☞ প্রশ্ন 😕
মাননীয় মুফতী সাহেব!
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, হাফেজা মেয়েকে গায়রে হাফেজ ছেলে বিবাহ করতে পারবেনা। কারণ, কুরআনের উপর কোন কিছু রাখা জায়েয নাই। আর হাফেজা মেয়ে কুরআনের মতই। প্রচলিত এ কথা সঠিক কিনা? দলীলসহ জানতে চাই!
প্রশ্নকারী :
এস এম সগীর বিন মানসুর
নরসিংদী, ঢাকা, বাংলাদেশ।
উত্তর :
بسم الله الرحمن الرحيم
হাফেজা মেয়েকে গায়রে হাফেজ ছেলে বিবাহ করতে পারবে না বলে প্রচলিত কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং গায়রে হাফেজ বা জেনারেল শিক্ষিত ছেলে যদি দ্বীনদার ও পরহেযগার হয়, তবে হাফেজা বা আলেমা মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে। এতে কোন সমস্যা নেই। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ، إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ، وَفَسَادٌ عَرِيضٌ
হযরত আবূ হুরায়রা রা : থেকে বর্ণিত : হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন তোমাদের কাছে এমন লোক বিবাহের প্রস্তাব দেয়, যার দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তবে বিবাহ দিয়ে দাও! যদি তা না কর তবে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ফিতনা-ফাসাদ দেখা দিবে। সনদ হাসান সহীহ। (সুনানে তিরমিযী ১০৮৪ নং হাদীস।)
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّمَا الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَلَيْسَ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا شَيْءٌ أَفْضَلَ مِنْ الْمَرْأَةِ الصَّالِحَةِ
হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাযি : থেকে বর্ণিত : হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ। আর দুনিয়ার মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোন সম্পদ নাই। সনদ সহীহ। (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮৫৫ হাদীস।)
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি : থেকে বর্ণিত :
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয় : ১। তার সম্পদ। ২। তার বংশমর্যাদা। ৩। তার সৌন্দর্য। ৪। তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সনদ সহীহ।
(সহীহুল বুখারী ৫০৯০ নং হাদীস।)
উল্লেখিত হাদীস সমূহে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারীত্বকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর হাফেজা ও আলেমা মেয়েরা সাধারণভাবেই দ্বীনদার। তাছাড়া নিজে হাফেজ বা আলেম না হয়েও হাফেজা বা আলেমা মেয়েকে বিবাহ করতে পারা বড়ই সৌভাগ্যের ব্যাপার।
والله اعلم بالصواب
☞ প্রামাণ্যগ্রন্থাবলী :
আল কুরআন সূরা নিসা ৩, ২৪ নং আয়াত।
আল কুরআন সূরা নুর ২৬ নং আয়াত।
সহীহুল বুখারী ৫০৯০ নং হাদীস।
সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮৫৫ নং হাদীস।
সুনানে তিরমিযী ১০৮৪ নং হাদীস।
ফতোয়ায়ে রহিমীয়া ৩/১৪২ পৃষ্ঠা।
ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ৭/২১০ পৃষ্ঠা।
ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ২/৭৭ পৃষ্ঠা।
☞ উত্তর লিখনে :
মুফতী তাহমীদ শামী
আত তাহমীদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ।
তারিখ-১৫/১১/২০২২ ঈসায়ী।