জায়েয-নাজায়েয

১৬৩. জুব্বা ও কাটা পাঞ্জাবী সম্পর্কে

☞ প্রশ্ন

পাঞ্জাবীর সুন্নাত কী? জুব্বা পরিধান করা সুন্নাত, নাকি কাটা জামা পরিধান করা সুন্নাত? বিষয়টি নিয়ে আমাদের এলাকায় ব্যাপক মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এর সঠিক সমাধান চাচ্ছি।

দ্বিতীয়ত, আমি কলার বিশিষ্ট পাঞ্জাবী পরিধান করি। একজন আলেম বললেন, কলার বিশিষ্ট পাঞ্জাবী পরিধান করা সুন্নাত নয়; বরং কলার বিশিষ্ট পাঞ্জাবী পরা আর টাই পরা একই কথা। উক্ত আলেমের কথা সঠিক কি না? হাওয়ালাসহ জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

 উত্তর :

بسم الله الرحمن الرحيم

১ নং প্রশ্নের উত্তর :

চারটি শর্ত পাওয়া গেলে যে কোনো ধরনের পোষাক পরিধান করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয আছে:

১. যে পোষাকে পরিপূর্ণরূপে সতর আবৃত হয়।

২. যে পোষাক পরিধান করা শরীয়তে নিষেধ নয়।

৩. যে পোষাক বিধর্মীদের সাথে সামঞ্জস্য না হয়।

৪. যে পোষাকে রিয়া ও অহংকারের নিয়ত না হয়।

উপর্যুক্ত বিষয়গুলো যে সব পোষাকের মাঝে পাওয়া যাবে, তাই সুন্নাতি পোষাক বলে গণ্য হবে।

উক্ত শর্তগুলো পাওয়া যাওয়ার পরও যারা বলে জুব্বা না হলে সুন্নাতি পোষাক হবে না, তাদের এ কথা বড়ই মূর্খতা।

কারণ, বিভিন্ন হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, হযরত রাসুলুল্লাহ সা: মৌসুমের চাহিদা অনুযায়ী সাদাসিধাভাবে যেরূপ পোষাক পেতেন, তাই পরিধান করতেন। এবং রাসুলুল্লাহ সা: নিসফে সাক তথা অর্ধহাঁটু পরিমাণ লম্বা জামা পরিধান করতেন এবং জুব্বা ও ফাড়া উভয়টা পরিধান করাই পছন্দ করতেন।

সুতরাং পাঞ্জাবীর সুন্নাত হচ্ছে সাধারণত ঢিলে-ঢালা এবং নিসফে সাক পর্যন্ত লম্বা হওয়া। তা জুব্বা হোক বা ফাড়া জামা হোক উভয়টিই সুন্নাত।

২ নং প্রশ্নের উত্তর :

না, উক্ত আলেমের কথা সঠিক নয়! বরং কলার বিশিষ্ট এবং কলার ছাড়া উভয় প্রকার পাঞ্জাবী পরিধান করাই সুন্নাত। আর টাই পরিধান করা হারাম।

والله أعلم

☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :

১. ফতোয়ায়ে শামী, ৬/৩৫১ পৃষ্ঠা।

২. ফতোয়ায়ে রহমানিয়া, ২/২৬৬ পৃষ্ঠা।

৩. মুসলিম শরীফ, ২/১৯৪ পৃষ্ঠা।

৪. তিরমিযি শরীফ, ১/৩০২ পৃষ্ঠা।

৫. ইবনে মাজাহ, ২৫৩ পৃষ্ঠা।

৬. ফতোয়ায়ে শামী, ৯/৫০৫ পৃষ্ঠা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button