☞ প্রশ্ন
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে আযল কী এবং আযলের হুকুম কী? হাওয়ালাসহ জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর :
بسم الله الرحمن الرحيم
‘আযল’ হলো, স্ত্রীমিলনের সময় বাইরে বীর্যপাত করা, যার উদ্দেশ্য স্ত্রীকে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখা। শারীরিক অসুস্থতা অথবা দুই সন্তানের মাঝে প্রয়োজনীয় ব্যবধান রাখার ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে আযল করা ইসলামী শরীয়তে জায়েয আছে। তবে পারতপক্ষে সেই অবস্থায়ও আযল বা এ জাতীয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা উত্তম।
বস্তুত আযল জন্ম নিরোধের উদ্দেশ্যে কৃত একটি কৌশল মাত্র। কিন্তু এ পদ্ধতি প্রচলিত জন্মনিরোধ পদ্ধতির মতো জন্ম প্রতিবন্ধক নয়। তাই আল্লাহ চাইলে এটা করা সত্ত্বেও গর্ভে সন্তান দিতে পারেন। এ দিক দিয়ে এ ব্যবস্থা ও প্রচলিত জন্মনিরোধ ব্যবস্থা এক নয়। সুতরাং এর উপর ভিত্তি করে প্রচলিত জন্মনিরোধ পদ্ধতির হুকুম নির্ণয় করা যাবে না।
বুখারী শরীফের এক হাদীসে রয়েছে—
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ أَصَبْنَا سَبْيًا فَكُنَّا نَعْزِلُ فَسَأَلْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَوَإِنَّكُمْ لَتَفْعَلُونَ قَالَهَا ثَلَاثًا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا هِيَ كَائِنَةٌ
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকালীন সময়ে গনীমত হিসাবে কিছু দাসী পেয়েছিলাম। আমরা তাদের সঙ্গে ‘আযল করতাম। এরপর আমরা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উত্তরে বললেন: কী! তোমরা কি এমন কাজও কর? একই কথা তিনি তিনবার বললেন এবং পরে বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যে রূহ পয়দা হবার, তা অবশ্যই পয়দা হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২০৭)
কিন্তু সন্তানের ভরণ-পোষণের ভয়ে ‘আযল’ করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা দারিদ্রতার ভয়ে সন্তানদেরকে হত্যা করো না। কেননা, আমি যেমন তোমাদেরকে রিযিক দেই, তেমনি তাদেরকেও রিযিক দিবো। (সূরাহ আনআম, আয়াত নং ১৫১)
অপরদিকে আযল পদ্ধতি অথবা বিকল্প কোনো পদ্ধতি শারীরিক অসুস্থতা অথবা দুই সন্তানের মাঝে প্রয়োজনীয় ব্যবধান রাখার উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে গ্রহণ করা জায়েয। তাই স্থায়ীভাবে গর্ভনিরোধ পদ্ধতি গ্রহণ করা জায়েয নয়। বরং তা হারাম।
মনে রাখতে হবে যে, ইসলামে অধিক সন্তান লাভে উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানদায়িনী নারীকে বিবাহ কর। কেননা, আমি কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের উপর তোমাদের নিয়ে সংখ্যাধিক্যের গর্ব করবো। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, মিশকাত হা/৩০৯১)
প্রচলিত তথাকথিত জনসংখ্যা রোধের নিয়মের জন্মনিরোধের দ্বারা উক্ত উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি নারীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। যে নারীর সন্তান যত বেশি, সে নারী তত সুখী ও স্বাস্থ্যবতী। বস্তুত সন্তান জন্ম দেয়াই নারীর প্রকৃতি। আর এই প্রকৃতির উপর হস্তক্ষেপ করলে তার মন্দ প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক বুঝার ও আমল করার তাওফিক দিন।
والله أعلم
☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :
১. আল কুরআন, সূরাহ আনআম, ১৫১ নং আয়াত।
২. বুখারী শরীফ, ৫২০৭ নং হাদীস।
৩. মিশকাত শরীফ, ৩০৯১ নং হাদীস।