ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
পৃথিবীর পাহাড় উপত্যকা,
মরুভুমি গিরিপথ
আর বিস্তীর্ণ জনপদ,
সর্বত্রই আজ বিরাজ
করছে এক সীমাহীন শুন্যতা।
অশান্তি অন্যায়
আর চরম নিরাপত্তাহীনতা।
চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে মরামারি,হানাহানি,খুনাখুনি,
রাহাজানি,আর জুলুম-নির্যাতনের
বীভৎস প্রতিযোগিতা।
জোর যার মুল্লুক তার
নীতিতে সামর্থ্যবানরা
হামলে পড়ছে দুর্বলদের উপর।
বিশেষতঃ মুসলিম জাতি
আজ শিকার হচ্ছে
চতুর্মুখি আক্রমনের।
বিশ্ব কুফরী শক্তির
নানাবিধ ষড়যন্ত্রের
কবলে পড়ে হয়ে গেছে দিশেহারা৷
নিজেদের অবহেলা,অলসতা
আর কাফিরদের চক্রান্তে
বহু পুর্বই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কোরআন ও সুন্নাহ থেকে।
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ছেড়ে পাশ্চাত্য সভ্যতা সাংস্তকৃতিতে নিজেদেরকে নিমজ্জিত করার ফলে
হয়ে গেছে তারা মেরুদন্ডহীন।
বিজাতীয় অনুকরনপ্রীতির
ফলে তারা হয়ে পড়েছে বোধ উপলব্দিহীন।
আর এরই অনিবার্য ফলশ্রুতিতে
মুসলিম জাতির উপর
একদিকে যেমন অপসাস্কৃতির
প্রাধান্য বিস্তার করেছে,
অপরদিকে তেমনি তাদের উপর লাঞ্চনা আর অবমাননার প্রাবল্য ও আধিক্য লাভ করেছে।
‘
এসব কিছুর একমাত্র কারন হলো,
মুসলিমরা আল্লাহর এক মহান
ফরয হুকুম জিহাদকে বর্জন করেছে।
যেমন কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
※ হে ইমানদারগন! তোমাদের কি হলো যে,যখন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য তোমাদের বের হতে বলা হয়,তখন তোমরা মাটি জড়িয়ে ধর,তবে তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনেই সন্তষ্ট হয়ে গেলে? অথচ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী আখিরাতের তুলনায় একেবারেই নগন্য৷
(সূরা তাওবা ৩৮ নং আয়াত)
‘
※ আর তোমাদের কি হলো যে,
তোমরা আল্লাহর রাস্তায়
জিহাদ করছো না সেইসব দুর্বল, অসহায় নর-নারী ও শিশুদের পক্ষে,
যারা বলে হে আমাদের রব!
এই জনপদ থেকে আমাদেরকে বের করে নিয়ে যাও,যার অধিবাসীরা জালেম৷ আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন বন্ধু,অভিভাবক এবং সাহায্যকারী পাঠাও৷
(সূরা নিসা আয়াত ৭৫)
‘
※ আর নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলিমদেরকে জিহাদের বিধান দেয়া হলো। কেননা তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন করা হয়েছে। আর এ কাজে তাদের সাহায্যের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট
(সুরা-হজ আয়াত ২২)
‘
※ আর তোমরা কাফির মুশরিকদের
বিরুদ্ধে জিহাদ করতে থাকো,
যতক্ষণ না ফিতনা-ফাসাদ নির্মুল হয়
এবং সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তায়ালার দীন কায়েম হয়। (সুরা-বাকারা ১৯৩)
‘
※ হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তার নৈকট্য অনুসন্ধান করো, আর তার রাস্তায় জিহাদ করো,
যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো৷
(সূরা মায়িদা আয়াত ৩৫)
‘
※ তোমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয়েছে। যদিও তা তোমাদের কাছে তিক্ত মনে হয়। সম্ভবত,বিষয়টা তোমাদের
কাছে অপছন্দনীয়,অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা-বাকারা ২১৬)
‘
※ আর যদি আল্লাহ তায়ালা
জগতবাসীর মাঝে একদল
মুজাহিদ দ্বারা অপরদল কাফিরদেরকে জিহাদের মাধ্যমে দমিয়ে না রাখতেন,
তবে সমগ্র বিশ্বজগতে বিশৃংখলা
ছড়িয়ে পড়তো।কিন্তু আল্লাহ তায়ালা
জগতবাসীর উপর অত্যন্ত দয়াবান।
আর এ কারনেই তিনি জগতবাসীকে যাবতীয় বিশৃংখলা থেকে বাঁচাতে
জিহাদের মত কার্যকরী বিধান দান করেছেন।(সুরা-বাকারা আয়াত ২৫১)
‘
মুলতঃ আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের
জান-মাল,ইজ্জত-আব্রু,আত্নরহ্মা,
মানবতা এবং মনুষ্যত্ব ঠিক রাখার জন্যই জিহাদের বিধান দান করেছেন।
সুতরাং জিহাদ ফরয বিধান৷
আর সর্বাবস্থায় অন্তরে জিহাদের
নিয়ত ও তামান্না রাখা ওয়াজিব৷