بسم الله الرحمن الرحيم.
ঈদ আরবী শব্দ। এর অর্থ হলো- খুশি, আনন্দ, উৎসব ইত্যাদি৷ আর ফিতর অর্থ উপবাস ভঙ্গ করা বা রোযা ভঙ্গ করা ইত্যাদি। সুদীর্ঘ এক মাস আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালনার্থে রোযা রাখার পর বিশ্ব-মুসলিম এ দিনটিতে রোযা ভঙ্গ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে আল্লাহ তায়ালার মেহমান হিসেবে আনন্দোৎসব করে থাকে৷ একারনেই এদিনটির নামকরণ করা হয়েছে ঈদুল ফিতর। তবে আকাশবাসীর কাছে এদিনটির নাম হলো- ইয়াউমুল জাযা তথা প্রতিদান দিবস৷ তাই ঈদ হলো প্রতিদান পাওয়ার আনন্দ৷ ঈদ হলো পাপমুক্তির আনন্দ। ঈদ হলো ক্ষমাপ্রাপ্তির আনন্দ৷ ঈদ হলো সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ঐক্য, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি গড়ে তোলার আনন্দ। ঈদ হলো সফলতা ও বিজয়ের আনন্দ। এ বিজয় নাফসের ওপর আকলের৷ এ বিজয় শয়তানের ওপর ইনসানের। এ বিজয় জাহান্নামের উপর জান্নাতের৷ সুতরাং মুসলিমদের ঈদ হবে পবিত্রতাময় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ। ইসলাম ধর্মে এরুপ দুটি আনন্দ বা উৎসবের দিন নির্ধারন করা হয়েছে৷ একটির নাম হলো- ‘ঈদুল ফিতর’ তথা রোযা ভাঙ্গা বা ফিতরা দেওয়ার আনন্দ৷ অপরটির নাম হলো- ‘ঈদুল আযহা’ তথা কুরবানী করার আনন্দ৷ আর ইসলামী শরীয়ত উভয় ঈদের দিনে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত হয়ে মহাসমারোহে দু’রাকাত নামায আদায় করার মাধ্যমে মহান রবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাকে
ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত করেছে৷৷ (সুনানে নাসায়ী ১৫৬৬ হাদীস৷ নাসরুল বারী শরহে বুখারী ৪/১৪০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ১/৬১১ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪৭ পৃষ্ঠা৷ তাফহীমুল কুদুরী ৯১ পৃষ্ঠা৷)
#ঈদের_সূচনাঃ
দ্বিতীয় হিজরীতে ঈদ উৎসবের বিধান দেয়া হয়েছে৷ যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا فَقَالَ ” مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ ” . قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ ” .
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ তিনি বলেনঃ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদীনায় এসে দেখলেন মাদীনাবাসী নির্দিষ্ট দু’দিনে খেলাধুলা ও আনন্দোৎসব পালন করে৷ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ এদু’টি দিন কিসের উৎসব? তারা বললোঃ আমরা জাহিলী যুগে এ দু’দিন ঈদ হিসেবে পালন করতাম। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ দু’দিনের পরিবর্তে তোমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা আরও উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন। তা হলো- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন। সনদ সহীহ৷ (সুনানে আবু দাউদ ১১৩৪ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৫৬ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ১৩৬২২ হাদীস৷ মুস্তাদরাকে হাকীম ১০৯১ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ১৪৩৯ হাদীস৷)
হাদীস শরীফে আরও বর্ণিত হয়েছে-
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا وَهَذَا عِيدُنَا ”
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ-উৎসবের দিন রয়েছে আর ঈদ হলো আমাদের আনন্দ উৎসবের দিন। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ৯৫২ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৪৬ হাদীস৷ সহীহ ইবনে হিব্বান ৫৮৭৬ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৯৩ হাদীস৷)
১৷ মাসআলাঃ
#ঈদুল_ফিতরের_সুন্নাত_সমূহঃ
১৷ সুবহে সাদিকের পুর্বে ঘুম থেকে উঠা৷ (সুনানে বায়হাকী ৬১২৬ হাদীস৷)
২৷ উত্তমরুপে মিসওয়াক করা৷ (তাহতাবী ২৮৯ পৃষ্ঠা৷)
৩৷ উত্তমরুপে গোসল করা৷ (মুয়াত্তা মালিক ৪১৪ হাদীস৷)
৪৷ উত্তম পোষাক পরিধান করা৷ (সুনানে বায়হাকী ১৯০১ হাদীস৷)
৫৷ শরীয়ত সম্মত সাজ-সজ্জা করা৷ (সুনানে নাসায়ী ১৫৭২ হাদীস৷)
৬৷ আতর-খুশবু ব্যাবহার করা৷ (মুস্তাদরাকে হাকীম ৭৫৬০ হাদীস৷)
