• স্মৃতির পাতা থেকে

    August 26 at 10:06 PM
    আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল স্মৃতিময় একটি দিনের কথা৷ তখন আমি হিফজ বিভাগে পড়ি, একরাতে মাদরাসায় বিদ্যুৎ ছিলনা এবং আলো জালানোর জন্যও ছিলনা বিকল্প কোন ব্যবস্থা৷ তবে সে রাতটি ছিল পূর্নিমার রাত৷ তাই বাদ মাগরিব মাদরাসার মাঠেই বসে গেলাম কুরআনুল কারীম নিয়ে এবং চাঁদের আলোতেই সবক ইয়াদ করে ফেললাম৷ তবে চমৎকার বিষয় হলো- সেদিন আমার সবক ছিল সূরা ক্বমার৷ হয়তো সেদিন বুঝিনি সূরা ক্বমার কি! কিন্তু আজ ঠিকই বুঝলাম যে, চাঁদের আলোতেই চাঁদের সূরা মুখস্ত করেছি- আলহামদুলিল্লাহ!!

  • সবচেয়ে বড় সবরকারী হলেন আল্লাহ

    عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا أَحَدٌ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى سَمِعَهُ مِنْ اللهِ يَدَّعُونَ لَهُ الْوَلَدَ ثُمَّ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ.

    আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ এমন কেউই নাই যে দুঃখ কষ্টদায়ক কিছু শোনার পর, সে ব্যাপারে আল্লাহ্‌র চেয়ে বেশি সবর করতে পারে। লোকেরা আল্লাহ্‌র সন্তান আছে বলে দাবী করে, কিন্তু এর পরেও তিনি তাদেরকে শান্তিতে রাখেন এবং রিজিক দেন।
    (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৭৩৭৮
    হাদীসের মান: সহীহ হাদীস৷)

  • ৪৫৬. সি সি ক্যামেরা ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে যিনা প্রমাণ এর বিধান

    ☞ প্রশ্নঃ
    মুহতারাম
    মুফতী শামী হাফিযাহুল্লাহ !
    আমার এক প্রতিবেশী যিনা করে এবং জনৈক ব্যক্তি গোপনে মোবাইলের মাধ্যমে তা ভিডিও ধরন করে এবং পাশের সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হই৷ জানার বিষয় হলো বর্তমান ডিজিটাল যোগে সি সি ক্যামেরার ফুটেজ বা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে যিনা প্রমানিত হবে কিনা? শরয়ী সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হবো!

    ☞ উত্তরঃ
    بسم الله الرحمن الرحيم
    শরীয়তে যিনা প্রমানিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো চারজন বালেগ, ন্যায়পরায়ণ, মুসলিম ব্যক্তির স্বচোঁক্ষে যিনার ঘটনা দেখা ও আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করা৷ আর ভিডিও চিত্র বা সি সি ক্যামেরার ফুটেজের মধ্যে উক্ত শর্ত পাওয়া যায় না৷ কেননা এর দ্বারা সরাসরি ঘটনা প্রত্যক্ষ করা হয়না৷ বরং ঘটনার একটি চিত্র দেখা যায় মাত্র৷ যাতে প্রতারনা, জালিয়াতি ও মিথ্যার বহু সুযোগ রয়েছে৷ তাই ভিডিও চিত্র বা সি সি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে যিনা সাব্যস্ত হবেনা এবং শরয়ী শাস্তিও প্রয়োগ করা যাবেনা৷ তাছাড়া বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত না থাকার কারনে শরয়ী কোন শাস্তিই প্রয়োগ করা যাবেনা৷ তবে সামাজিক ও রাষ্টিয় শাস্তির বিষয়টি ভিন্ন৷
    والله اعلم بالصواب

