জায়েয-নাজায়েয

৬৬. ভোট দেওয়া সম্পর্কে

☞ প্রশ্ন

জনাব মুফতি সাহেব!

আলেম সমাজ বলছেন, ভোট একটি আমানত। এই আমানতের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে, এর খেয়ানত করা যাবে না।

এখন আমার প্রশ্ন হলো, আমরা সাধারণ মানুষ কী করব?

দেখা যায়, কোথাও মেয়র আলেম হলে কাউন্সিলররা সব চোর-বদমাশ। আবার কাউন্সিলর ভালো পাওয়া গেলে মেয়র প্রার্থীরা সব দুর্নীতিবাজ। আবার মহিলা প্রার্থীও আছেন। এখন আমরা কী করব? কাকে ভোট দেব? আমি ফতোয়া বিভাগ, বাংলাদেশ থেকে এর সমাধান চাচ্ছি।

 উত্তর :

بسم الله الرحمن الرحيم

বর্তমান প্রচলিত রাজনীতি তথা গণতন্ত্র যেমন ইসলামবিরোধী, তেমনি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতিও ইসলামী নীতির পরিপন্থী। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়া কোনো মুসলিমের জন্য জায়েয হবে না।

তবে গণতন্ত্র যেহেতু ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা কঠিন, তাই আন্দোলনে শরিক না হয়ে শুধু ভোটের সময় সব প্রার্থীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ইসলাম, দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক, অথবা কমপক্ষে ইসলামের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর প্রার্থীকে ভোট দেওয়া জায়েয আছে।

এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিবেচ্য। সব সৎ মানুষ যদি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাহলে অসৎ মানুষেরা অসৎ প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবে। তখন সবাইকে অসৎ লোকের ফিতনায় পড়তে হবে, এবং ইসলাম ও মুসলিমদের আরও বেশি ক্ষতি হবে।

তাছাড়া ভোট দেওয়া মূলত সাক্ষ্য দেওয়া। আর ন্যায়ের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া জরুরি। সুতরাং ওজর ছাড়া তুলনামূলক যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা জায়েয নয়।

☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :

সূরা বাকারা, ২৮৩ নং আয়াত।

সূরা নিসা, ১৩৫ নং আয়াত।

সূরা আনআম, ১১৭ নং আয়াত।

তাফসিরে ইবনে কাসির, ২য় খণ্ড, ৫৯৪ পৃষ্ঠা।

মাআরিফুল কুরআন, ১ম খণ্ড, ২৮৭ পৃষ্ঠা।

আবু দাউদ শরীফ, ৪র্থ খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠা।

ফতোয়ায়ে রহমানিয়া, ২য় খণ্ড, ৩৬৪ পৃষ্ঠা।

জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২য় খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা।

ফিকহী মাকালা, ২য় খণ্ড, ২৮৬ পৃষ্ঠা।

Leave a Reply

Back to top button