّﻰٰ ﺗَﻨﻜِﺢَ ﺯَﻭْﺟًﺎ ﻏَﻴْﺮَﻩُۗ ﻓَﺈِﻥ ﻃَﻠَّﻘَﻬَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﺟُﻨَﺎﺡَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻤَﺎ ﺃَﻥ ﻳَﺘَﺮَﺍﺟَﻌَﺎ ﺇِﻥ ﻇَﻨَّﺎ ﺃَﻥ ﻳُﻘِﻴﻤَﺎ ﺣُﺪُﻭﺩَ ﺍﻟﻠَّﻪِۗ ﻭَﺗِﻠْﻚَ ﺣُﺪُﻭﺩُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳُﺒَﻴِّﻨُﻬَﺎ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ.

    অতঃপর যদি স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়,তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার জন্য হালাল নয়। অত :পর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হল আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা, যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। (সূরা বাকারা ২৩০ আয়াত।)

    হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
    عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِي فَأَبَتَّ طَلاَقِي، فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ، إِنَّمَا مَعَهُ مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ‏.‏ فَقَالَ ‏ “‏ أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ ‏”‏‏.‏ وَأَبُو بَكْرٍ جَالِسٌ عِنْدَهُ…

    হযরত আয়িশা রাযি : থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : রিফা‘আ কুরাযীর স্ত্রী হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বলল : আমি রিফা‘আর স্ত্রী ছিলাম। কিন্তু সে আমাকে একত্রে তিন তালাক প্রদান করে। পরে আমি আবদুর রহমান ইবনে যুবাইরকে বিয়ে করলাম। কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে কাপড়ের আঁচলের মতো নরম কিছু অর্থাৎ তার পুরুষত্ব নেই। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তবে কি তুমি রিফা‘আর নিকট ফিরে যেতে চাও? তা হয়না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে আর সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে। সে সময় হযরত আবু বকর রাযি : নবীজীর দরবারে উপস্থিত ছিলেন। সনদ সহীহ। (সহীহুল বুখারী ২৬৩৯, ৫২৬০ হাদীস। সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৩২ হাদীস। সুনানে নাসায়ী ৩৪০৯ হাদীস। সুনানে আবু দাউদ ২৩০৯ হাদীস। সুনানে দারামী ২৩০৬ হাদীস। মুসনাদে আহমাদ ২৩৫৩৮ হাদীস।)

    শরয়ী হিল্লার নিয়ম :

    শরয়ী হিল্লা হলো- তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অন্যত্র বিবাহ দিবে এবং সেই স্বামীর সাথে স্বাভাবিক ঘর সংসার করতে থাকবে। এমনকি শারীরিক সম্পর্কও হতে হবে। তারপর উক্ত স্বামী যদি স্বেচ্ছায় স্ত্রীকে তালাক দেয় কিংবা স্বামী মৃত্যু বরণ করে, তবে ইদ্দত শেষ হলে পুনরায় প্রথম স্বামীর সাথে মহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে এবং ঘর-সংসারও করতে পারবে। (সূরা বাকারা ২৩০ আয়াত। সহীহুল বুখারী ৫২৬০ হাদীস। সহীহ মুসলিম ১/৪৬৩ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৪৪৩ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে শামী ৩/৪১০ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে কাসেমিয়া ১/৪৩৭ পৃষ্ঠা।)

    প্রচলিত হিল্লার বিধান :

    প্রচলিত হিল্লা বিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ। তথা তালাকদাতা স্বামীর নিকট পুনরায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যৌন মিলনের পর তালাক দেয়ার শর্তে কোন ব্যক্তির নিকট সাময়িক বিবাহ দেয়াকে হিল্লা বিবাহ বলা হয়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিবাহকারী ও প্রদানকারী উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
    عَنْ عَلِيٍّ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ.
    হযরত আলী রাযি : থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালাকারী ও যার জন্য হালাল করা হয় উভয়ের উপর লানত করেছেন। সনদ সহীহ। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৩৫ হাদীস। সুনানে নাসায়ী ৩৪১৬ হাদীস। সুনানে তিরমিযী ১১১৯ হাদীস। সুনানে আবূ দাউদ ২০৭৬ হাদীস। সুনানে দারামী ২২৫৮ হাদীস।)