    ☞ প্রমাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
    আল কুরআন সূরা নিসা ১৫-নং আয়াত৷
    আল কুরআন সূরা নুর ৪-নং আয়াত৷
    তাফসীরে জালালাইন ৪/৪৮৫ পৃষ্ঠা৷
    তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআন ৪/৩১৮ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে শামী ৫/৪৩৫ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৫/৫১৬ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ২/৫৮৫ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে মাদানিয়া ৫/৩১১ পৃষ্ঠা৷
    বাদায়েউস সানায়ে ৫/৪০১ পৃষ্ঠা৷
    শরহুল মাজাল্লাহ ৫/১৯৯ পৃষ্ঠা৷
    আল আশবাহ ওয়ান নাজায়ের ১৯৩ পৃষ্ঠা৷
    আল জাওহারাতুন নাইয়্যিরাহ ৪/৮৯ পৃষ্ঠা৷
    জাদীদ ফিকহী মাসায়িল ১/৪৪৭ পৃষ্ঠা৷
    #উত্তর_লিখনেঃ

    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ
    ১৫/৯/২০২২ ঈসায়ী৷

  • ৪৫৭. যেসব স্থানে মিথ্যা বলা জায়েয

    👉 প্রশ্নঃ?
    মাননীয় মুফতী সাহেব
    আমরা জানি যে মিথ্যা বলা মহাপাপ৷ কিন্তু জনৈক আলেম বলেছেনঃ তিন স্থানে মিথ্যা বলা পাপ নয় বরং উত্তম৷ তার কথা সঠিক কিনা? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো!

    📖 উত্তরঃ
    بسم الله الرحمن الرحيم

    হা, উক্ত আলেমের কথা সঠিক৷ যেমন হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
    عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ يَحِلُّ الْكَذِبُ إِلاَّ فِي ثَلاَثٍ يُحَدِّثُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ لِيُرْضِيَهَا وَالْكَذِبُ فِي الْحَرْبِ وَالْكَذِبُ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ ‏”‏
    আসমা বিনতু ইয়াযীদ রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যা বলা বৈধ নয়।
    (এক) স্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা৷
    (দুই) যুদ্ধের সময় মিথ্যা বলা৷
    (তিন) লোকদের পরস্পরের মাঝে সংশোধন করার জন্য মিথ্যা বলা।
    সনদ সহীহ৷ (সুনানে তিরমিযী ১৯৩৯ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ৪৯২১ হাদীস৷)
    এক) স্ত্রীর সঙ্গে মিথ্যা বলার অর্থ হলো- তাকে গুরুত্ব দেয়া, আপন করে নেয়া, অন্তরে যতটুকু ভালোবাসা আছে তার চেয়ে বেশি প্রকাশ করা, এর মাধ্যমে স্থায়ী সম্পর্কের প্রচেষ্টা করা এবং তার চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করা।
    দুই) যুদ্ধক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অর্থ হলো- নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করা, সঙ্গীদের মনোবল বাড়াতে উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলা এবং এর মাধ্যমে শত্রুকে ধাঁধায় ফেলে দেয়া। এ কারণেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যুদ্ধ ধোঁকার নাম।’
    তিন) পরস্পরের মধ্যে সংশোধনের জন্য মিথ্যা বলার অর্থ হলো- দু ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসার জন্য মিথ্যা বলার বিষয়টি একজনের পক্ষ থেকে আরেকজনের কাছে কল্যাণ ও সৌন্দর্য হিসেবেই পৌঁছে৷ তাই মধ্যস্থতাকারী শুধু মীমাংসার জন্য প্রয়োজনে মিথ্যা বলতে পারে৷ (শারহুস সুন্নাহ ১৩/১১৯ পৃষ্ঠা৷)
    উক্ত তিন জায়গা ব্যতীত অন্য কোন জায়গায় মিথ্যা বলা জায়েয নাই বরং হারাম৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৬/৪২৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ২/৬৩১ পৃষ্ঠা৷ খুলাসাতুল ফতোয়া ৪/৩৪৬ পৃষ্ঠা৷)
    والله اعلم بالصواب

    📝 উত্তর লিখনেঃ
    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
    তারিখ- ১৮/৯/২০২২ ঈসায়ী৷

  • ৪৫৮. মানব অঙ্গ-প্রতঙ্গ ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান

    প্রশ্নঃ
    মুহতারাম মুফতী সাহেব (দাঃবাঃ)
    আপনার নিকট জানতে চাই যে, মানুষের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় করা বা দান করা জায়েয আছে কিনা? তাছাড়া রক্ত দান বা ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম কি??
    বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো!
    প্রশ্নকারীঃ
    মুন্সি কালাল হুসাইন দুলাল
    চুনারুঘাট, সিলেট৷


