☞ প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম!
মুহতারাম মুফতি সাহেব!
সালামের পরিবর্তে আদাব, টাটা, বাই-বাই, গুড মর্নিং, গুড ইভিনিং, গুড নাইট ইত্যাদি বলা জায়েয আছে কি না? বিস্তারিত জানালে চির কৃতজ্ঞ হবো।
উত্তর :
بسم الله الرحمن الرحيم
না, সালামের পরিবর্তে উক্ত শব্দগুলো বলা জায়েয হবে না। কেননা, উক্ত শব্দগুলো অমুসলিমদের অভিবাদনের শব্দ। আর অমুসলিমদের অভিবাদনের শব্দ মুসলিমদের অভিবাদনে প্রয়োগ করা জায়েয নয়। কারণ, হাদীস শরীফে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যারা অমুসলিমদের সাথে সামঞ্জস্য রাখে, তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আর সালামের বিষয়ে হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের বিস্তার ঘটাও! বেশি বেশি সালাম দিলেই সালামের বিস্তার ঘটবে।
এক মুসলমান আর এক মুসলমানের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হলে সালাম দেওয়ার যে নিয়ম রাখা হয়েছে, এ নিয়ম যে কত সুন্দর নিয়ম, তা ব্যাখ্যা করে শেষ করা যায় না। সালামের মধ্যে শান্তির দোয়া করা হয়। “আসসালামু আলাইকুম”-এর অর্থ হলো: আপনাদের শান্তি হোক। আল্লাহ আপনাদের শান্তি দান করুন, রহমত দান করুন। সালামের মাধ্যমে শান্তির দোয়া করা হয়; এর চেয়ে ভালো দোয়া আর কী হতে পারে?
ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে পারস্পরিক অভিবাদনের জন্য এত সুন্দর বাক্য আর নেই। যেমন কেউ কেউ বলে গুড মর্নিং বা গুড ইভিনিং অথবা গুড নাইট। যার বাংলা হলো শুভ সকাল বা শুভ সন্ধ্যা অথবা শুভ রাত। এ কথাগুলোর অর্থ অস্পষ্ট। সকাল সুন্দর বা বিকাল সুন্দর অথবা রাত সুন্দর — এ কথাগুলোর কী অর্থ? এর অর্থ কি এই যে, আজকের সকালটা খুব ফ্রেশ! আকাশটা খুব ফ্রেশ! বৃষ্টি-বাদল নেই! মেঘ নেই ইত্যাদি? যদি এই অর্থ হয়, তাহলে দেখা-সাক্ষাতের সময় এ শব্দগুলো বললে কার কী লাভ হবে? আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে, আপনার সকালটা সুন্দর হোক, তাহলে বিকালটার কী দোষ? আর যদি বলা হয়, বিকালটা সুন্দর হোক, তাহলে সকালটার কী দোষ? আর যদি বলি সকাল-বিকাল সুন্দর হোক, এই সুন্দর কথাটাও তো অস্পষ্ট।
কিন্তু সালামের অর্থ হলো: আপনাদের শান্তি হোক। আর শান্তির চেয়ে বড় কিছু কাম্য নেই। কারণ, আমরা সকলেই শান্তির মুহতাজ! জীবনের সকল ক্ষেত্রেই শান্তি চাই! দুনিয়াতেও শান্তি চাই! আখিরাতেও শান্তি চাই! আর সালামের মধ্যে এই শান্তির জন্যই দোয়া করা হয়। সুতরাং, আমাদের সকলের কর্তব্য হলো বেশি বেশি সালামের বিস্তার ঘটানো। আল্লাহ তাওফিক দান করুন!
والله أعلم
☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :
১. ফতোয়ায়ে জামেয়া, ৫ম খণ্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা।
২. ফতোয়ায়ে রহিমিয়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৫৬ পৃষ্ঠা।
৩. জামেউল ফতোয়া, ৯ম খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠা।
৪. কিতাবুল ফতোয়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা।
৫. বুখারী শরীফ, ২য় খণ্ড, ৯২১ পৃষ্ঠা।
৬. মুসলিম শরীফ, ২য় খণ্ড, ২১৩ পৃষ্ঠা।
৭. তিরমিযী শরীফ, ২য় খণ্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা।
৮. আবু দাউদ শরীফ, ২য় খণ্ড, ৭০৬ পৃষ্ঠা।