৭৷ ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বে মিষ্টিদ্রব্য খাওয়া৷ (মিশকাতুল মাসাবীহ ১৪৩৩ হাদীস৷)
৮৷ ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করা৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷)
৯৷ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ঈদগাহে গমন করা৷ (সুনানে আবু দাউদ ১১৩৫ হাদীস৷)
১০৷ পায়ে হেটে ঈদগাহে গমন করা৷ (সুনানে তিরমিযী ৫৩০ হাদীস৷)
১১৷ ঈদগাহে এক রাস্তায় যাওয়া অন্য রাস্তায় পত্যাবর্তন করা৷ (বুখারী ৯৮৬ হাদীস৷)
১২৷ ঈদগাহে যাওয়া আসার সময় নিম্নস্বরে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা৷ (মুস্তাদরাকে হাকিম ১১০৫ হাদীস৷)
১৩৷ ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করা৷ (সহীহুল বুখারী ৯৫৬ হাদীস৷)
২৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামাযের_সূচনাঃ
দ্বিতীয় হিজরীতে রমযানের রোযা ফরয হওয়ার পর ঈদের নামাযের বিধান দেয়া হয়েছে৷ তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দুই রাকাত নামায ওয়াজিব হিসেবে নির্ধারন করা হয়েছে৷ (সহীহুল বুখারী ৯৬৪ হাদীস৷ নাসরুল বারী ৪/১৪০ পৃষ্ঠা৷ আনওয়ারুল মিশকাত ৩/৫৮৫ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৬১৬ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/১৯৫ পৃষ্ঠা৷)
৩৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামায_যাদের_উপর_ওয়াজিবঃ
১। মুসলিম ব্যক্তির উপর৷ কেননা অমুসলিমের ইবাদাত গ্রহণযোগ্য নয়৷
২৷ স্বাধীন ব্যক্তির উপর। কেননা গোলামের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়৷
৩। পুরুষ ব্যক্তির উপর। কেননা মহিলার উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়৷
৪। প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির উপর। কেননা নাবালেগের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়৷
৫। জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তির উপর। কেননা পাগলের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়৷
৬। মুকীম ব্যক্তির উপর। কেননা মুসাফিরের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়৷
৭৷ সুস্থ ব্যক্তির উপর। কেননা যিনি অসুস্থ ঈদগাহে যেতে অক্ষম এমন ব্যক্তির উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়৷ (আল হিদায়া ১৫৭ পৃষ্ঠা৷ আল ফিকহুল মুয়াসসার ১৭৪ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী গাওহার ১১/১১৬ পৃষ্ঠা৷ শরহে তানবীর ১/৫৯০ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৪৭৮ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/১৯১ পৃষ্ঠা৷ আনওয়ারুল মিশকাত ২/৫৮৯ পৃষ্ঠা৷)
৪৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামায_আদায়ের_নিয়মঃ
প্রথমে কিবলামুখী হয়ে দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা আল্লাহু আকবার বলে কান পর্যন্ত দুইহাত উঠায়ে নাভীর নিচে বাঁধবে। তারপর ইমাম মুক্তাদী উভয়ে ছানা পড়বে। এরপর ইমাম তিনবার তাকবীর বলবে ইমামের সঙ্গে মুক্তাদীরাও বলবে এবং প্রত্যেক তাকবীর বলার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠায়ে ছেড়ে দিবে ও তৃতীয়বার তাকবীর বলে হাত বেঁধে নিবে। প্রত্যেক তাকবীরের পর তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা যায় পরিমাণ সময় দেরি করবে৷ তারপর ইমাম আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়ে সূরায়ে ফাতেহা পাঠ করে একটা সূরা মিলাবে। এরপর রুকু- সাজদাহ করবে৷ অতপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতেহা পাঠ করে একটা সূরা মিলাবে। তারপর ইমাম আল্লাহু আকবার বলার মাধ্যমে তিনটা তাকবীর সম্পন্ন করবে। এখানেও প্রতি তাকবীরের পর ইমাম মুক্তাদী হাত ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলে হাত না বেঁধে রুকুতে চলে যাবে। এরপর সাজদা এবং আখেরী বৈঠক করে যথারীতি সালাম ফিরায়ে নামায সমাপ্ত করবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৩/২৯৩-২৯৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুসিয়া ১/৩১৮ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৬২৩ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ২/২০৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪৭ পৃষ্ঠা৷)