    অতএব প্রচলিত হিল্লা জায়েয নেই। তবে প্রচলিত হিল্লার উদ্দেশ্য ব্যতীত ঘটনাক্রমে যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে। (মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ ৩০১ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৪৬১ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে কাসেমিয়া ১/৪৪২ পৃষ্ঠা।)

    ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ.

    উত্তর লিখনে :
    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত তাহমীদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ।
    তারিখ- ২১/৯/২০২৩ ঈসায়ী।

  • নবীজির পবিত্র বংশধারা

    রসূলে কারীম ছাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র
    বংশধারা নিম্নরূপঃ
    হযরত মুহাম্মাদ।
    (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
    ইবনু আব্দিল্লাহ,
    ইবনু আব্দিল মুত্তালিব,
    ইবনু হাশিম,
    ইবনু আব্দিমানাফ,
    ইবনু কুছাই,
    ইবনু কিলাব,
    ইবনু মুররাহ,
    ইবনু কাআ’ব,
    ইবনু লুওয়াই,
    ইবনু গালিব,
    ইবনু ফেহের (কুরাইশ),
    ইবনু মালিক,
    ইবনু নযর,
    ইবনু কিনানা,
    ইবনু খুযাইমাহ,
    ইবনু মুদরিকাহ,
    ইবনু ইলিয়াস,
    ইবনু মুদ্বার,
    ইবনু নাযার,
    ইবনু মাআ’দ,
    ইবনু আদনান,
    ইবনু আদু,
    ইবনু মাইসা’,
    ইবনু সালামান,
    ইবনু এওয়ায,
    ইবনু বূয,
    ইবনু ক্বামওয়াল,
    ইবনু উবাই,
    ইবনু আওয়াম,
    ইবনু নাশিদ,
    ইবনু হাযা,
    ইবনু বিলদাস,
    ইবনু ইয়াদলাফ,
    ইবনু ত্বাবিখ,
    ইবনু জাহিম,
    ইবনু নাহিশ,
    ইবনু মাখী,
    ইবনু আইফী,
    ইবনু আবকার,
    ইবনু উবাইদ,
    ইবনু আলদুআ’,
    ইবনু হামদান,
    ইবনু সাবজ,
    ইবনু ইয়াসরাবী,
    ইবনু ইয়াহযান,
    ইবনু ইয়ালহান,
    ইবনু আরআওয়া,
    ইবনু আইফা,
    ইবনু যীশান,
    ইবনু আইসার,
    ইবনু আকনাদ,
    ইবনু ইহাম,
    ইবনু মুকছির,
    ইবনু নাহিছ,
    ইবনু যরাহ,
    ইবনু সুমাই,
    ইবনু মযযী,
    ইবনু ইওয়ায,
    ইবনু আরাম,
    ইবনু কায়দার,
    ইবনু ইসমাঈল,আঃ,
    ইবনু ইবরাহীম,আঃ,
    ইবনু তারা (আযর),
    ইবনু নাহুর,
    ইবনু সারুজ,
    ইবনু রাঊ,
    ইবনু ফাইজ,
    ইবনু আবির,
    ইবনু আরফাকশাদ,
    ইবনু সাম,
    ইবনু নূহ আঃ,
    ইবনু লামক,
    ইবনু নাতুশাইহ,
    ইবনু আখনূ’,
    ইবনু ইদ্রিস,আঃ,
    ইবনু ইয়ারিদ,
    ইবনু মালহালঈল,
    ইবনু কায়নান,
    ইবনু আনূশ,
    ইবনু শীস আঃ,
    ইবনু হযরত আদম
    আলাইহিসসালাম। –
    ♦সূত্র –
    নূরুল কোরআন ১খঃ
    সিরাতে শাহে মাদীনা ১খঃ
    সিরাতে ইবনে হিশাম ১৬ পৃঃ
    সিরাতে মুস্তফা ১খঃ
    (রাহমাতুল্লিল আলামীন,
    দ্বিতীয় খন্ড, পৃঃ ২৫-৩১,
    হযরত আদম (আঃ)
    থেকে শুরু করে
    রসূলকারীম
    ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লাম এর
    মাতা পিতা পর্যন্ত
    নারী পুরুষের যতগুলি
    স্তর রয়েছে
    প্রত্যেক স্তরের
    প্রতিটি নারী ও পুরুষ
    সৎ ও পবিত্র ছিলেন।
    কেউ কখনো ব্যবিচারে লিপ্ত হন নি। রসূল কারীম
    ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
    বলেছেনঃ
    “আমি বিবাহের মাধ্যমে
    জন্ম গ্রহন করেছি,
    ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়।
    হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আমার পিতা মাতা পর্যন্ত
    কোন নারী পুরুষ
    ব্যভিচারে লিপ্ত হননি।
    আর জাহেলী যুগের
    ব্যভিচার আমাকে স্পর্শ করেনি।”
    ♦সূত্র –
    (ইরওয়াউল গালীলঃ ১৯৭২,
    সহীহুল জামিউস্
    সাগীরঃ ৩২২৫।
    ——————————-
    মাওলানা তাহমীদ শামী
    পরিচালক,
    সান্ত্বনা শিল্পীগোষ্ঠী বাংলাদেশ।

