☞ প্রশ্ন
মাননীয় মুফতি সাহেব!
হায়েয, নেফাস ও ইস্তিহাযা কাকে বলে, এবং এগুলোর হুকুম কী? আর হায়েযের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মেয়াদ কতদিন? বিষয়টি বিস্তারিত জানালে চিরকৃতজ্ঞ হবো।
উত্তর :
بسم الله الرحمن الرحيم
বালেগা মেয়েদের যোনিপথ দিয়ে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে যে রক্তস্রাব হয়, তাকে হায়েয বলে। হায়েযের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন তিন রাত, আর সর্বোচ্চ মেয়াদ দশ দিন দশ রাত। অতএব, কারো যদি তিন দিন তিন রাতের কম সময় রক্তস্রাব হয়, অথবা দশ দিন দশ রাতের পরও রক্তস্রাব চলতে থাকে, তাহলে তা হায়েয নয়; বরং তা রোগ, আর এই রোগকেই শরীয়তের পরিভাষায় ইস্তিহাযা বলে। আর কোনো মেয়ের সন্তান প্রসবের পর যে রক্তস্রাব হয়, তাকে নিফাস বলে। নিফাসের সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো সীমা নেই; তা এক-আধ ঘণ্টাও হতে পারে। তবে নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ চল্লিশ দিন।
হায়েয ও নিফাসের আহকাম হলো: হায়েয ও নিফাস চলাকালীন সময়ে নামায, রোযা, হজ্জ, কুরআন তিলাওয়াত বা কুরআন স্পর্শ করা, মসজিদে প্রবেশ করা এবং স্বামী-স্ত্রীর সহবাস ইত্যাদি জায়েয নয়; বরং হারাম। আর ইস্তিহাযা অবস্থায় এ সবই জায়েয। অর্থাৎ ইস্তিহাযার বিধান মাযুর ব্যক্তির ন্যায়।
আর হায়েয-নিফাস অবস্থায় নামায মাফ; অর্থাৎ নামায কাযা আদায় করতে হয় না। কিন্তু রোযা মাফ নয়; রোযা কাযা আদায় করতে হবে।
والله أعلم
☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :
১. ফতোয়ায়ে শামী, ১/২০৮ পৃষ্ঠা।
২. ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ১/৩৬ পৃষ্ঠা।
৩. ফতোয়ায়ে জামেয়া, ৩/১৯৭ পৃষ্ঠা।
৪. ফতোয়ায়ে রহমানিয়া, ১/২০৩ পৃষ্ঠা।
৫. আদ দুররুল মুখতার, ১/৩৬ পৃষ্ঠা।
৬. আল বাহরুর রায়েক, ১/১৯০ পৃষ্ঠা।
৭. বেহেশতী জেওর, ১/১৩০-১৩৮ পৃষ্ঠা।
৮. আল হিদায়া, ১/৩৬ পৃষ্ঠা।
৯. মারাকিউল ফালাহ, ৭৫ পৃষ্ঠা।