৫৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামাযের_সুন্নত_কিরাতঃ
উভয় ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ক্বফ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কমার অথবা প্রথম রাকাতে সূরা আলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা গশিয়া পাঠ করা সুন্নত৷ (সুনানে নাসায়ী ১৫৬৭- ১৫৬৮ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৪৪ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১১৫৪ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৪২০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ২৩৮ হাদীস৷ যাদুল মাআদ ১/৩৮ পৃষ্ঠা৷)
৬৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামাযে_সিজদায়ে_সাহুর_বিধানঃ
ঈদের জামাত যদি এ পরিমান বড় হয় যে, ইমাম সিজদায়ে সাহু করলে মুক্তাদীরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে সিজদায়ে সাহু না করলেও নামায সহীহ হবে৷ আর যদি জামাত ছোট হয়, যেখানে ইমাম সিজদায়ে সাহু করলে মুসল্লিরা বুজতে পারে যে, ইমাম সিজদায়ে সাহু করেছে বা মুক্তাদিদের বিভ্রান্তিতে পড়ারও কোন আশংকা নেই, তাহলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে৷ (ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/১৬৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমিয়া ১/২৪৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/৯২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া ১/৪৫৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১২/৫১৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাদানিয়া ১/২৩০ পৃষ্ঠা৷ আপকে মাসায়িল ৪/১৫৭ পৃষ্ঠা৷)
৭৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামাযে_আযান_ইকামাতের_বিধানঃ
উভয় ঈদের নামায ও ঈদের খুতবায় আযান ইকামাত দেয়া মাকরুহে তাহরীমী৷ কেননা হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামায আযান ইকামত ব্যতীতই আদায় করেছেন৷ তাই ঈদের নামায আযান ইকামাত ব্যতীত আদায় করা ওয়াজিব৷ আর আযান ইকামাতের প্রচলন করা জঘন্যতম অন্যায় ও বিদআত৷ (সহীহুল বুখারী ৯৬০ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৩৪- ১৯৩৫ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১১৪৮ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৬২ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৪১৩ হাদীস৷)
৮৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামায_মাসজিদে_আদায়_করার_বিধানঃ
ঈদের নামায ঈদগাহে আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ৷ কেননা হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করতেন৷ তবে একবার বৃষ্টির কারনে মাসজিদে পড়েছিলেন৷ যেমন হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ .
আবূ হুরাইরাহ রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ একদা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহাবীদেরকে নিয়ে ঈদের সালাত মাসজিদে আদায় করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ ১১৬০ হাদীস৷)
তাই ওযরের কারনে ঈদের নামায মাসজিদে পড়া জায়েয আছে৷ যেমন কোন এলাকায় যদি মাঠ না থাকে অথবা মাঠ আছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে কিংবা মাঠে কাঁদা বা পানি রয়েছে ইত্যাদি৷ (সহীহুল বুখারী ১/১৩১ পৃষ্ঠা৷ সুনানে আবু দাউদ ১/১৬৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৪৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতার খানিয়া ১/৫৫৯ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৬১৯ পৃষ্ঠা৷ আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা ২৭/২৪৫ পৃষ্ঠা৷)
৯৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_খুতবার_বিধানঃ