  • সালাম বিষয়ে কিছু কথা♦

    আসসালামু আলাইকুম!
    কেমন আছো বন্দ্বুরা??
    মুসলিম শরীফে বর্নিত আছে,
    হযরত নাবী কারীম সাল্লাল্লাহ
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ
    তোমরা নিজেদের মধ্যে
    সালামের বিস্তার ঘটাও!
    বেশী বেশী সালাম দিলেই
    সালামের বিস্তার ঘটবে।
    এক মুসলমান আর এক
    মুসলমানের সাথে দেখা-সাহ্মাত
    হলে সালাম দেয়ার যে নিয়ম
    রাখা হয়েছে,
    এ নিয়ম যে কত সুন্দর নিয়ম
    তা ব্যাখ্যা করে শেষ করা যায় না।
    সালামের মধ্যে শান্তির দোয়া করা হয়।
    “আসসালামু আলাইকুম”
    এর অর্থ হল আপনাদের শান্তি হোক। আল্লাহ আপনাদের শান্তি দান করুন,
    রহমত দান করুন।
    সালামের মাধ্যমে শান্তির দোয়া করা হয়, এর চেয়ে ভালো দোয়া
    আর কি হতে পারে??
    ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মে
    পারস্পারিক অভিবাদনের জন্য
    এত সুন্দর বাক্য আর নেই।
    যেমন কেউ কেউ বলে
    গুড মর্নিং বা গুড ইভিনিং
    অথবা গুড নাইট।
    যার বাংলা হল শুভ সকাল বা
    শুভ সন্দ্ব্যা অথবা শুভ রাত।
    এ কথাগুলোর অর্থ অস্পষ্ট।
    সকাল সুন্দর বা বিকাল সুন্দর
    অথবা রাত সুন্দর
    এ কথাগুলোর কি অর্থ??
    এর অর্থ কি এই যে,
    আজকের সকালটা খুব ফ্রেশ!
    আকাশটা খুব ফ্রেশ!
    বৃষ্টি-বাদল নেই!
    মেঘ নেই ইত্যাদি।
    যদি এই অর্থ হয়,
    তাহলে দেখা-সাহ্মাতের সময়
    এ শব্দগুলো বললে
    কার কি লাভ হবে???
    আর যদি উদ্দিশ্য হয় যে,
    আপনার সকালটা সুন্দর হোক,
    তাহলে বিকালটার কি দোষ?
    আর যদি বলা হয়,
    বিকালটা সুন্দর হোক,
    তাহলে সকালটার কি দোষ??
    আর যদি বলি সকাল-বিকাল
    সুন্দর হোক,
    এই সুন্দর কথাটাওতো অস্পষ্ট।
    কিন্তু সালামের অর্থ হল-
    আপনাদের শান্তি হোক।
    আর শান্তির চেয়ে বড় কিছু কাম্য নেই।
    কারন, আমরা সকলেই শান্তির মুহতায!
    জীবনের সকল হ্মেত্রেই শান্তি চাই!
    দুনিয়াতেও শান্তি চাই!!
    আখিরাতেও শান্তি চাই!!!
    আর সালামের মধ্যে
    এই শান্তির জন্যই দোয়া করা হয়।
    সুতরাং আসুন আমরা সকলে
    সালামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটাই।
    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে অনৈসলামীক তরিকা বর্জন করে,
    ইসলামী তরিকা অনুযায়ী
    জীবন-যাপন করার
    তাওফিক দান করুন -আমিন!
    সুম্মা আমিন!!
    ইয়া রাব্বাল আলামিন!!!