    📝 উত্তরঃ
    بسم الله الرحمن الرحيم

    তিনটি কারনে মানব অঙ্গ-প্রতঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় ও দান করা নিষিদ্ধ৷
    ১৷ বেচাকেনা বৈধ হওয়ার জন্য বস্তুর মালিকানা স্বত্বের অধিকারী হওয়া অপরিহার্য। অথচ ইসলামী শরিয়ত মতে মানুষ তার দেহের মালিক নয়। বরং এটি আল্লাহর পবিত্র আমানত। আল্লাহ তায়ালা শুধু মানুষকে এগুলো নিজে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন৷ কোন ধরনের পরিবর্তন বা ক্রয়-বিক্রয় করার ক্ষমতা কাউকে দেননি৷ আর মালিকানা বহির্ভূত বস্তু ক্রয়-বিক্রয় ও দান করা হারাম।

    ২৷ মানুষ ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। সৃষ্টির সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টি৷ তাই তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অত্যন্ত সম্মানিত বস্তু। আর আল্লাহর দেয়া সম্মানিত কোন বস্তুকে অসম্মান করা নিষিদ্ধ৷ কাজেই সাধারণ পণ্য সামগ্রীর মতো মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় করা হারাম।

    ৩৷ যদি মানব অঙ্গ-প্রতঙ্গ বেচাকেনা বৈধ বলে ঘোষিত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে ‘ছেলেধরার’ মতো ‘লাশ ধরা’ চক্রের আবির্ভাব ঘটবে। অর্থ-সম্পদের মতো মানব ছিনতাই শুরু হবে। সর্বোপরি অসুস্থ বিত্তবানদের অর্থের কাছে দুস্থ, অনাথ, অসহায় মানুষের জীবন জিম্মি হয়ে পড়বে। অথচ কারো জান-মাল জিম্মি করা হারাম৷ তাই ইসলাম মানব অঙ্গ-প্রতঙ্গ বেচাকেনাকে হারাম করেছে৷
    সুতরাং মানুষের কোন অঙ্গ-প্রতঙ্গ তথা হাত-পা, চক্ষু, হাড়-চর্বি, চুল ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় বা দান করা সম্পূর্ণরুপে নাজায়েয ও হারাম৷ আর এক্ষেত্রে জীবিত ও মৃত মানুষের একই বিধান৷

    তবে প্রয়োজনে রক্ত দান করা বা গ্রহণ করা জায়েয হবে৷ কেননা রক্ত দান আর অঙ্গ-প্রতঙ্গ দান এক বিষয় নয়৷ কারন মানুষের শরীরে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্ত সৃষ্টি হতে থাকে৷ একবার রক্ত দান করলে আবার অল্প সময়ের মধ্যেই উক্ত পরিমাণ রক্ত সৃষ্টি হয়ে যায়৷ তাছাড়া রক্তের সাদৃশ্য রয়েছে দুধের সাথে, দুধ যেমন অন্যকে খাওয়ানো যায় তেমনি রক্তও অন্যকে দেওয়া যায়৷ কিন্তু বিনামূল্যে যদি রক্ত না পাওয়া যায় তবে ক্রয় করা জায়েয হবে৷ আর রক্তদানের ক্ষেত্রে মুসলিম-অমুসলিমের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।

    والله اعلم بالصواب
    📖 প্রমাণ্যগ্রন্থাবলীঃ
    সূরা বানী ইসরাঈল ৭০নং আয়াত৷
    ফতোয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩৫৪ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে শামী ৫/৫৮ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ২/৬২৮ পৃষ্ঠা৷
    ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৮/৩৩৭ পৃষ্ঠা৷
    কিতাবুন নাওয়াজেল ১৬/১৯৬ পৃষ্ঠা৷
    আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ের ১৪০ পৃষ্ঠা৷
    বেহেশতী জেওর ৫/৫০২ পৃষ্ঠা৷
    ফাতহুল কাদীর ৬/৬৩ পৃষ্ঠা৷
    ইসলামী ফিকাহ ২/৩৩২ পৃষ্ঠা৷

    🌹 উত্তর লিখনেঃ
    মুফতী তাহমীদ শামী
    আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
    তারিখ-২২/০৯/২০২২ ঈসায়ী৷

Back to top button