ঈদের খুতবাহ ঈদের নামাযের পর পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ৷ সুতরাং ঈদের নামাযের পুর্বে খুতবাহ পাঠ করা মাকরুহে তাহরীমী ও জঘন্যতম বিদআত৷ (সহীহুল বুখারী ৯৫৭, ৯৬৩ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৩৭ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৬৪ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৬ পৃষ্ঠা৷)
১০৷ মাসআলাঃ
ঈদের নামাযের পর দাড়িয়ে মুসল্লিদের দিকে ফিরে দুটি খুতবা পাঠ করা সুন্নত এবং প্রথম খুতবায় নয়বার ও দ্বিতীয় খুতবায় সাতবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা সুন্নত৷ আর উভয় খুতবার মাঝখানে তিন তাসবীহ পরিমান সময় নিরব বসে থাকাও সুন্নত৷ আর উপস্থিত শ্রুতাদের জন্য মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবন করা ওয়াজিব৷ মুসল্লি অধিক হওয়ার কারনে খুতবার আওয়াজ না শুনলেও খুতবার সময় চুপ থাকা ওয়াজিব এবং কোন প্রকার কথাবার্তা বলা মাকরুহে তাহরীমী৷ (সুনানে নাসায়ী ১৫৭৭-১৫৮৩ হাদীস৷ সহীহুল বুখারী ৯৭৬ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৬ পৃষ্ঠা৷)
১১৷ মাসআলাঃ
ঈদের খুতবাহ আরবীতে পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ৷ আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় পাঠ করা মাকরুহে তাহরীমী ও জঘন্যতম বিদআত৷ কেননা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যমানা থেকে বর্তমান যমানা পর্যন্ত আরবীতেই ঈদের খুতবাহ পাঠের রীতি চলে এসেছে৷ সুতরাং আরবীতে খুতবাহ পাঠের ব্যপারে সমস্ত উম্মতে মুসলিমার ইজমা সংঘটিত হয়েছে৷ (সহীহুল বুখারী ৯৫৬ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২০৯০ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/১৩৭,১৪৭ পৃষ্ঠা৷ ইমদাদুল ফতোয়া ১/৬৪৭,৬৫৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১২/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৯ পৃষ্ঠা৷)
১২৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_দিন_নফল_নামাযের_বিধানঃ
উভয় ঈদের দিন ঈদের নামাযের পুর্বে বাড়ীতে বা ঈদগাহে নারী পুরুষ সকলের জন্য কোন প্রকার নফল নামায পড়া মাকরুহে তাহরীমী৷ আর ঈদের নামাযের পরে ঈদগাহে কোন প্রকার নফল পড়া মাকরুহে তাহরীমী৷ যেমন ইশরাক, চাশত, অন্যান্ন নফল ইত্যাদি৷ তবে ঈদের নামাযের পর বাড়ীতে নফল পড়া জায়েয হবে৷ কিন্তু না পড়াই উত্তম৷ কেননা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাযের পুর্বে বা পরে কোন প্রকার নফল নামায আদায় করেন নি৷ এমনকি কোন সাহাবীও আদায় করেন নি৷ তাই ঈদের দিন নফল নামায না পড়াই সুন্নতে নববী৷ (সহীহুল বুখারী ৯৬৪- ৯৮৯ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৪২ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৮৭ হাদীস৷ সুনানে দারামী ১৬১০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ২৩৬ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৪২২ হাদীস৷ আল-হিদায়া ১/১৬২ পৃষ্ঠা৷)
১৩৷ মাসআলাঃ
#ঈদের_নামাযের_কাযার_বিধানঃ
ঈদের নামাযের কোন কাযা নেই৷ তবে ঈদুল ফিতরের দিন যদি কোন কারনবশত ঈদের নামায আদায় করতে না পারে৷ যেমন আকাশ মেঘলার কারনে চাঁদ দেখা না যাওয়া বা অর্ধদুপুরের পর চাঁদ দেখার সংবাদ আসা ইত্যাদি৷ তবে পরদিন ঈদের নামায আদায় করে নিবে৷ কিন্তু দ্বিতীয় দিন অর্ধদুপুর অতিবাহীত হয়ে যাওয়ার পর আর ঈদের নামায আদায় করা জায়েয নয়৷ কেননা ঈদুল ফিতরের নামায ঈদের দিন আদায় করাই ওয়াজিব৷ আর একদিন বিলম্ভ ছিল মূলত উজরের কারনে৷ যা শরীয়ত অনুমোদিত৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৬৫৩ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৫৭ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২০০৫৬, ২০০৬১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৮ পৃষ্ঠা৷ আল-হিদায়া ১/১৬৩ তাফহীমুল কুদুরী ৯১ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب.
#সৌজন্যেঃ
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ- ১/৫/২০২২ ঈসায়ী৷
২৯ রমযান ১৪৪৩ হিজরী৷