  • ঐতিহাসিক বদর দিবস

    আমাদের সবারই জানা আছে , রমজান ঐতিহাসিক বদরদিবস । এই দিনে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে বদরপ্রান্তে ইসলাম ও বাতিলেরমাঝে প্রথম যুদ্ধ সংঘটিতহয়েছিল । সত্য ও মিথ্যার এলড়াইয়ে মহান আল্লাহ্তায়ালা রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁরপ্রতিশ্রুত সাহায্যমুসলিমদেরজন্য পাঠিয়েছিলেন এবং সত্য জয় লাভ করেছিল ।মুশরিকদেরপ্রায় ১০০০ জন সৈন্যেরবিপরীতে ৩১৩/এর চেয়ে কিছুবেশি মুসলিম অত্যন্ত সামান্যপরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে অসমএই লড়াইয়ে সময়ের দাবী পূরণেঝাপিয়ে পড়েছিল ।যুদ্ধ শুরুর আগের দিনরাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিক কুরাইশদের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যাপারেসাহাবীদের মতামত জানতেচাইলেন । মুহাজিরদের মধ্যহতে বিশিষ্ট কয়েক জনসাহাবীতাদের মত প্রকাশ করার পর হযরত মিকদাদ ইব্নআমর (রা)বললেন-“হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ্তায়ালা আপনাকে যে পথদেখিয়েছেন তার ওপর আপনিঅবিচল থাকুন । আমরা আপনার সঙ্গে রয়েছি ।.আল্লাহ্তায়ালার শপথ, বনী ইসরাঈলহযরতমূসা আলাইহিস সালাম-কে যেধরনের কথা বলেছিল, আমরাআপনাকে ওরকম কথা বলব না । বনী ইসরাইলরাহযরতমূসাআলাইহিস সালাম-কে বলেছিল,‘…..হে মূসা, সেই (শক্তিশালী)লোকেরা যতোক্ষণসেখানে থাকবে, ততোক্ষণআমরা কোনো অবস্থায়ই সেখানে প্রবেশকরবো না,তুমিই(বরং) যাও, তুমি ও তোমারমালিক উভয়ে মিলে যুদ্ধ করো,আমরা এখানেই বসে রইলাম ।(সূরা মায়েদা-২৪)’ আমরা বলবো যে, আপনি এবংআপনার প্রতিপালক লড়াই করুন,আমরাও আপনার সাথে লড়বো ।সেই মহান সত্তার শপথ যিনিআপনাকে সত্যসহ প্রেরণকরেছেন আপনি যদি আমাদেরবারকুল গামাদ পর্যন্তও নিয়েযানতবু আমরা সারা পথ লড়াইকরতে করতে আপনার সাথেসেখানে পৌঁছুবো ।” আনসারদের পক্ষ হতেআনসারদেরঅধিনায়ক সা’দ ইব্ন মা’য(রা) বললেন- “—– । সেইআল্লাহ্ তায়ালার শপথ যিনিআপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন,আপনি যদি আমাদেরসঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়েপড়তে চান তবে আমরাওঝাঁপিয়ে পড়বো । আমাদেরএকজন লোকও পিছনে পড়েথাকবে না । আগামীকাল আপনিআমাদের সঙ্গে নিয়েশত্রুর মোকাবেলা করলেওআমাদের কোন আপত্তি নেই ।আমাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদন্দ্ব নেই ।যুদ্ধক্ষেত্রেআমরা রণনিপুণ । এমনও হতেপারেযে, আল্লাহ্ পাক আমাদেরমাধ্যমে এমন বীরত্বের প্রকাশঘটাবেন যা দেখে আপনারচক্ষু শীতল হয়ে যাবে । আপনিআমাদের সঙ্গে নিয়ে চলুন ।আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরযাত্রা পথে বরকত দিন ।” সেদিন যেমন সাহাবীরাতাদেরলোকবল ও যুদ্ধাস্ত্রেরস্বল্পতা সত্ত্বেও সময়েরদাবীঅনুযায়ী মুশরিকদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়েদেননিতেমনি বর্তমানেও যারাইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকরছে,ইসলামের অগ্রযাত্রকেথামিয়ে দিতে চায়, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে মুছেফেলতেচায় তাদের বিরুদ্ধে আজ রুখেদাঁড়াবার সময় এসেছে ।মুসলিম মাত্রই আজ সময়েরদাবীহচ্ছে- যেখানেই তারা ইসলামের বিরুদ্ধেষড়যন্ত্রকরছেসেখানেই তাদেরকেমোকাবেলা করা, তাদেরবিরুদ্ধেসোচ্চার হওয়া, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা, বিনাচ্যালেঞ্জে তাদেরকে ছেড়েনা দেয়া । বদর প্রান্তেসাহাবীরা যেমন তাদেরলোকবলও যুদ্ধাস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে ভীত বা চিন্তিতছিলেননা,তেমনি আজও আমাদের কোনকিছুর স্বল্পতা নিয়ে ভীত বাচিন্তিত হওয়া ঠিক হবে না ।মুসলিম হিসেবে সময়ের দাবীপূরণের তাওফীক আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের দান করুন-বদরদিবসে এই হোক আমাদেরপ্রার্থনা

  • পুরুষদের জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো নারী

    আল্লাহ তা‘আলা নারী ও পুরুষের মাঝে
    সুরক্ষার দেয়াল রচনার জন্য পর্দার বিধান
    প্রদান করেছেন। তিনি পরপুরুষ থেকে নারীদের
    পর্দা করা ফরজ করেছেন।
    পর্দার বিধান নারী ও পুরুষ উভয়ের কল্যাণের
    জন্যই প্রদান করা হয়েছে। যদি পর্দার বিধান
    না থাকতো, তাহলে নারী ও পুরুষের অবাধ
    মেলা-মেশার কারণে সমাজে অসংখ্য অঘটন
    ঘটত। যেমনটি বর্তমানে যে দেশ বা সমাজে
    পর্দা নেই সে সমাজের অবস্থার দিকে
    তাকালে আমরা দেখতে পাই। সেখানে
    প্রতিনিয়তই জঘন্য ঘটনা ঘটে এবং নারীরা
    জুলুম-নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
    তাই নারী ও পুরুষের অবাধ মেলা-মেশার
    ব্যাপারে সতর্ক করে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ
    করেন–“আমি আমার পর এমন কোন ফিতনা
    রেখে যাইনি যা পুরুষের জন্য অধিক ক্ষতিকর
    নারীর ফেতনার চেয়ে।”
    সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৯৬/
    সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ২৭৪০
    সুতরাং সমাজে পর্দার বিধান প্রতিষ্ঠা করে
    এ ফিতনাকে নির্মূল করতে হবে। নারীদের জন্য
    মাহরাম অর্থাৎ যাদের সাথে চিরতরে বিবাহ
    অবৈধ তারা ব্যতীত বেগানা অর্থাৎ যাদের
    সাথে বিবাহ হারাম নয়–এমন লোকদের সাথে
    পূর্ণরূপে পর্দা করতে হয়।
    পর্দা সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরাহ
    আহযাবের ৫৯ আয়াতে ইরশাদ করেছেন : “হে
    নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও
    ঈমানদার মহিলাগণকে বলে দিন, তারা যেন
    উপর দিক থেকে (নিজেদের মুখমন্ডল ও
    বক্ষদেশের উপর) নিজেদের চাদরের আচঁল
    ঝুলিয়ে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে।
    ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবেনা। আল্লাহ
    ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”
    সুরাহ আযহাব, ৫৯ নং আয়াত ৷
    মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন–
    “মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের
    দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর
    হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা
    আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা
    অবহিত আছেন। আর ঈমানদার নারীদেরকে
    বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং
    তাদের যৌন অঙ্গের হেফাজত করে। তারা
    যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান (যেমন,
    পরিধেয় হিজাবের বহিরাংশ) তা ছাড়া
    তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা
    যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে রাখে
    এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর,
    পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র,
    ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী,
    যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক–যারা
    নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের
    ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ
    না করে (পর্দা করে)। আর তারা যেন তাদের
    গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে
    পদচারণা না করে।”
    সূরাহ নূর,৩০-৩১ নং আয়াত ৷

  • মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্ব

    আশরাফুল মাখলূক্বাত’ বা সেরা সৃষ্টি
    হিসাবে আল্লাহ তায়ালা আদম ও বনু আদমকে সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻲْ ﺁﺩَﻡَ
    ﻭَﺣَﻤَﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟْﺒَﺤْﺮِ ﻭَﺭَﺯَﻗْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻭَﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰﻛَﺜِﻴﺮٍ ﻣِّﻤَّﻦْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺗَﻔْﻀِﻴْﻼً- ( ﺍﻹﺳﺮﺍﺀ
    ৭০)-‘
    ,
    আমরা বনু আদমকে উচ্চ সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থল ও জলপথে বহন করে নিয়েছি, তাদেরকে পবিত্র
    বস্ত্ত সমূহ হ’তে খাদ্য দান করেছি এবং
    আমাদের বহু সৃষ্টির উপরে তাদেরকে উচ্চ
    মর্যাদা প্রদান করেছি’ (ইসরা ১৭/৭০)।এখানে
    প্রথমে ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে
    এমন কিছু বিষয়ে একচ্ছত্র সম্মান দানের কথা
    বলা হয়েছে, যা অন্য কোন সৃষ্টিকে দেওয়া
    হয়নি। যেমন জ্ঞান-বিবেক, চিন্তাশক্তি,
    ভাল-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যবোধ,
    স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা
    ইত্যাদি। অতঃপর ﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে
    অন্যের তুলনায় মানুষকে উচ্চ মর্যাদা দানের
    কথা বলা হয়েছে। যেমন মানুষের উন্নত হ’তে
    উন্নততর জীবন যাপন প্রণালী, গৃহ নির্মাণ
    পদ্ধতি, খাদ্য গ্রহণ, পোষাক-পরিচ্ছদ
    ইত্যাদিতে উন্নততর রুচিশীলতা, আইনানুগ ও
    সমাজবদ্ধ জীবনযাপন প্রভৃতি বিষয়গুলি
    অন্যান্য প্রাণী হ’তে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত এবং
    নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর। তাতে প্রতিনিয়ত
    পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিবর্তন ও উন্নয়ন অব্যাহত
    রয়েছে। অথচ বাবুই পাখির নীড় রচনা কিংবা
    বনে-জঙ্গলে বাঘ-শৃগালের বসবাস পদ্ধতি লক্ষ
    বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। না তাতে
    অতীতে কোন পরিবর্তন এসেছে, না ভবিষ্যতে
    কোন পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।মানুষ
    জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উন্নত হ’তে উন্নততর
    পরিবহনে চলাফেরা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।
    তারা পৃথিবীর সর্বোত্তম খাদ্যসমূহ গ্রহণ
    করছে, উন্নত পাক-প্রণালীর মাধ্যমে সুস্বাদু
    খাবার গ্রহণ ও সর্বোত্তম পানীয় পান করছে,
    যা অন্য প্রাণীর পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।মানব
    মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিষয় হচ্ছে তাকে
    কথা বলার শক্তি দান করা, যা অন্য কোন
    সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি। তাকে দেওয়া হয়েছে
    ভাষা ও রঙের বৈচিত্র্য, দেওয়া হয়েছে
    লিখনক্ষমতা এবং উন্নত সাহিত্য জ্ঞান ও
    অলংকার সমৃদ্ধ বাক্য গঠন ও কাব্য রচনার
    যোগ্যতা, যা অন্য কোন সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি।
    মানব মর্যাদার অন্যতম বিষয় হ’ল, বিশ্বের
    প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল সৃষ্টিকে মানুষের
    অনুগত করে দেওয়া হয়েছে (লোকমান ৩১/২০)।
    যেন আল্লাহর যাবতীয় সৃষ্টিকর্মের মূল লক্ষ্য
    হচ্ছে মানুষ। মানুষের জন্যই যেন সবকিছু। সূর্যের
    কিরণ, চন্দ্রের জ্যোতি, গ্রহ-নক্ষত্রের
    মিটিমিটি আলো, বাতাসের মৃদুমন্দ প্রবাহ,
    পানির জীবনদায়িনী ক্ষমতা, মাটির উর্বরা
    শক্তি, আগুনের দাহিকা শক্তি, বিদ্যুতের বহু
    মাত্রিক কল্যাণকারিতা, মাঠভরা সবুজ
    শস্যভান্ডার, গাছ ভরা ফল-ফলাদি, বাগিচায়
    রং-বেরংয়ের ফুলের বাহার, পুকুর-নদী-সাগর
    ভরা নানা জাতের মাছ ও মণি-মুক্তার
    সমাহার, ভূগর্ভে সঞ্চিত স্বর্ণ-রৌপ্য ও খনিজ
    সম্পদরাজি ও তৈল-গ্যাসের আকর, গোয়াল ও
    জঙ্গলভরা পশু-পক্ষীর আবাস কাদের জন্য? এক
    কথায় জবাব: এসবই কেবল মানুষের জন্য। আল্লাহ
    বলেন, ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﻟَﻜُﻢ ﻣَّﺎ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺟَﻤِﻴﻌﺎً ‘তিনিই
    সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর
    সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন’ (বাক্বারাহ ২/২৯)।

  • আবারও এসেছে ফিরে সেই দিন

    আবারও এসেছে ফিরে সেই দিন,
    আসেনি তো তারা ফিরে কোনদিন।
    একুশে যারা হাড়িয়ে গেল!
    ভাষার তরে যারা জীবন দিল!!
    দেশের তরে যারা জীবন দিল!!!
    ,
    মায়ের আদর বোনের হাসি প্রিয়ার মুখ,
    সব ছেড়ে চলে গেছো নেই কোন দুঃখ।
    তোমাদের জীবন ধন্য হল,
    দেশের তরে যারা জীবন দিল।।
    ,
    বাংলাতে গাহি গান তোমাদেরই দান,
    চির দিনই তোমরা রবে অম্লান।
    তোমাদের তরে দেশ ধন্য হল,
    ভাষার তরে যারা জীবন দিল।।
    ,
    দেশ ও ভাষার তরে দিল যারা প্রাণ,
    দোয়া করি প্রভু যেন দেন প্রতিদান।
    আমরন দেশের মান যারা রাখিল,
    দেশের তরে যারা জীবন দিল।।

Back to top button